তওবাতুন নাসুহা, সঠিক পথে আসুন – আব্দুর রহমান আল হাসান

তওবাতুন নাসুহা, সঠিক পথে আসুন। – মানুষ হিসেবে আমরা কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমরা সকলেই পাপ করে থাকি। ভুল করে থাকি। আমরা সর্বদা শয়তানের প্ররোচনায়  প্ররচিত হই। আমাদেরকে শয়তান পথভ্রষ্ট করে ফেলে। আমরা কখনো কখনো গুনাহ করতে করতে এতটাই নৈরাশ হয়ে যাই যে, আমরা মনে করি আল্লাহ হয়তো আমাকে আর ক্ষমা করবেন না। আমরা তখন তওবা করতে ভয় পাই। আল্লাহর কাছে চাইতে ভয় পাই। আল্লাহকে বলতে ভয় পাই। আমরা মনে করি, এত পাপ করার পর যদি আল্লাহর নিকট আমরা প্রার্থনা করি তাহলে হয়তো তিনি আমাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না।

তওবা করবো কিভাবে

এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল কথা। আল্লাহ তা’আলা হলেন, রহমান, রহীম। অর্থাৎ দয়ালু, দয়াময়। তার থেকে বড় দয়াবান এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। তার নিকট যেই বান্দাই প্রার্থনা করবে, তার দোয়া কবুল করবেন।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনে সূরা বাকারার ১৬০ নং আয়াতে বলেন,

“যারা তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে এবং আল্লাহর আয়াতকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তাদের তওবাই আমি কবুল করে থাকি। আর আমি তওবা গ্রহনকারী, পরম দয়ালু।”

উল্লেখ্য আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, তোমরা প্রথমত নিজেদের সংশোধন করো। গুনাহের কাজ থেকে আগে বিরত হও। আপনি একদিনে তওবাও করলেন আবার অন্য দিকে গুনাহও করলেন তাহলে তো হবে না। আপনাকে প্রথমে মনের মধ্যে এই দৃঢ় বিশ্বাস আনতে হবে যে, আমি এই ভুলটি আর কখনো করবো না। তারপর আপনি আল্লাহর নিকট তওবা করুন।

রিযিক আল্লাহ তা’আলা কিভাবে দিয়ে থাকেন, জানতে পড়ুন

আর মনের মধ্যে সর্বদা ইসলামী সঠিক আকীদাগুলো লালন করবেন। ইসলামী আকীদাগুলো হলো, আল্লাহ এক। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর পাঠানো কুরআন সত্য। নবীজির কথা সত্য। আল্লাহর পক্ষ হতে নবীজি যেই আদেশ-নিষেধ দিয়ে গিয়েছেন তা আমাদের মানতে হবে। তার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

এরপর আপনি তওবা করতে বসুন। তওবা করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন নেই। আপনি পাক-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর নিকট হাত তুলে প্রার্থনা করুন। আল্লাহকে বলুন, হে আল্লাহ! আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পাপী। আমাকে তুমি ক্ষমা করো। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন।

আমাদের সর্বদা মারাত্বক কিছু পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ। প্রথমত, সূদ বা রিবা থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ। দ্বিতীয়ত, ঘুষ থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ। তৃতীয়ত, হারাম যে কোনো কর্ম থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ।

আল্লাহ কুরআনে সূরা বাকারার ২৭৯ নং আয়াতে বলেন,

“যদি তোমরা (সূদ) বর্জন না করো তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসূলের যুদ্ধ অনিবার্য। কিন্তু যদি তোমরা তওবা করো তাহলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা কারো উপর অত্যাচার করবে না এবং নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না।”

কত মারাত্বক একটা কথা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন। আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. তাফসীরে ইবনে কাসীরে একটা হাদীস এনেছেন।

অর্থ বুঝে নামাজ পড়া কেন জরুরি, জানতে পড়ুন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,

যদি ইসলামী দেশে কোনো ব্যক্তি সূদ ছাড়তে রাজী না হয় তাহলে দেশের শাসনকর্তার উপর কর্তব্য হলো তাকে তওবা করানো। যদি সে তওবা করতে রাজী না হয় তাহলে তাকে শিরচ্ছেদ করা।

সুতরাং আমাদের সর্বদা সুদ-ঘুষ এবং অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তাহলে আমরা সফলকাম হবো। আমাদেরকে সর্বদা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তাহরেই আমরা সফল মুমিন হতে পারবো।

আল্লাহ আামাদের তাওফীক দান করুন।

আমীন।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুকপেইজলাইককরেসাথেথাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

 

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।

এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.