সমুদ্রের পানি কি পান করা যাবে? – আব্দুর রহমান আল হাসান

সমুদ্রের পানি কি পান করা যাবে? – পানির অপর নাম জীবন। নামটি যথার্থ। কারণ, মানুষ পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারবে না। পানি মানুষকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে পানি ব্যবহার করে থাকি। পানি ছাড়া আমরা এক মুহুর্তও কল্পনা করতে পারি না। কিন্তু এই পানির উৎস কি? তা কি আমরা জানি? এ সকল পানি আসে ভূগর্ভস্থ থেকে। সেখানেই বিশুদ্ধ মিনারেল ওয়াটার পানি পাওয়া যায়। নদীর পানিও প্রকারভেদে বিশুদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু সমুদ্রের পানি?

ডিস্যালাইনেশন

এখানেই সবচেয়ে বড় অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয় আমাদের। সমুদ্রের পানিতে লবনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা পান করার অযোগ্য। কারন, পানিগুলো বড্ড লবণাক্ত হয়। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এটারও সমাধান আছে। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে। বিজ্ঞান আমাদের শুধু ডিভাইসই উপহার দেয় নি, দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি। বিশুদ্ধ খাবার। বিশুদ্ধ ফলমূল। তবে বিজ্ঞান আমাদের ক্ষতিও কম করে নি। যাই হোক, ক্ষতিটাকে একপাশে রেখে আমরা উপকারগুলো নিয়ে আলোকপাত করি।

কেন একই ঘটনা বারবার ঘটছে? জানুন

এই কোটি কোটি লিটার সমুদ্রের পানিকে বিশুদ্ধ করার একটা পদ্ধতি আছে।

সেটার নাম, ডিস্যালাইনেশন

শব্দটা কঠিন মনে হলেও ভেবে নিন এটার পদ্ধতিটাও কঠিন। এখন কথা হলো, কিভাবে এই ডিস্যালাইনেশন কাজ করে? এই  প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি থেকে লবনকে আলাদা করা হয়। এতেই সমুদ্র থেকে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া সম্ভব। কাজটা সহজ মনে হলেও খানিকটা কঠিন। কিভাবে তা একটুপর ব্যাখ্যা করছি।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পানি সঙ্কট একটি প্রকোপাকারেই ধারণ করে। এই সমস্যা কাঁটিয়ে তুলতেই ইতিমধ্যে সেখানে এই পদ্ধতিটি এপ্লাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত ও দখলদার ইসরাইল এই প্রক্রিয়ার উপর বরাবর নির্ভরশীল। দখলদার জায়োনিস্টদের ইসরাইলে গৃহস্থলি কাজের জন্য ৪০% পানিই এই ডিস্যালাইনেশন পদ্ধতির মাধ্যমে আসে।

এখন উপরের কথায় ফিরে আসি। কিভাবে এই পদ্ধতিটা এপ্লাই করা হয়?

পানি থেকে লবণ আলাদা করার দুইটা উপায় আছে। প্রথমটা হলো, পুনঃ অভিস্রবণ। এটা তরল পদার্থের উপর আবরণ সৃষ্টি করে তরণ পদার্থগুলো একপাশে ও অন্য পদার্থগুলো অন্যপাশে রেখে আলাদা করে। এটা অনেকটা ছাঁকুনির মতো। তবে এর ছিদ্র খুবই নিঁখুত হতে হয়।

অন্য উপায়টি হলো, পাতন প্রক্রিয়া। এটা তরল পদার্থকে বাষ্পীভূত ও ঘনীভূত করে অন্য উপাদানকে আলাদা করে ফেলে। এরপর বাষ্পকণাগুলো একত্র করে পানি জমা করা হয়।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

উপরোক্ত দুইটা প্রক্রিয়া শুনতে সহজ মনে হলেও এটা কাজ অনেক ব্যয়বহুল। তবে খরচটা কিভাবে বাড়ে, সেটা একটু বলি। এককথায় বলতে গেলে, পানির সাথে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে খরচও ফুলেফেঁপে বেড়ে যাবে। পানিতে লবণের পরিমাণ কম থাকলে খরচও কম হবে। একটা উদাহরণ দেই। বর্তমানে দখলদার ইসরাইলে এখন প্রতি এক হাজার লিটার পানি নিষ্কাশন করতে খরচ পড়ে ৫৮ সেন্ট। যা বাংলাদেশের তুলনায় ৫৪ টাকা করে। অর্থাৎ প্রতি দশ লিটারে খরচ পড়ে সাড়ে পাঁচ টাকা করে। দখলদার জায়োনিস্ট ইসরাইলে প্রতিমাসে অবৈধ নাগরিকদের পানি সুবিধার জন্য ৩০ ডলার করে প্রদান করতে হয়। যার বাংলাদেশী মূল্য: দুই হাজার সাতশত নব্বই টাকা করে।

তাকবীরে তাহরীমা কুরআনের কোথায় আছে? জানুন

আশা করি, ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন হতে পারে। তখন হয়তো খরচ আরো কমবে। এতে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মানুষসহ পৃথিবীর বহু অঞ্চলের মানুষ আরো ভালো সুবিধা পাবে। তবে আমাদেরও কিন্তু পানির অপচয় কমাতে হবে। কথায় আছে, অপচয়কারী শয়তানের ভাই। কথাটা যেন মনে থাকে।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪০৭ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কিত ইংলিশে সকল সঠিক তথ্য জানতে আমাদের SS IT BARI- ভালোবাসার টেক ব্লকের আরেকটি সংস্করণ, US IT BARI- All About Healthy Foods ওয়েব সাইট টি ভিজিট করতে পারেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন –www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করেছি। বর্তমানে আমি ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.