ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়মাবলী- সুবিধা এবং অসুবিধা সহ সকল বিষয়ের বিস্তারিত

আধুনিক জীবন যাপনের সঙ্গে মানুষের লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিক হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন আর নগদ টাকা হাতে নিয়ে কেনাকাটা করে না ছোট্ট একটি কার্ডই বিশাল কেনাকাটার জন্য যথেষ্ট। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা বা অন্যান্য কাজগুলো সহজেই করা সম্ভব। ক্রেডিট কার্ড এমন একটি লেনদেন করার সুবিধা প্রদান করে থাকে যা ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নগদ টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরতে হয় না শুধুমাত্র ক্রেডিট কার্ডে ক্রেডিট লিমিট থাকলেই যথেষ্ট। তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই আধুনিক লেনদেন সম্পর্কে যারা জানেন না কিভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হয় তারা আজকের আর্টিকেল থেকে অবশ্যই জেনে নেবেন ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। চলুন বন্ধুরা দেরি না করে চলে যাই আমাদের আজকের আলোচনায়।ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়মাবলী

ক্রেডিট কার্ড কি?

ক্রেডিট কার্ড মূলত একটি কার্ড যা এটি ব্যবহারকারীর নাম, তার ক্রেডিট কার্ড নাম্বার এবং ক্রেডিট কার্ডের মেয়াদ, কবে শেষ হবে তার তারিখ সিভিভি এবং ক্রেডিট কার্ড ধারের স্বাক্ষর, কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এর বিবরণ ইত্যাদি তথ্য সংবলিত থাকে। ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে এমন একটি মেথড যেটির সাহায্যে ব্যবহারকারী ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে খরচ করেন।

আর এই ধার করা টাকার যে পরিমাণ তাকে বলা হয় ক্রেডিট লিমিট। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তার এক মাসের ইনকামের ওপর নির্ভর করে ব্যাংক থেকে তাকে এই লিমিটটি দেওয়া হয়। ধরুন একজন ব্যক্তির মাসিক ইনকাম যদি 50000 টাকা হয় তাহলে সে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট লিমিট পেতে পারে।ক্রেডিট লিমিট সবার ক্ষেত্রে এক নয় কারো ক্ষেত্রে বেশি আবার কারো ক্ষেত্রে কম হয়।

বাংলাদেশে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে ভালো?

যদি আপনি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো এমাউন্ট ইনকাম করতে হবে। আপনি যদি ভাল কোন ইনকামের চাকরি না করেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল মনে করা হবে না। এর মূল কারণ হলো ক্রেডিট কার্ড আপনার প্রতি মাসে স্যালারির ওপর ভিত্তি করেই লিমিট প্রদান করবে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল হয়ে থাকেন এবং ক্রেডিট কার্ডটি যদি আপনি পেয়ে যান তাহলে সেটা আপনি যেকোনো জায়গায় পেমেন্ট করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন অবশ্যই যেখানে যেখানে পেমেন্ট মেথড হিসেবে ক্রেডিট কার্ড এক্সেপ্ট করা হয়। আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সারা মাসে যত amount প্রেমেন্ট করবেন মাস শেষে আপনার সেই সব অ্যামাউন্ট ব্যাংক থেকে বিল আকারে ইস্যু করা হবে এবং অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও আপনাকে সেই বিলটি পরিশোধ করতে হবে।

সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্য এই বিল পরিশোধ করার সময় দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী তা ভিন্ন তরু হতে পারে। আপনি যদি এই বিলটি পরিশোধ না করতে পারেন তাহলে আপনাকে পরবর্তী ক্রেডিট লিমিট দেওয়া হবে না।

ক্রেডিট কার্ড সাধারণত অনলাইন অফলাইন দুটি প্লাটফর্মে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।আবার যদি আপনি চান আপনার ক্রেডিট লিমিটটি বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে আপনি ব্যবহার করবেন অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন করবেন তাহলে অবশ্যই একটি ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট আপনার থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে আপনার যত লক্ষ টাকায় ক্রেডিট লিমিট থাকুক না কেন সেটা আপনি বাংলাদেশের বাইরে ব্যবহার করতে পারবেন না।

পাসপোর্ট দ্বারা আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন এর জন্য এনএবল করবেন এবং আপনার ক্রেডিট লিমিটেড নির্দিষ্ট একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় কনভার্ট করে তা দেশের বাইরে বৈদেশিক কারেন্সিতে পেমেন্ট করতে পারবেন।

এছাড়াও অনলাইনেও আপনি ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন গুলো করতে পারবেন। যেমন গুগল প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপ গেমস কিনতে চাইলে কিংবা ফরেন ই কমার্স সাইটগুলো থেকে কোন প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে অথবা ফেসবুক বুস্ট বা গুগল এডস এ পেমেন্ট করতে চাইলে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তা করতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা

বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বাড়ছে। যারা অনেক বেশি কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডটি বেশি ব্যবহৃত হয়। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। যেমন:

দ্রুত লেনদেন

আপনার ক্রেডিট কার্ডটি আপনাকে দ্রুত লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে। আপনি কোন একটি ব্যয়বহুল জিনিস কিনতে চাইলে একসঙ্গে অনেক টাকা জোগাড় করতে পারছেন না তখন আপনার ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুতই আপনার পণ্যটি কিনতে পারছেন।

রিওয়ার্ড পয়েন্ট

মূল্য ফেরত আকাশপথে বিনামূল্যে ভ্রমন বা বাড়তি পুরস্কার পয়েন্ট গুলো ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম কিছু আকর্ষণীয় বিষয় যা কেবলমাত্র আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলেই পেতে পারেন।

ক্রেডিট স্কোর বৃদ্ধি

নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনি আপনার ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে পারেন। আপনি যদি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন তাহলে আপনার ক্রেডিট স্কোর দ্রুত বাড়বে।

নিরাপত্তার সুবিধা

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণা চুরি কিংবা একই খরচ একাধিকবার করার প্রবণতা থাকে না।যদি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি চুরি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে ওই কার্ড দিয়ে কোন কেনাকাটা করলে সেটা আপনার দায় নয়। ধরুন যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড চুরি হয়ে যায় এবং সেখান থেকে কেউ টাকা তুলে নেয়। আর এটি যদি আপনি অভিযোগ করেন তাহলে কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক পুরো অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। তবে অবশ্যই আপনাকে যথাযথ প্রমাণ দিয়ে দ্রুত অর্থ ফেরত নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আপনার পিন নাম্বারটি মনে রাখতে হবে।

ঋণের সুবিধা

অনেক ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে যারা শূন্য শতাংশ সুদের ঋণ দেয়। এসব ক্ষেত্রে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিল পরিশোধ করতে হয় যা সুবিধা জনক। আবার কোন কোন কার্ডে ঋণের সুদের হার অনেক থাকে।

ক্রেডিট কার্ড অফার

ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়। যেমন ক্যাশব্যাক, স্পেশাল ডিসকাউন্ট আবার দেশের বাইরে গেলে হোটেলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার অনেক সময় মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। প্লেনের টিকিট কাটতে অনেক সময় বিশেষ মূল্য ছাড় পাওয়া যায়।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধা

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা অনেক থাকলেও এর কিছু অসুবিধা রয়েছে।আর এই অসুবিধা গুলো জেনেই আপনাকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হবে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধা গুলো হলো:

খরচ বেশি

আপনি যদি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে খরচ বেশি বুঝেই করতে হবে।দেখা গেল আপনি কেনাকাটা করার সময় অনেক বেশি কেনাকাটা করে ফেলেছেন কিন্তু আপনার এটা মাথায় রাখতে হবে যে এই বেশি কেনাকাটার জন্য আপনি যেই এমাউন্টটি খরচ করেছেন সেটি অনুযায়ী আপনাকে মাসিক বিল পরিশোধ করতে হবে।

বার্ষিক ফি এবং অন্যান্য খরচ

বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ড এর ক্ষেত্রেই বছরে একটা ফ্রি দিতে হয় এছাড়াও কিছু চাঁদা বিভিন্নভাবে প্রযোজ্য হয় যেমন দেরিতে পরিশোধের ফি, ব্যালেন্স ট্রান্সফার ফি, ওভার ড্রাফট ফি ইত্যাদি।

ক্রেডিট স্কোর সংক্রান্ত জটিলতা

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করে মাসিক কিস্তি পরিশোধের ব্যর্থ হলে আপনার ক্রেডিট স্কোরের উপর সেটা নীতি বাচক প্রভাব ফেলবে।

উচ্চমূল্যের লেনদেন ফি

ডেবিট কার্ডের যেমন কেনাকাটায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ফি প্রদান করতে হয় না কিন্তু ক্রেডিট কার্ড এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে বেশ উচ্চমূল্যের ফি প্রদান করতে হয়।

ঋণের ফাঁদ তৈরি

যারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন তারা জানেন ক্রেডিট কার্ড এর ব্যবহার সবসময় একটু ঋণ নেওয়ার মাধ্যম। হয়তো আপনি এখন যে টাকাটা খরচ করছেন সেটা আপনাকে পরেই ফেরত দিতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ক্রেডিট কার্ডের জন্য সবাই এলিজিবল নয়। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

যারা চাকরিজীবী ব্যবসায়ী বা অন্যান্য পেশাজীবী যাদের আয় ও বৈধ কর শনাক্তকরণ নম্বর অর্থাৎ টি আই এল রয়েছে শুধুমাত্র তারাই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে যা যা প্রয়োজন সেগুলো হলো:

১) জাতীয় পরিচয় পত্র।

২) টিআইএন সার্টিফিকেট।

৩) চাকুরীজীবীর ক্ষেত্রে এপয়েন্টমেন্ট লেটার বা সেলারি সার্টিফিকেট এবং তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

৪) আবার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন, তিন মাসের ব্যাংক ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট।

৫) এছাড়াও কোন ব্যাংকে যদি ফিক্সড ডিপোজিট করা থাকে এবং তারা যদি রাজি হয় তাহলে আপনি সে ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ড কিভাবে পাবেন

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য যা যা দরকার সেগুলো একসঙ্গে করে অবশ্যই আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। ব্যাংক বা আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট কার্ড পেতে গেলে তাদের ক্রেডিট কার্ড বিভাগের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করবেন।তাদেরকে আপনার আয়ের উৎস মাসিক আয় ইত্যাদি তথ্য জমা দেওয়ার পর ক্রেডিট কার্ড বিভাগ থেকে আপনাকে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে বলা হবে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা কি হারাম?

যেহেতু ক্রেডিট কার্ডে সুদ প্রদান করতে হয় তাই অনেক ইসলামই একাডেমীর মতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থী। ইসলামিক ফিকো একাডেমী ইন্ডিয়ার ব্যাংকিং কার্ড বিষয়ক ১৫ তম ফিকো সেমিনারে এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে ক্রেডিট কার্ডের প্রচলিত পদ্ধতি যেহেতু সুধি লেনদেন নির্ভর তাই ক্রেডিট কার্ড বা এই ধরনের কোন কার্ড গ্রহণ করা ইসলাম সমর্থন করে না।

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো সেটা সম্পূর্ণই আপনার যাচাই করার ওপর নির্ভরশীল। সকলের ক্রেডিট কার্ড লিমিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন এক রকম নয় এই কারণেযার যার নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই যাচাই করতে পারবে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড তার জন্য ভালো।বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো তা যাচাই করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন।

ব্যাংকের আস্থাশীলতা

বাংলাদেশ এমন অনেক ব্যাংক রয়েছে যারা এখনো পরিপূর্ণভাবে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সম্ভব হয়নি।তাদের আস্থাশীলতা কম থাকায় তারা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করার  প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।কিন্তু এইসব ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করার আগে আপনাকে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

যেহেতু এসব ব্যাংকের গ্রাহকের আস্থাশীলতা কম থাকে তাই এইসব ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড না নেওয়াই ভালো। এই সমস্ত ব্যাংকের হিডেন চার্জ বা অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ব্যাংকিং সেবা এবং ব্যাংকের শাখা

আপনি যে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিবেন সেই ব্যাংকের শাখা এবং সেই ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান কেমন তা জেনে নিয়ে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যাংক রয়েছে যাদের শাখা সারাদেশেই আছে এবং আপনি আপনার বাসস্থান অথবা আপনার পদচারণা যেখানে বেশি তার কাছেই সেই ব্যাংকের শাখা পেয়ে যাবেন তেমন ব্যাংক থেকেই আপনার ক্রেডিট কার্ড নেওয়া উচিত হবে।

কারণ টাকা জমা কিংবা  বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন করতে পারে। আর যদি ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান ভালো হয় তাহলে আপনি সেই ব্যাংক থেকেই ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেন এটি আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করবে।

সুদের পরিমাণ

ক্রেডিট কার্ডব্যবহারের সাথে যদি সুদের একটা অতপ্রতো সম্পর্ক রয়েছে তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুদের হার দেখে ক্রেডিট কার্ড নেওয়া উচিত।ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার সব ব্যাংকে একরকম নয় ক্রেডিট লিমিট এর উপর নির্ভর করে সুদের হার নির্বাচন করা হয়। তাই যে ব্যাংকে ক্রেডিট লিমিটের উপর সব থেকে কম সুদ এবং চার্জ নেওয়া হয় সেরকম ব্যাংক থেকে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডটি আবেদন করতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ডের খরচ

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের যেমন অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে তেমনি এই সুবিধাগুলো ভোগ করতে অবশ্যই আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে নির্দিষ্ট খরচ করতে হবে। যেমন ক্রেডিট কার্ড ের ঋণে বেশিরভাগ ব্যাংকই এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। তবে ডাচ বাংলা ব্যাংক এর খরচ কিছুটা কম নিচ্ছে।ব্যাংক ভেদে ক্রেডিট কার্ডে বছরে অন্তত ১২ থেকে ১৮ টি লেনদেন করতে হয়।

আপনি যখন ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট কার্ড নিবেন তখন সেই ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপনি দেখতে পারবেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কত খরচ হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে অবশ্যই যেখান থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ড নিতে চান সেই ব্যাংক থেকে ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে তারপর ক্রেডিট কার্ড নেবেন।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 

যেমন ধরুন Amx কার্ডের দশটি ধরন রয়েছে।এদের মধ্য এক মুদ্রার mx ক্রেডিট কার্ড ও দ্বৈত মুদ্রার ক্রেডিট কার্ডের হিসাব আমি তুলে ধরছি। এক মুদ্রার এন এক্স কার্ড এ বার্ষিক মাসল দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত কার্ড নিলে ৭৫০ টাকা। আর যদি কার্ড হারিয়ে ফেলেন তাহলে ৩০০ টাকা জরিমানা।দ্বৈত মুদ্রার কার্ডে মাসল বছরে ২০০০ টাকা। অতিরিক্ত কার্ড নিলে আরো ১ হাজার টাকা এবং কার্ড হারিয়ে গেলে দিতে হবে ৫০০ টাকা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কি টাকা উত্তোলন করা যায়?

অবশ্যই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত হাড়ের সুর দিতে হবে। ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেন আপনি আপনার চেক দিয়েও। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড কেনাকাটার জন্যই ব্যবহৃত হয়।

ক্রেডিট কার্ড সফলভাবে ব্যবহার করার নিয়ম?

ক্রেডিট কার্ড সফলভাবে ব্যবহার করতে চাইলে প্রতি মাসে আপনার ব্যালেন্স পরিশোধ করুন।আপনার ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি বিলিং চক্রের সম্পূর্ণ ব্যালেন্স পরিশোধ করে আপনার ক্রেডিট কার্ড এর কেনাকাটায় সুর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রতিমাসে ক্রেডিট কার্ডের থেকে টাকা কম খরচ করুন এতে বিল চার্জ কম হবে।

৩০ দিন পর ক্রেডিট কার্ড চালু করা যাবে কি?

আপনি ক্রেডিট কার্ড যদি ৩০ দিন পর চালু করেন তাহলে আপনার ক্রেডিট কার্ডটি চালু হবে কিন্তু ক্রেডিট স্কোরকে তা প্রভাবিত করতে পারে। আর যদি আপনার ক্রেডিট স্কোর কি প্রভাবিত হয় সেক্ষেত্রে আপনার কার্ড প্রদানকারী অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে পারে।

আমাদের শেষ কথা-

আমাদের আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হয়েছে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম।ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের যোগ্যতা সম্পর্কে। ইতোমধ্যেই আপনারা আজকের আর্টিকেলটি পড়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে কারো কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

আপনাদের যদি আমাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন আমাদের ওয়েবসাইটের কথা। আরো নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন। আজকের মতো এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

পোস্ট ট্যাগ-

ক্রেডিট কার্ড খরচ,ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করার উপায়,কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো,ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা,ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলা,ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার,ক্রেডিট কার্ড কত প্রকার,ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা,

আপনার জন্য আরো 

আপনার জন্য-

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম ২০২৪

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৫০৬ other subscribers

 

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে :এখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।

SS IT BARI- টুইটার থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- লিংকদিন থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুম্বলার (Tumblr)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- পিন্টারেস্ট (Pinterest)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS It BARI JOB NEWS

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম