ফজরের নামাজ কয় রাকাত? ফজরের নামাজের শেষ সময়-2022

নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নামাজে কিছু বিশেষ ফজিলত দিয়েছেন।তার মধ্যে একটি হল ফজরের নামাজ।

More Post:একদিনের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য ঢাকার পাশের দর্শনীয় স্থান

ফজরের নামাজ কয় রাকাত
ফজরের নামাজ কয় রাকাত

ফজরের নামাজের ফজিলত

সূর্যাস্ত থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের নামাজ কায়েম কর। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজের সময় উপস্থিত। (সূরা: বনী ইসরাঈল, আয়াত: 6 (2 পর্ব)।

নামাজের মধ্যে যেমন ফজরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, তেমনি সময়ের মধ্যেও ফজরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ফজর নামে একটি সূরাও রয়েছে। সেই সূরার শুরুতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ফজরের কসম। (সূরা: ফজর, আয়াত: 1)

হাদিসে ফজরের নামাযের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে সে আল্লাহর তত্ত্বাবধানে থাকবে। (মুসলিম, হাদিস : 656)

অন্য হাদিসে ফজরের নামাজ পড়া ব্যক্তিকে জান্নাতী বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা সময়ে সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)

ফজরের নামাজ কয় রাকাত

 ফজরের নামাজ চার রাকাত

1. দুই রাকাত সুন্নাত।

2. দুই রাকাত ফরজ।

ফরজরের দুইরাকআত ফরজ নামাজের নিয়ত

নাওয়াইতু আন উসলিয়া-লিল্লাহি তা’আলা রাকা’তাই সালাতিল ফজরে ফারজুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শরিফতি আল্লাহু আকবার।

দ্রষ্টব্য: ইমামের পিছনে পড়লে ফারদিল্লা-হি তাআলা বলার পর ইকতাদাইতু বিহা-জাল ইমাম বলবে।

বাংলা অর্থ:- ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামায পড়ার উদ্দেশ্যে কিবলার দিকে মুখ করে নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।

ফরজরের দুইরাকআত সুন্নত নামাজের নিয়ত

নাওয়াইতু আন উসালিয়ালিল্লাহি তাআলা রাকাতাই সালাতিল ফজরে সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শরিফতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ:- ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায পড়ার উদ্দেশ্যে কিবলার দিকে মুখ করে নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।

ফজরের নামাজের তাসবিহ

উচ্চারণঃ হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম।

বিঃদ্রঃ ফজরের নামাজ শেষে ১০০ বার তাসবীহ পাঠ করতে হবে।

ফজরের নামাজের সময়সূচী

ভোরবেলা যখন একটু অন্ধকার থাকে, অর্থাৎ ভোর হওয়ার আগে পাখিরা ডাকছে তখন এই নামাযটি আদায় করা উত্তম। যাইহোক, এই ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি প্রয়োজন হয়, উদীয়মান সূর্যের প্রথম অংশ পূর্ব দিগন্ত রেখা অতিক্রম করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সঞ্চালিত হতে পারে। সূর্যোদয়ের সময় নামাজ পড়া হারাম।

ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ১০টি পুরস্কার

1. ফজরের নামাজে দাঁড়ানো সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মতো।যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতের সাথে আদায় করে সে যেন মাঝরাতে জেগে নামায পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতের সাথে আদায় করবে, সে যেন সারা রাত নামায পড়ে। (মুসলিম শরীফ)

2. ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে সে আল্লাহর তত্ত্বাবধানে থাকবে। (মুসলিম)

3. ফজরের নামায কিয়ামতের দিন আলোর মত আবির্ভূত হবে– ‘যারা রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায় তাদের সুসংবাদ দাও যে, কিয়ামতের দিন তারা পূর্ণ আলো পাবে। (আবু দাউদ)

4. সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি– ‘যে ব্যক্তি দুই শীতল সালাত (নামায) পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুটি শীতল (নামায) হল ফজর আছর। (বুখারী)

5. রিজিকে বরকত আসবেআল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, রিজিক সকালে বিছানায় আসতে বাধা দেয়। কারণ তখন রিজিক বণ্টন করা হয়।

6. ফজরের নামায পড়লে দুনিয়া আখিরাতের সর্বোত্তম কল্যাণ লাভ করবেদুই রাকাত ফজরের নামায দুনিয়া এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। ’ (তিরমিজি

7. মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে সরাসরি তাঁর নাম আলোচনা হবে– ‘ফেরেশতারা দিনরাত পালাক্রমে আপনার কাছে আসে। তারা আসর ফজরের সময় জমায়েত হয়। যারা নাইট ডিউটিতে ছিল তারা উপরে উঠে গেল। আল্লাহ সবই জানেন, তবুও তিনি ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন, “তোমরা আমার বান্দাদেরকে কিভাবে রেখে গেলে?” ফেরেশতারা বলেন, আমরা তাদের নামাযের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। আমি যখন গেলাম, তখনও তারা নামাজ পড়ছিল। (বুখারী)

8. ফজরের নামাজ দিয়ে দিন শুরু করলে সারাদিনের কাজকর্মের শুভ সূচনা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন– ‘হে আল্লাহ! সকালে তার উম্মতকে বরকত দিন। (তিরমিযী)

pp

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখি করি। এর আগে বিভিন্ন পোর্টালের সাথে যুক্ত থাকলেও, SS IT BARI-আমার হাতেখড়ি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে ভিজিট করুন http://ssitbari.com

৮ comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.