শাওয়ালের ছয় রোজা কোন নিয়মে রাখতে হয় এবং রাখলে কি ফজিলত পাওয়া যায়

শাওয়ালের ছয় রোজা -মুসলমানদের নফল রোজার মধ্যেও অন্যতম রোজা হল শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা। শাওয়াল মাসের এই ছয়টি রোজা কে ইসলাম অনুসারীরা সাক্ষীও যা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। যদিও কোরআন হাদিসে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা কে সাক্ষী রোজা বলার কোন বিধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। শাওয়াল মাসের রোজা রাখা নবীর সুন্নত আদায় করা।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং সালালে আরো ছয়টি রোজা রাখবে তারা যেন পূর্ণ বছরে রোজা পালন করল।( মুসলিম ১১৬৪, আবু দাউদ ২৪৩৩, তিরমিজি নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সহিহ আলবানী)

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় মুসলমান ভিজিটর ভাই বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই? আশা করছি নিশ্চয়ই ভালো আছেন। সবাইকে SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ এর পক্ষ থেকে আজকের ব্লগে স্বাগতম। আমরা মুসলিম কিন্তু কোরআন হাদিসের অনেক বিধান সম্পর্কেই আমাদের ধারণা অপ্রতুলতার মধ্য একটি হলো শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখার নিয়ম এবং ফজিলত কি এই সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই যার কারণে আমরা এই ছয়টি রোজাকে অবহেলা করি।

তাই আজকে আপনাদের জন্য এই আর্টিকেলটি নিয়ে এসেছি। এই আর্টিকেলে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখার নিয়ম কানুন এবং ফজিলত কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়বেন এবং এই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অর্জন করতে পারবেন।

শাওয়াল মাসের রোজা কি

শাওয়াল অর্থ উচু উন্নত পূর্ণতা গৌরব করা বিজয়ী হওয়া। শাওয়াল মাসের আঙুল দ্বারা উন্নতি লাভ হয়, নেকির পাল্লা ভারী হয়।আল্লাহর কাছে ত্রিশটি রোযা রাখার পর এই মাসের ছয়টি রোজা রেখে প্রার্থনা করলে আল্লাহ খুশি হন।

রমজান মাসে ৩০ টি সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতে হয়। শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা যেন একটি বিরাট আমল এবং বিশাল অর্জন। যে ব্যক্তি রমজান মাসের ৩০ টি সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখবেন তিনি যেন সারা বছরের রোজার ছোয়াব পাবেন। শাওয়াল মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই রোজা করা যাবে ভেঙে ভেঙে।

রোজা থাকা অবস্থায় ঘুমের মতো স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভঙ্গ হবে কিনা?

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেছেন, যে রমজান মাসে রোজা রাখল এবং শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা পালন করলো সে যেন পুরো এক বছর রোজা পালন করল। (মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে হযরত ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম কি একদিন জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব?তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন,তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের রোজা রাখ তাহলেই তুমি সারা বছরের রোজা রাখার সওয়াব পাবে।( তিরমিজি ১/১৫৩৪)

মহান শরীয়ত প্রণেতা ফরজের আগে পরে নফল প্রবর্তন করেছেন।যেমন ফরজ সালাতের আগের পরের সুন্নতগুলো এবং রমজানের আগে সাবানের রোজা আর পরে শাওয়ালের রোজা।

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখার নিয়ম

রমজান মাসে ৩০ টি রোজা রাখার পর রোজা রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয় তাই ঈদের পরপর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখাই উত্তম। এই সময় শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখলে রোজায় কোন অনীহা আসে না। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। শাওয়াল মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কিংবা ধাপে ধাপে চাইলে কেউ রোজা রাখতে পারবেন।

মহরমের রোজা আমল ও ফজিলত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন,যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখার পরপরই শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা পালন করে তবে সে যেন সারা বছরই সিয়াম বা রোজা পালন করল। (তিরমিজি)

শাওয়াল মাসের রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখাই বেশি ফজিলত পূর্ণ। শাওয়াল মাস চলে গেলে তা কাজা করা জরুরী নয় যেহেতু তা কারো কাছে সুন্নত আবার কারো কাছে মুস্তাহাব।

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত

রহমতের মাস রমজান মাস চলে যাওয়ার পর আসে শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। মাহে রমজানের ৩০ টি রোজার ফজিলত পাওয়ার শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বছরের বাকি ১১ মাসের রোজা রাখার সোয়াব শাওয়াল মাসের ৬ রোজাদারকে দান করবেন।

৩৬৫ দিন রোজা রাখা আমাদের পক্ষে অসম্ভব তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সহজ সমাধান দিয়ে গেছেন। শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখলে ৩৬৫ দিনের সওয়াব পাওয়া যাবে।

কুরআনে বর্ণিত আছে,”আল্লাহ তোমাদের থেকে বিধান সহজ করতে চান। আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে। (সূরা নিসা আয়াত ৮)

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা পালনের পূর্বে রমজানের ভাংতি রোজা পালনীয়

রমজানে যারা কোন কারনে রোজা রাখতে পারেনি যাদের ভাঙতে রোজা আছে অসুস্থতা কিংবা নারীদের মাসিক তথা হায়েসজ নেফাজের কারণে রমজানে রোজা ভাংতি হয়েছে তাদের জন্য হাদিসে বর্ণিত আছে,”শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজা গুলো আগে পূর্ণ করে নেবে তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে।

শবে বরাতের আমল ফজিলত ও করণীয়

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে। সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাযা আদায় না করে।( আল মুগনী হাদিস ৪৪০)

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শাওয়াল মাসের ছয় রোজায় বছর জুড়ে রোজা রাখার ফজিলত পাওয়া যায়। তবে শাওয়াল মাসের এই ফজিলত সেই ব্যক্তির জন্যই কার্যকর হবে যে ব্যক্তি রমজান মাস জুড়ে ফরজ রোজা আদায় করেছেন এবং শাওয়াল মাসের রোজা পালন করেছেন।

যদি কোন ব্যক্তির রমজানের রোজা কাজা থাকে তাহলে তাদের জন্য শাওয়ালের রোজা রাখা জরুরী নয়। সেক্ষেত্রে আগে তাকে রমজানের ফরজ রোজা আদায় করে নেওয়া উচিত। তারপর সম্ভব হলে শাওয়ালের রোজা পালন করা উচিত।

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা সুন্নত। আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখতেন এবং তিনি তাঁর উম্মতকে শাওয়াল মাসের এই ছয়টি রোজা রাখার নির্দেশ দান করেন। শাওয়াল মাসের এই ছয়টি রোজা খুবই ফজিলত পূর্ণ।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

অনেক হাদিসেই এসেছে ৩০ টি রোজা রাখার পর যে শাওয়ালের রোজা ছয়টা রোজা রাখলেও সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল। তাই শাওয়াল মাসের এই রোজাকে কোনভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। মুসলিমদের জন্য নবীর সুন্নত পালন করা উচিত আর শাওয়াল মাসের এই ছয়টি রোজা নবীর অন্যতম সুন্নত তাই যারা শাওয়াল মাসে রোজা রাখেননি তারা ইনশাআল্লাহ শাওয়াল মাসে এই ছয়টি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন।

সচারচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: শাওয়ালের ছয় রোজা কি ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে?

উত্তর: শাওয়াল মাসের ছয় রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখা জরুরি নয়। তা বিচ্ছিন্নভাবেও রাখা যায়।

প্রশ্ন: রমজানের কাজা রোজা কি শাওয়াল মাসের রোজার আগে রাখতে হয়?

উত্তর: রমজানের কাজা রোজা আগে পালন করে শাওয়াল মাসের রোজা পালন করতে হবে।

প্রশ্ন: শাওয়াল মাসের ৬ রোজার ফজিলত কি?

উত্তর: শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখলে ৩৬৫ দিনের রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে।

শেষ কথা

সুপ্রিয় ভিজিটর ভাই বন্ধুরা যারা আজকের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়েছেন শাওয়াল মাসের ৬ রোজার নিয়ম ও ফজিলত এই বিষয়ে নিয়ে জানার আগ্রহ নিয়ে তারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আজকের আর্টিকেল থেকে পেয়েছেন। আজকের পোস্টটি যদি আপনাদের সামান্যতম উপকারে আসে তবে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে আমাদের ওয়েবসাইটটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।এবং আপনাদের যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন আমরা চেষ্টা করব আপনাদের কমেন্টের উত্তর দেওয়ার।

আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ এর সাথেই থাকবেন।

পোস্ট ট্যাগ-

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখার নিয়ম ও ফজিলত,শাওয়াল মাসের রোজা সম্পর্কে হাদিস,শাবান মাসের ফজিলত ও আমল,শাবান মাসের রোজা কয়টি,রজব মাসের ফজিলত,শবে বরাতের রোজা কয়টি,নফল রোজার নিয়ত।

আরও পড়ুন –

আ দিয়ে ছেলেদের অর্থসহ ইসলামিক নামের তালিকা

ই দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম এবং নামের অর্থ

প দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নামের অর্থসহ তালিকা ২০২৩

দুই অক্ষরের ছেলেদের অর্থসহ ইসলামিক নামের তালিকা দেখুন

আ দিয়ে মেয়েদের অর্থসহ ইসলামিক নামের তালিকা দেখুন

ক দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

ল দিয়ে মেয়েদের সুন্দর অর্থসহ ইসলামিক নাম ২০২৩

ব দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম এবং অর্থ

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন.

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 504 other subscribers

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে :এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে :এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।

SS IT BARI- টুইটার থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- লিংকদিন থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুম্বলার (Tumblr)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- পিন্টারেস্ট (Pinterest)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাইলে সাথেই থকুন : এখানে ক্লিক করুন।

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি মো:সানাউল বারী।পেশায় আমি একজন চাকুরীজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকুরীর পাশাপাশি গত ১৪ বছর থেকে এখন পর্যন্ত নিজের ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং নিজের ইউটিউব এবং ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করি। বিশেষ দ্রষ্টব্য -লেখার মধ্যে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে অবশ্যই ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ।