ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য কি যোগ্যতা প্রয়োজন হয় এবং ক্রেডিট কার্ড খরচ কত?

ক্রেডিট কার্ড কথাটি ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত বলে যাদের ব্যাংঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিংবা ব্যাংকে যাদের টাকা লেনদেন হয় তারা অবশ্যই এই সম্পর্কে কমবেশি জেনে থাকবেন।আমরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন আর্টিকেলে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি।

আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করলেই আপনারা দেখতে পাবেন ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার সম্পর্কে আলোচনা করব। বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড সবাই ইচ্ছা থাকলেও পাবে না। ক্রেডিট কার্ড পেতে গেলে কিছু পূর্ব শর্ত রয়েছে। সেগুলো কি আজকে তাই আপনাদেরকে বিস্তারিত বলবো।ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য কি যোগ্যতা প্রয়োজন হয়

ক্রেডিট কার্ড যদি আপনি নিতে ইচ্ছুক থাকেন তাহলে আজকে আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেননা ক্রেডিট কার্ড পেতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।তাই আর দেরি না করে চলুন দেখি নি আজকের আলোচনায় ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং ক্রেডিট কার্ড খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

ক্রেডিট কার্ড কি?

ক্রেডিট কার্ড বলতে এমন একটি প্লাস্টিকের কার্ড কে বোঝায় যা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে গ্রাহককে দেওয়া হয়। এই কার্ডটি গ্রাহক কেনাকাটা বা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মূলত গ্রাহক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তা খরচ করে এবং পরবর্তীতে তা ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয় যথা সময়ে। যদি কোন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী ব্যাংকের নির্ধারিত সময়ে ক্রেডিট বিল পরিশোধ করতে না পারে তাহলে তাকে সুদসহ বিল পরিশোধ করতে হয়।

ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যে পার্থক্য

তবে ক্রেডিট কার্ড যে কেউ চাইলেই পাবে না। ক্রেডিট কার্ড পেতে গেলে ব্যাংকে তার যোগ্যতা দেখিয়ে ব্যাংক যদি তাকে এলিজাবেল মনে করে তাহলেই সে ক্রেডিট কার্ড পাবে।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে হলে ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের যেকোনো ব্রাঞ্চের এটিএম বুথ থেকে। একজন ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ডে তার নাম, ১৬ সংখ্যার ক্রেডিট নম্বর, মেয়াদ শেষের তারিখ, সিসিভি ব্যবহারকারীর নাম দেওয়া থাকে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা

বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বাড়ছে। যারা অনেক বেশি কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডটি বেশি ব্যবহৃত হয়। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। যেমন:

দ্রুত লেনদেন

আপনার ক্রেডিট কার্ডটি আপনাকে দ্রুত লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে। আপনি কোন একটি ব্যয়বহুল জিনিস কিনতে চাইলে একসঙ্গে অনেক টাকা জোগাড় করতে পারছেন না তখন আপনার ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুতই আপনার পণ্যটি কিনতে পারছেন।

রিওয়ার্ড পয়েন্ট

মূল্য ফেরত আকাশপথে বিনামূল্যে ভ্রমন বা বাড়তি পুরস্কার পয়েন্ট গুলো ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম কিছু আকর্ষণীয় বিষয় যা কেবলমাত্র আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলেই পেতে পারেন।

ক্রেডিট স্কোর বৃদ্ধি

নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনি আপনার ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে পারেন। আপনি যদি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন তাহলে আপনার ক্রেডিট স্কোর দ্রুত বাড়বে।

নিরাপত্তার সুবিধা

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণা চুরি কিংবা একই খরচ একাধিকবার করার প্রবণতা থাকে না।যদি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি চুরি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে ওই কার্ড দিয়ে কোন কেনাকাটা করলে সেটা আপনার দায় নয়। ধরুন যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড চুরি হয়ে যায় এবং সেখান থেকে কেউ টাকা তুলে নেয়।

আর এটি যদি আপনি অভিযোগ করেন তাহলে কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক পুরো অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। তবে অবশ্যই আপনাকে যথাযথ প্রমাণ দিয়ে দ্রুত অর্থ ফেরত নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আপনার পিন নাম্বারটি মনে রাখতে হবে।

ঋণের সুবিধা

অনেক ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে যারা শূন্য শতাংশ সুদের ঋণ দেয়। এসব ক্ষেত্রে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিল পরিশোধ করতে হয় যা সুবিধা জনক। আবার কোন কোন কার্ডে  ঋণের সুদের হার অনেক থাকে।

ক্রেডিট কার্ড অফার

ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়। যেমন ক্যাশব্যাক, স্পেশাল ডিসকাউন্ট আবার দেশের বাইরে গেলে হোটেলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার অনেক সময় মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। প্লেনের টিকিট কাটতে অনেক সময় বিশেষ মূল্য ছাড় পাওয়া যায়।

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ক্রেডিট কার্ডের জন্য সবাই এলিজিবল নয়। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

যারা চাকরিজীবী ব্যবসায়ী বা অন্যান্য পেশাজীবী যাদের আয় ও বৈধ কর শনাক্তকরণ নম্বর অর্থাৎ টি আই এল রয়েছে শুধুমাত্র তারাই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে যা যা প্রয়োজন সেগুলো হলো:

১) জাতীয় পরিচয় পত্র।

২) টিআইএন সার্টিফিকেট।

৩)চাকুরীজীবীর ক্ষেত্রে এপয়েন্টমেন্ট লেটার বা সেলারি সার্টিফিকেট এবং তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

৪) আবার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন, তিন মাসের ব্যাংক ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট।

৫) এছাড়াও কোন ব্যাংকে যদি ফিক্সড ডিপোজিট করা থাকে এবং তারা যদি রাজি হয় তাহলে আপনি সে ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ডের খরচ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের যেমন অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে তেমনি এই সুবিধাগুলো ভোগ করতে অবশ্যই আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে নির্দিষ্ট খরচ করতে হবে। যেমন ক্রেডিট কার্ড ের ঋণে বেশিরভাগ ব্যাংকই এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। তবে ডাচ বাংলা ব্যাংক এর খরচ কিছুটা কম নিচ্ছে।ব্যাংক ভেদে ক্রেডিট কার্ডে বছরে অন্তত ১২ থেকে ১৮ টি লেনদেন করতে হয়।

আপনি যখন ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট কার্ড নিবেন তখন সেই ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপনি দেখতে পারবেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কত খরচ হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে অবশ্যই যেখান থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ড নিতে চান সেই ব্যাংক থেকে ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে তারপর ক্রেডিট কার্ড নেবেন।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 

যেমন ধরুন Amx কার্ডের দশটি ধরন রয়েছে।এদের মধ্য এক মুদ্রার mx ক্রেডিট কার্ড ও দ্বৈত মুদ্রার ক্রেডিট কার্ডের হিসাব আমি তুলে ধরছি। এক মুদ্রার এন এক্স কার্ড এ বার্ষিক মাসল দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত কার্ড নিলে ৭৫০ টাকা। আর যদি কার্ড হারিয়ে ফেলেন তাহলে ৩০০ টাকা জরিমানা।দ্বৈত মুদ্রার কার্ডে মাসল বছরে ২০০০ টাকা। অতিরিক্ত কার্ড নিলে আরো ১ হাজার টাকা এবং কার্ড হারিয়ে গেলে দিতে হবে ৫০০ টাকা।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল হয়ে থাকেন এবং ক্রেডিট কার্ডটি যদি আপনি পেয়ে যান তাহলে সেটা আপনি যেকোনো জায়গায় পেমেন্ট করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন অবশ্যই যেখানে যেখানে পেমেন্ট মেথড হিসেবে ক্রেডিট কার্ড এক্সেপ্ট করা হয়। আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সারা মাসে যত amount প্রেমেন্ট করবেন মাস শেষে আপনার সেই সব অ্যামাউন্ট ব্যাংক থেকে বিল আকারে ইস্যু করা হবে এবং অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও আপনাকে সেই বিলটি পরিশোধ করতে হবে।

সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্য এই বিল পরিশোধ করার সময় দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী তা ভিন্ন তরু হতে পারে। আপনি যদি এই বিলটি পরিশোধ না করতে পারেন তাহলে আপনাকে পরবর্তী ক্রেডিট লিমিট দেওয়া হবে না।

ক্রেডিট কার্ড সাধারণত অনলাইন অফলাইন দুটি প্লাটফর্মে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।আবার যদি আপনি চান আপনার ক্রেডিট লিমিটটি বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে আপনি ব্যবহার করবেন অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন করবেন তাহলে অবশ্যই একটি ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট আপনার থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে আপনার যত লক্ষ টাকায় ক্রেডিট লিমিট থাকুক না কেন সেটা আপনি বাংলাদেশের বাইরে ব্যবহার করতে পারবেন না।

পাসপোর্ট দ্বারা আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন এর জন্য এনএবল করবেন এবং আপনার ক্রেডিট লিমিটেড নির্দিষ্ট একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় কনভার্ট করে তা দেশের বাইরে বৈদেশিক কারেন্সিতে পেমেন্ট করতে পারবেন।

এছাড়াও অনলাইনেও আপনি ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন গুলো করতে পারবেন। যেমন গুগল প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপ গেমস কিনতে চাইলে কিংবা ফরেন ই কমার্স সাইটগুলো থেকে কোন প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে অথবা ফেসবুক বুস্ট বা গুগল এডস এ পেমেন্ট করতে চাইলে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তা করতে পারবেন।

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো সেটা সম্পূর্ণই আপনার যাচাই করার ওপর নির্ভরশীল। সকলের ক্রেডিট কার্ড লিমিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন এক রকম নয় এই কারণেযার যার নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই যাচাই করতে পারবে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড তার জন্য ভালো।বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো তা যাচাই করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন।

ব্যাংকের আস্থাশীলতা

বাংলাদেশ এমন অনেক ব্যাংক রয়েছে যারা এখনো পরিপূর্ণভাবে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সম্ভব হয়নি।তাদের আস্থাশীলতা কম থাকায় তারা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।কিন্তু এইসব ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করার আগে আপনাকে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

যেহেতু এসব ব্যাংকের গ্রাহকের আস্থাশীলতা কম থাকে তাই এইসব ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড না নেওয়াই ভালো। এই সমস্ত ব্যাংকের হিডেন চার্জ বা অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ব্যাংকিং সেবা এবং ব্যাংকের শাখা

আপনি যে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিবেন সেই ব্যাংকের শাখা এবং সেই ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান কেমন তা জেনে নিয়ে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যাংক রয়েছে যাদের শাখা সারাদেশেই আছে এবং আপনি আপনার বাসস্থান অথবা আপনার পদচারণা যেখানে বেশি তার কাছেই সেই ব্যাংকের শাখা পেয়ে যাবেন তেমন ব্যাংক থেকেই আপনার ক্রেডিট কার্ড নেওয়া উচিত হবে।

কারণ টাকা জমা কিংবা  বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন করতে পারে। আর যদি ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান ভালো হয় তাহলে আপনি সেই ব্যাংক থেকেই ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেন এটি আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করবে।

সুদের পরিমাণ

ক্রেডিট কার্ডব্যবহারের সাথে যদি সুদের একটা অতপ্রতো সম্পর্ক রয়েছে তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুদের হার দেখে ক্রেডিট কার্ড নেওয়া উচিত।ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার সব ব্যাংকে একরকম নয় ক্রেডিট লিমিট এর উপর নির্ভর করে সুদের হার নির্বাচন করা হয়। তাই যে ব্যাংকে ক্রেডিট লিমিটের উপর সব থেকে কম সুদ এবং চার্জ নেওয়া হয় সেরকম ব্যাংক থেকে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি আবেদন করতে পারেন।

ডেবিট কার্ড ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যে পার্থক্য

ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দুটো কার্ডের মাধ্যমে আপনি এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে খরচ করতে পারবেন। তবে ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড দুটো কার্ডের টাকা উত্তোলনের ধরন এক নয় এদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। দেখে নিন ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যেও কি কি পার্থক্য রয়েছে:

*ডেবিট কার্ড হল এমন একটি কার্ড যা আপনার ব্যাংকের সেভিংস একাউন্ট এর সাথে লিঙ্ক করা থাকে। অপরদিকে ক্রেডিট কার্ড হলো এমন একটি কার্ড যা কার্ড জারি করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ একাউন্টের সাথে লিংক করা থাকে।

*ডেবিট কার্ডকে এক কথায় বলা যায় ক্যাশ কার্ড। আই ক্রেডিট কার্ড কে এক কথায় লোন কার্ড বলা যায়।

*ডেবিট কার্ডের সাথে লিংক করা একাউন্টে যে পরিমাণ টাকা থাকে ব্যবহারকারী শুধু সেই টাকাই ব্যবহার করতে পারেন।কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যে পরিমাণ টাকা গ্রাহকের জন্য ঋণ মঞ্জুর করা হয়ে থাকে গ্রাহক শুধু সেই পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে।

*ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক একাউন্টে তার নিজের জমা করার টাকা খরচ করতে পারে। অপরদিকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে ক্রেডিট লিমিট দিয়ে থাকে সেটা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে গ্রাহক খরচ করতে পারেন।

*ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর একাউন্টে টাকা জমা থাকলে ব্যাংক বাড়তি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহককে সুদ বা মুনাফা প্রদান করা হয়। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডেhow to standing balance থাকলে তার বিপরীতে গ্রাহক কর্তৃক ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সুদ প্রদান করতে হয়।

*ডেবিট কার্ডে কোন ইএমআই সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই সুবিধা পাওয়া যায়।

*ডেবিট কার্ডে কেনাকাটার পর পুনরায় পেমেন্ট করার প্রয়োজন হয় না।অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা করার পর পুনরায় পেমেন্ট করতে হয় সেটা গ্রাহক পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারে অথবা সর্বনিম্ন বিল পরিশোধ করতে পারে।

*যারা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেন তাদের কোন প্রসেসিং ফি প্রদান করতে হয় না। কিন্তু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জয়নিং প্রসেসিং ফি,লেট পেমেন্ট ফি, বার্ষিক ফি প্রদান করতে হয়।

*ডেবিট কার্ডের গ্রাহকের কাছে বিল পেপার হিসেবে কোন স্টেটমেন্ট প্রদান করা হয় না কিন্তু মেসেজের মাধ্যমে জানানো হয় তিনি কত টাকা উত্তোলন করেছেন।অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের কাজে স্টেটমেন্ট প্রদান করা হয় যেখানে লেনদেনের বিস্তারিত বর্ণনা থাকে। তার বর্তমান ব্যালেন্স কত আছে, মিনিমাম কত টাকা প্রদান করতে হবে এবং বিল প্রদান করার শেষ তারিখ কবে।

*সেভিংস /কারেন্ট /এসটিডি অ্যাকাউন্টধারী যে কেউ ডেবিট কার্ড নিতে পারে।অপরদিকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ক্রেডিট কার্ড কত প্রকার এর হয়?

ক্রেডিট কার্ডের অনেক ধরন বা প্রকার রয়েছে। যেমন:

*লো ইনকাম আর্নারের ক্রেডিট কার্ড।

*ট্রাভেল ক্রেডিট কার্ড।

*এয়ারলাইন ক্রেডিট কার্ড।

*শপিং ক্রেডিট কার্ড।

*রিওয়ার্ডস ক্রেডিট কার্ড।

*ক্যাশব্যাক ক্রেডিট কার্ড।

*ফুয়েল ক্রেডিট কার্ড।

*এন্টারটেইনমেন্ট ক্রেডিট কার্ড।

ডেবিট কার্ড এর অর্থ কি?

ডেবিট কার্ড এমন একটি প্লাস্টিক কার্ড বা নোট কার্ড যা ব্যবহার করে গ্রাহক নগদ টাকা প্রদান করার পরিবর্তে কার্ড কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারে। এটি ক্রেডিট কার্ডেরবিপরীত কারণ এই কার্ড ব্যবহার করতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই তার ব্যাংকের সেভিংস একাউন্টে টাকা জমা রাখতে হবে।

আমাদের শেষ কথা-

আমাদের আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হয়েছে ক্রেডিট কার্ড পেতে কি যোগ্যতা প্রয়োজন এবং ক্রেডিট কার্ড খরচ সম্পর্কে। ইতোমধ্যেই আপনারা আজকের আর্টিকেলটি পড়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে কারো কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

আপনাদের যদি আমাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন আমাদের ওয়েবসাইটের কথা। আরো নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন। আজকের মতো এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

পোস্ট ট্যাগ-

ক্রেডিট কার্ড খরচ,ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম,ডাচ বাংলা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো,ইসলামী ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,ব্র্যাক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা.

আপনার জন্য আরো 

আপনার জন্য-

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম ২০২৪

বাংলাদেশে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে ভালো?

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়মাবলী

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৫০৬ other subscribers

 

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে :এখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।

SS IT BARI- টুইটার থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- লিংকদিন থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুম্বলার (Tumblr)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- পিন্টারেস্ট (Pinterest)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS It BARI JOB NEWS

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম