সালামের ফযিলত সম্পর্কে বিস্তারিত – আব্দুর রহমান আল হাসান

সালামের ফযিলত-পৃথিবীতে অসংখ্য ধর্ম এবং ভাষা রয়েছে। প্রতিটি ধর্মেরই মূল বক্তব্য, মানুষকে শান্তির দিকে আহ্বান করা। প্রতিটি ভাষাই মানুষকে সুন্দর উপস্থাপন করতে নির্দেশ করে। ভাষার শালীনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে একজন মানুষ নিজেকে শূন্য থেকে উচ্চ আসনে নিয়ে যেতে পারে। পৃথিবীতে সকল ধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো, ইসলাম। আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলেছেন, ইসলাম আসার দ্বারা অন্যান্য সকল ধর্মকে রহিত করা হয়েছে।সালামের ফযিলত সম্প্কে

সালাম দেয়া কি?

ইসলামে মানুষকে যেমনভাবে পরকালের জন্য সওয়াব হাসিলের আহ্বান করে তেমনিভাবে দুনিয়াতে সামাজিক মূল্যবোধও শিক্ষা দেয়। একজন ব্যক্তি অন্য একজনের সাথে কিভাবে কমিউনিকেট করবে বা তার সাথে দেখা হওয়ার পর অভিবাদন দিয়ে কি বলবে, তাও শিক্ষা দেয়। ইসলামে অন্যতম একটা সুন্নাহ হলো, পরষ্পরকে সালাম দেয়া। একজন ব্যক্তির সাথে অন্যজনের সাক্ষাৎ হলে সুন্দরভাবে সালাম দেয়া।

বিভিন্ন দেশে সালামের নিয়ম-সালামের ফযিলত

 পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন রকম অভিবাদন রয়েছে। প্রাচীনকালে জাপানীরা একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অভিবাধন জানাতো। তাদের একটা অভিবাদন পদ্ধতির নাম ছিল, মাসাকাজু নামুরা। এই অভিবাদনটি মধ্যযুগীয় জেন সন্ন্যাসীরা আবিষ্কার করে। জাপানীরা একজন অন্যজনের সংস্পর্শে এসে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানাতো। কখনো কখনো তারা পরিস্থিতি ভেদে খানিকটা দূরত্বেও এরকম অভিবাদন জানাতো।

আজানের জবাব এবং ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত

জাপানীদের মতো চায়নাদেরও আলাদা অভিবাদন ছিল। ইউরোপের লোকেরা বর্তমানে একজন অন্যজনকে অভিবাদন জানায় পরিস্থিতির উপর। যেমন, যদি সকাল হয় তাহলে বলে, গুড মর্নিং। যদি বিকাল হয় তাহলে বলে, গুড ইভিনিং। যদি রাত হয় তাহলে বলে, গুড নাইট। প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠি বা প্রতিটি ধর্মেরই আলাদা আলাদা অভিবাদন রয়েছে।

ইসলাম ধর্মে সালাম?

ইসলাম ধর্মে অভিবাদন হিসেবে আমরা দুইটা শব্দ ব্যবহার করি। যেমন, আসসালামু আলাইকুম। এই দুটি শব্দই যে কোনো ব্যক্তিকে উচ্চ মর্যাদার আসনে বসাতে সক্ষম। “আসসালামু আলাইকুম” বাক্যটি একটি আরবী বাক্য। এর অর্থ, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। পৃথিবীতে অন্যান্য যত অভিবাদন আছে, তারা কেউ অভিবাদনে অন্যের শান্তি কামনা করে না।

আলহামদুলিল্লাহ অর্থ কি? আলহামদুলিল্লাহ বলার ফজিলত সহ বিস্তারিত

কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের শান্তি কামনা করে, তাহলে তাকে আল্লাহ তা’আলা উচ্চ মর্যাদা দান করেন। আমরা মুসলিমরা সালাম হিসেবে আসসালামু আলাইকুম বলি। আর শ্রোতা উত্তরে বলে, ওয়ালাইকুমুস সালাম। এখানে ‘ওয়ালাইকুমুস সালাম’ বাক্যটিও আরবী বাক্য। এর অর্থ, আপনার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আরবী ভাষা এবং ইসলামের ক্যালকুলাসটা লক্ষ্য করুন।

একজন ব্যক্তি জনৈক ব্যক্তির শান্তি কামনা করলো আর প্রতিউত্তরে জনৈক ব্যক্তিটিও তার শান্তি কামনা করলো। দুজনই দুজনের শান্তি কামনা করলো। দুজনই সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি প্রার্থনা করলো। দুজনই দুজনকে উত্তমরুপে অভিবাদন জানালো। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। এটাই ইসলামের ব্যতিক্রম আদর্শ।

সালামের সময় কি কি কাজ করা উচিৎ?সালামের ফযিলত

সালামের সময় হাসিমুখে সালাম দেয়া। যদি আপনি হাসিমুখে সালাম না দিতে পারেন, অন্তত রাগান্নিতভাবে সালাম দিবেন না। এতে শ্রোতা মনে কষ্ট পেতে পারে। আপনার দ্বারা যদি আল্লাহর একজন বান্দা কোনো কারণে কষ্ট পায় তাহলে আল্লাহর নিকট এর জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

?? গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন ??

সালামের সময় ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর সাথে ‘ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বলা।

সালামের সময় কি কি কাজ করা অনুচিৎ?সালামের ফযিলত

‘আসসালামু আলাইকুম’ না বলে স্লামুআলাইকুম বলা। এমনভাবে সালাম দেয়া উচিৎ নয়। মনে রাখবেন, সালাম দেয়ার বাক্যটি আরবী বাক্য। সুতরাং আপনাকে বলার সময় আরবী ভাষা অনুযায়ী বলতে হবে। আপনি যদি ইংলিশ অভিবাদন গুড মর্নিংকে উড মার্নিং বলেন, তাহলে কি ইংলিশ শিক্ষিত ব্যক্তিরা আপনার সাথে কথা বলতে চাইবে? সুতরাং যেই ভাষার সৌন্দর্য যেমন, তেমনভাবেই সেই ভাষার বাক্য ‍উচ্চারণ করা উচিৎ।

  • সালামের সময় হাতজোড় করে সালাম দেয়া।
  • সালামের সময় হাত কপালে উঠানো।
  • সালামের সময় মাথা ঝুঁকানো।

সুতরাং আপনাকে সালাম দিতে হবে যেমনভাবে নবীজি অন্যান্য ব্যক্তিদের সালাম দিয়েছেন। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা’আলা সূরা নূরের ৬১ নং আয়াতে বলেন,

“যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করো তখন তোমরা নিজেদের (বা ঘরের লোকদের) সালাম দাও। এটাই আল্লাহর পক্ষ হতে উত্তম অভিবাদন।”

হাদীস শরীফে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “হে বৎস! তুমি যখন গৃহে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও। তা তোমার জন্য ও তোমার পরিবার পরিজনের জন্য বরকত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।”

দোয়া কবুলের আমল-রিজিক বৃদ্ধির দোয়া-আয়না দেখার দোয়া

সামাজিক কমিউনিকেশন সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন হয় ঘরের লোকদের সাথে। আমরা আমাদের ঘরের লোকদের সর্বদা সাথে দেখি বিধায় তাদের সাথে ভালো আচরণ করা বা তাদের সাথে সৎ কাজ করতে চাই না। উপরোক্ত আয়াতে এবং নবীজি হাদীসে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ঘরের লোকদের সাথে ভালো আচরণ করো। ভালো আচরণ করার সর্বপ্রথম উপায় হলো, সালাম দেয়া। আপনি কাউকে ভালোভাবে সালাম দিলে সে আপনার প্রতি আগ্রহী হবে। সে আপনার কথা শুনতে চাইবে। আপনার কঠিন বিপদে সে আপনার সঙ্গী হবে।

আমরা সাধারণত আমাদের ঘরের লোক ব্যতিত বাহিরের ব্যক্তিদের লোক দেখানো সালাম দেই। এই কাজটা করা একদম উচিৎ নয়। আবার কখনো কখনো দেখা যায়, কাউকে সালাম দেয়ার পর সে সালামের উত্তর দেয় না। এটা ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সালাম দিলে ১০ নেকী আর সালামের উত্তর দিলে ৫০ নেকী। আপনাকে দুনিয়াতে তো ১০ টাকার বদলে ৫০ টাকা দিলে নিয়ে নিবেন। তাহলে ইসলামের হুকুম-আহ্কামের ক্ষেত্রে কেন কার্পণ্য করবেন? সুতরাং আমরা সালাম দিব এবং সালামের জওয়াবও দিব।

কোনো ব্যক্তি যদি ঘরের লোকদের সালাম দিতে দিতে অভ্যস্ত হয় তাহলে তার জন্য অপরিচিত এবং পরিচিত ব্যক্তিদেরকে সালাম দেয়া সহজ হবে। আমাদের সর্বদা সৎ কাজে অটল থাকা উচিৎ। অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ। প্রতিবেশী এবং বন্ধু-বান্ধবদের সালাম দিয়ে অভ্যস্ত হওয়া উচিৎ। তাদেরকে সৎ কাজে আদেশ করতে হবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে হবে। তাহলেই আমরা ইহকাল এবং পরকালে সফলকাম হবো। আল্লাহ আমাদের সৎপথে পরিচালিত করুন। আমীন।

আরও পড়ুন-

ইনশাআল্লাহ বলার ফজিলত I ইনশাআল্লাহ অর্থ কি?

বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

ফজরের নামাজ কয় রাকাত? ফজরের নামাজের শেষ সময়

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

 

এছারাও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে

 

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।

এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.