দান সদকা কেন করা উচিৎ – আব্দুর রহমান আল হাসান

দান সদকা কেন করা উচিৎ –  একটা গল্প দিয়েই শুরু করি। আজ থেকে প্রায় ৭/৮ বছর আগে একটা বইয়ে অসাধারণ একটা গল্প পড়েছিলাম। নিউইয়র্কে একবার এক আরব ধনাট্য মহিলা গেলেন। তিনি সেখানে চিকিৎসা করাবেন। বেশ কিছুদিন আগেই তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। মারাত্বক রোগ। যে একবার এই রোগে আক্রান্ত হয়, তার মৃত্যু নিশ্চিত। তিনি তারপরও আশার আলো দেখার জন্য নিউইয়র্কে গেলেন। ভর্তি হলেন প্রসিদ্ধ একটি হাসপাতালে। তিনি আরব মুসলিম ছিলেন।

দান সদকা

তাই সময়মতো নামাজ পড়তেন। তার সেবার জন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষ একজন নার্স দিল। নার্সটি সর্বদাই হাসি-খুশী থাকতো। উক্ত মহিলার সাথে তার আলাদা একটা ভাব জমে গেল। কিছুদিন পর উক্ত মহিলা খেয়াল করলেন, নার্স মহিলাটি মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময় ওয়াশরুমে কাঁটায়। তাই একদিন তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। প্রথমে উক্ত নার্স বলতে চায় নি।

কেন আজকেই আপনি তওবা করবেন, পড়ুন

মহিলাটি চাপাচাপি করার পর নার্স বললো,

আমার বাড়ি লেবাননে। সেখানেই থাকতাম। যখন সেখানে যুদ্ধ শুরু হলো তখন আমরা আমাদের কাজ-কর্ম হারালাম। জীবিকার তাগিদে বিদেশ পাড়ি জমাই। নিউইয়র্ক এসে এই হাসপাতালে নার্সের চাকুরি পাই। কিন্তু দেশ ছাড়ার আগে আমার এক সন্তানের জন্ম হয়। মাত্র তিন মাস হলো তার বয়স। যেহেতু কিছুদিন আগে বাচ্চা প্রসব করেছি আমি তাই বুকে দুধ এসে থাকে। আর অনেক দুধ জমা হওয়ার কারণে স্তন ব্যাথা করে। তাই আমার দুধ বের করতে হয়।

উক্ত আরব মহিলা এই ঘটনা শুনে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে বলে উক্ত নার্সের ৩ বছরের ছুটির ব্যবস্থা করলেন। আর এই তিন বছরের বেতন অগ্রিমভাবে আরব মহিলা নিজ থেকে নার্সকে দিয়ে দিলেন এবং উক্ত নার্সের লেবানন ফিরে যাওয়ার ভাড়াও দিয়ে নার্সকে নিজের দেশে পাঠিয়ে দিলেন। এই ঘটনার পরদিন ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে অবাক হয়ে গেল। আরব মহিলার  শরীরে ক্যান্সারের কোনো আলামতই নেই।

ডাক্তাররা উক্ত মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলো,

আপনি কি ঔষধ সেবন করেছেন যে, আপনার ক্যান্সার ভালো হয়ে গেছে?

মহিলাটি তখন হেসে বললো, এটা হলো আমাদের ধর্মের পাওয়ার। আমাদের ধর্ম বলেছে, তোমরা সদকা করো। এর দ্বারা তোমাদের দুনিয়ার বিপদ-আপদ কেঁটে যাবে।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে সূরা বাকারার ২ নং আয়াতে বলেন, “যারা গায়েবের প্রতি ঈমান রাখে এবং নামায আদায় করে এবং তাদেরকে যা দান করেছি তার থেকে ব্যয় করে।”

সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কিভাবে রিযিক দিবেন. পড়ুন

গায়েবী, অদৃশ্য তথা অদেখা বিষয়সমূহ হল এমন সব জিনিস যার উপলব্ধি জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় দ্বারা সম্ভব নয়। যেমন মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর অহী (প্রত্যাদেশ), জান্নাত ও জাহান্নাম, ফিরিশতা, কবরের আযাব এবং মৃত দেহের পুনরুত্থান ইত্যাদি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এমন কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করাও ঈমানের অংশ যা জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না। আর তা অস্বীকার করা কুফরী ও ভ্রষ্টতা। যথাযথভাবে নামায পড়া বা নামায কায়েম করার অর্থ হল, নিয়মিতভাবে রসূল (সাঃ)-এর তরীকা অনুযায়ী নামায আদায়ের প্রতি যত্ন নেওয়া। নচেৎ নামায তো মুনাফিকরাও পড়তো।

ব্যয় করা’ কথাটি ব্যাপক; যাতে ফরয ও নফল উভয় প্রকার (ব্যয়, খরচ, দান বা সদকা)ই শামিল। ঈমানদাররা তাদের সামর্থ্যানুযায়ী উভয় প্রকার সদকার ব্যাপারে কোন প্রকার কৃপণতা করে না। এমনকি পিতা-মাতা এবং পরিবার ও সন্তান-সন্ততির উপর ব্যয় করাও এই ‘ব্যয় করা’র মধ্যে শামিল এবং তাও নেকী লাভের মাধ্যম। ( তাফসীরে আহসানুল কুরআন )

সম্পদ কাদেরকে দান করবেন?

আপনি মানুষকে আপনার সম্পদ থেকে দান করবেন। এটা আপনার কর্তব্য। আপনার সম্পদে শুধু আপনারই হক রয়েছে। কথাটা সঠিক নয়। আপনার সম্পদে আপনার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, গবীর-দুঃখীদেরও হক রয়েছে। আল্লাহ আপনাকে সম্পদ আপনাকে খরচ করার জন্যই দেয় নি। আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় অনেক অসহায় ব্যক্তিদের দেখতে পাবেন। তখন তাদেরকে ২০/৩০ টাকা দান করুন। আল্লাহ তা’আলা আপনার অভাবের সময় এই ২০/৩০ টাককে বৃদ্ধি করে ২০০/৩০০ টাকা কিংবা আরো বড় সংখ্যায় পরিণত করে আপনাকেই ফিরিয়ে দিবেন।

এই মূহুর্তে আমার আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। একবার এক যুবক চাকুরী না পেয়ে ব্যবসা শুরু করলো। কিন্তু কোনো লাভ নেই। বিক্রি শেষে পণ্যের ক্রয়কৃত দামটাও উঠে না। সে কি করবে ভেবে পেল না। তার এক বন্ধুকে জানালো ব্যাপারটা। বন্ধু তাকে পরামর্শ দিলো, সদকা করতে। শুনে সে বললো, আমার পুঁজি উঠাতেই হিমশিম খাই। আর সদকা করলে তো আমাকে পথে বসতে হবে। বন্ধু তাকে বললো,

সদকার দ্বারা সম্পদ কমে না। বরং বাড়ে। এটা আল্লাহর ওয়াদা। চাইলে মানতে পারিস, তোরই লাভ হবে।

কেন অর্থ বুঝে নামাজ পড়া উচিৎ: পড়ুন

যুবকটি ভাবলো, যেহেতু এমনিতেই লস খাচ্ছি আরেকটু লস খাইলে অসুবিধা কি! সদকা দিয়েই দেখি, কি হয়। যুবকটি পরদিন থেকে সদকা দেয়া শুরু করলো। প্রথম প্রথম ১০ টাকা ২০ টাকা করে দিতো। সময় সময় সে দান করার পরিমাণ বাড়াতে লাগলো। একটা সময় সে খেয়াল করলো, তার এখন আগের থেকেও অনেক বেশি মুনাফা লাভ হচ্ছে। তার ব্যবসায় বরকত দেখা যাচ্ছে। একটা সময় সে তার এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলো।

এটা হলো, সদকার বরকত। দান-সদকা দ্বারা কখনো সম্পদ কমে না বরং বাড়ে। আল্লাহ সূরা বাকারার ২৪৫ নং আয়াতে বলেন,

“তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে। তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহ তা’আলাই সংকুচিত এবং সম্প্রসারিত করেন এবং তার দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।”

কর্জ বা ঋণ দান করলে তার বৃদ্ধি করার কথা এক হাদীসে এসেছে যে, যে ব্যক্তি তার উত্তম সম্পদ থেকে খেজুর সমপরিমাণ সদকা করবে, আল্লাহ উত্তম সম্পদ ছাড়া কবুল করেন না, আল্লাহ সে সম্পদ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর সদকাকারীর জন্য তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন, যেমনি তোমাদের কেউ তার ঘোড়া শাবককে লালন-পালন করে পাহাড়সম বড় হওয়া পর্যন্ত। [বুখারীঃ ১৪১০]

আল্লাহকে ঋণ দেয়ার এ অর্থও বলা হয়েছে যে, তার বান্দাদেরকে ঋণ দেয়া এবং তাদের অভাব পূরণ করা। তাই হাদীসে অভাবীদেরকে ঋণ দেয়ারও অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ কোন একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দু’বার ঋণ দিলে এ ঋণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য’। [ইবনে মাজাহঃ ২৪৩০]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

“তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে। তবে, যদি অতিরিক্ত দেয়ার শর্ত করা হয়, তাহলে তা সুদ এবং হারাম বলে গণ্য হবে। [বুখারীঃ ২৬০৬] (তাফসীরে জাকারিয়া)

অতএব, আমাদের সর্বদা অন্যকে দান করার মন-মানসিকতা রাখতে হবে। রাস্তায় কোনো গরীব ব্যক্তি দেখলে তাকে কিছুটা হলেও দান করুন। হয়তো আপনার এই ছোট সংখ্যাটি আপনার সংকটময় মূহুর্তে আপনার নিকট বড় অংক হয়ে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমাদের দান-সদকা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪২৮ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

 

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।

এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.