বিজ্ঞান কি? – আব্দুর রহমান আল হাসান

বিজ্ঞান কি

সভ্যতার শুরু থেকেই বিজ্ঞানচর্চা শুরু হয়েছিল নবীদের হাত ধরে। এরপর তাদের সাহাবারা সেসব জ্ঞানকে আরো অগ্রসর করে জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে গেল আরো একধাপ উপরে। পৃথিবীতে মানব সৃষ্টির ধারা দশ হাজার বছরের কিছুটা বেশি। মানুষের গড় আয়ূ বর্তমানে ৭০ বছর থেকে কিছুটা বেশি। তারপরও একটা সময় মানুষ বেঁচে থাকতো প্রায় হাজার বছর। কি, আপনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে বুঝি। তাহলে কুরআনের ২৯ নং সূরা আনকাবূতের ১৪ নং আয়াত খুলে দেখুন।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوْحاً إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيْهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلاَّ خَمْسِيْنَ عَاماً

‘আমি নূহকে তাঁর জাতির মাঝে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাদের মাঝে ৫০ কম ১০০০ বছর অবস্থান করেছিলেন’

বিজ্ঞান কি

হযরত নূহ আ. ছিলেন কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী দ্বিতীয় নবী। হযরত আদম আ. এর কয়েকশত বছর পর প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে। বুঝিয়েছেন আল্লাহর অপার নেয়ামতের কথা। কিন্তু তারা শ্রবণ করেও মানলো না।

তারাবীর নামাজ কি

৯৫০ বছর দাওয়াত দেয়ার পর যখন তিনি বুঝতে পারলেন, তারা ঈমান আনবে না। তারা সৃষ্টিকর্তার মনোনিত বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করবে না তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। কুরআনের ৭১ নং সূরা নূহের ২৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

وَقَالَ نُوْحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِيْنَ دَيَّاراً، إِنَّكَ إِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوْا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوْا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا-

‘নূহ বললেন, হে আমার প্রভু, ধরিত্রীর বুকে আপনি কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। আপনি যদি ওদের রেহাই দেন তাহ’লে ওরা আপনার বান্দাদেরকে পথহারা করবে, আর নিজেরা পাপাচারী কাফের ব্যতীত আর কিছু জন্ম দিবে না’

এরপর পৃথিবীবাসী এমন এক মহাবৈজ্ঞানিক কর্মযজ্ঞের সম্মুখিন হলো, যা তাদেরকে করে দিল কিংকর্তব্যবিমুঢ়। এক মহাপ্লাবন পৃথিবীকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। থৈ থৈ করতে লাগলো চারিদিকে। সেদিন কোনো ভূমি কিংবা মালভূমি, পাহাড়-পর্বত, টিলা পানির উপরে থাকে নি। মাউন্ট এভারেষ্টের মতো বৃহৎ পাহাড়ও সেদিন অবস্থান করছিল পানির নিচে। কুরআনের এই বিজ্ঞানের উত্তর কি আমার বর্তমান বিজ্ঞানমনষ্ক ভাইয়েরা দিতে পারবেন?

ধর্মকে মানার আগে ধর্ম জানুন

বর্তমানে আধুনিক নামধারী বিজ্ঞানের অন্যতম একটা থিউরি হলো, বিবর্তনবাদ। অথচ এই পুরো থিউরিটা হলো কুরআন-হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক। মানব সভ্যতার সূচনা শুরু হয়, হযরত আদম আ. এর মাধ্যমে। তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত পয়গম্বর। তিনি ছিলেন তাওহীদের ধারক-বাহক। তাকে আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহ তা’আলা দ্বিতীয় সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতে বলেন,

وَ اِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ جَاعِلٌ فِی الۡاَرۡضِ خَلِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡۤا اَتَجۡعَلُ فِیۡهَا مَنۡ یُّفۡسِدُ فِیۡهَا وَ یَسۡفِکُ الدِّمَآءَ ۚ وَ نَحۡنُ نُسَبِّحُ بِحَمۡدِکَ وَ نُقَدِّسُ لَکَ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

“স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যমীনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না।”

আদম আ. দুনিয়াতে আসার পর তিনি কোনো জঙ্গলি মানুষের ন্যায় জীবন-যাপন করতেন না। তিনি জান্নাত থেকে কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। এরপর আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিলেন, কিভাবে কাপড় তৈরি করতে হয়।

সভ্যতার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার হলো, কাপড়। কাপড় না থাকলে আজ আমরা উলঙ্গ থাকতাম। তখন আমাদের কেমন লাগতো?

হতাশ হয়ো না

আল্লাহ তা’আলা যতজন নবী পাঠিয়েছেন, তাদের সবাই ছিলেন বিজ্ঞানী। তাদের সবাই দুনিয়াতে নতুন নতুন কর্ম আবিষ্কার করে গিয়েছেন। সুতরাং বিজ্ঞানকে যদি আমরা ধর্মের বাহিরে ধরি তাহলে আমাদের অধঃপতন হতে বেশি সময় লাগবে না। তাই সাবধান! ধর্মকে ভালোভাবে জানুন। নিজেকে চিনুন। নিজের পরিচয় ভালোভাবে ইয়াদ করুন। তারপর অগ্রসর হোন। সফলতা আপনাকে পদচুম্বন করবে।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কিত ইংলিশে সকল সঠিক তথ্য জানতে আমাদের SS IT BARI- ভালোবাসার টেক ব্লকের আরেকটি সংস্করণ, US IT BARI- All About Healthy Foods ওয়েব সাইট টি ভিজিট করতে পারেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন –www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.