লো এবং হাই প্রেসার  হলে কী খাবার খাওয়া উচিত-হেপাটাইটিস বি রোগীর খাবার

লো এবং হাই প্রেসার-বর্তমান বিশ্বে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক ভাইরাস “হেপাটাইটিস”এর যত দ্রুত সংক্রমণ ঘটছে তার ভয়াবহতা এইডসের চেয়েও ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ নিয়ে গোটা মানবজাতির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা এবং কিডনি রোগীর খাবার

হেপাটাইটিস বা লিভারের একিউট এবং ক্রনিক সংক্রমণের জন্য দায়ী লিভার ভাইরাসগুলো হচ্ছে হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-ডি এবং হেপাটাইটিস-ই।

লো এবং হাই প্রেসার হলে কী খাবার খাওয়া উচিত 2

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে দুই বিলিয়ন বা ২০ কোটি লোক এই সমস্ত ক্ষতিকারক ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার। এদের মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন লোক ক্রনিক সংক্রমিত।

প্রতিবছর সারা বিশ্বে শুধু হেপাটাইটিস বি ও সি’র সংক্রমণে মারা যাছে সাড়ে ১০ লাখ মানুষ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগ নাগরিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি বাহক।

আজ আপনাদের জানাবো হেপাটাইটিস-বি রোগীর  খাবার , লো প্রেসার হলে কি খাবার খাওয়া উচিত,হাই প্রেসার হলে কি খাবার খাওয়া উচিত ও থাইরয়ডে রোগী খাবার  সম্পর্কে।

হেপাটাইটিস বি রোগীর খাবার

হেপাটাইটিস বি এমন একটি ভাইরাস যা আমাদের লিভারকে আক্রান্ত করে। এতে আক্রান্তরা কেউ কেউ অল্প সময়েই আরোগ্য লাভ করেন। আবার অনেকের রোগ ভালো হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আর এই দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণই বিপজ্জনক।

বিশেষ করে যখন শিশুরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তখন তারা দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসেই আক্রান্ত হয়। যার যথাযথ চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও হতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত এবং দেহ নির্গত যে কোনো ধরনের তরলের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। অরক্ষিত যৌন মিলন, মা থেকে শিশুর দেহে, আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুই, ট্যাটু করার যন্ত্র, রেজার বা টুথব্রাশ ব্যবহার করলে হেপাটাইটিস সংক্রমণ হতে পারে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো হলো জ্বরভাব, ক্লান্তি ও অবসাদ, মাথা ব্যথা, পেট ব্যাথা, ক্ষুধামান্দ্য, পাকস্থলিতে অস্বস্তি, বমি, কালো প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য ও তামাটে বর্ণের পায়খানা এবং হলুদাভ চোখ ও ত্বক। এসব লক্ষণের পর জন্ডিসও হয়।

লো এবং হাই প্রেসার হলে কী খাবার খাওয়া উচিত

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি। কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে লিভারের সমস্যা তৈরি হতে পারে। আপনি যদি উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। আর ওজন বেড়ে গেলে লিভারেও চর্বি জমা হতে পারে।

যে দশাকে বলা হয় ফ্যাটি লিভার। এই রোগ থেকে রেহাই পেতে হলে যে খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে চলতে হবে…..

১. পূর্ণ শস্য পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য ভিটামিন, আঁশ, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ পুষ্টি উপাদান ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এছাড়া এই জাতীয় খাদ্যে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক এবং কপারও রয়েছে প্রচুর। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত লোকেরা দূর্বলতা ও অবসাদে ভোগেন। সুতরাং পূর্ণ খাদ্য শস্য জাতীয় খাদ্য তাদের জন্য বেশি উপকারী হবে।

২. ফলমূল হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের প্রচুর পরিমাণে ফলমূল খাওয়া উচিত। আপেল, কমলা, আঙ্গুর এবং কলা নিয়মিত খাওয়া উচিত তাদের। আপেল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ঠাণ্ডা-সর্দি থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

কমলাতে থাকা ভিটামিন সি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক। কলার রয়েছে উচ্চ তাপন মূল্য। আঙ্গুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি১, বি২, বি৬, সি এবং পি আছে যা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৩. সবজি সবজি হজম করা সহজ। এ ছাড়া সবজিতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা লিভারের কোষগুলো নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। শাক-লতা-পাতা, গাজর, মাশরুম এবং প্রাকৃতিক ছত্রাক খেলে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে। সেলারি শাক, টমেটো, সামুদ্রিক শৈবাল এবং বাঁধাকপি এড়িয়ে চলাই ভালো। আর আলুও কম করে খেতে হবে।

শিশুদের কোন বয়সে কি খাবার খাওয়াবেন ?

৪. অলিভ অয়েল হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ট্রান্স-ফ্যাটজাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। কারণ এই জাতীয় খাবার উচ্চহারে সুসিক্ত। পাম অয়েলের মতো কিছু তেল এমন উচ্চহারে সুসিক্ত। এর সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে অলিভ অয়েল। প্রতিদিন ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ক্যানোলা বা শ্বেত বীজের তেলও খাওয়া যেতে পারে। তবে সরিষার তেলেও কোনো সমস্যা নেই বললেই চলে।

৫. চর্বিহীন মাংস লিভার সুস্থ রাখার জন্য চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। লাল মাংস না খেয়ে মুরগির মাংস খাওয়াই ভালো।

৬. ডিম ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত এবং নতুন টিস্যু তৈরিতে প্রোটিন জরুরি। আর ডিম হলো সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন উৎস। সুতরাং হেপাটাইটিস বি রোগীদের জন্য ডিম খাওয়াটা নিরাপদ।

৭. সয়া সয়া জাতীয় খাদ্য লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তবে বেশি খেয়ে ফেলবেন না যেন আবার। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি রোগীদের জন্য আরো যেসব খাদ্য স্বাস্থ্যকর সেগুলো হলো, বাদাম, বীজজাতীয় খাদ্য, মাছ, পোলট্রি, টোফু, দুধ, দই পনির। হেপাটাইটিস রোগীদের প্রতিদিন তিনবেলা প্রধান খাবার গ্রহণ করা উচিত। এতে ক্ষুধা না মিটলে অল্প করে আরো দুই তিন বেলা খাবার খাওয়া যেতে পারে।

লো  প্রেসার  হলে কী খাবার খাওয়া উচিত

লো প্রেশার কিংবা হাই প্রেশার দুটোর স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর। অনেকেই মনে করেন দুর্বল স্বাস্থ্য যাদের, তারা নিম্ন রক্তচাপে ভুগে থাকেন। তবে এটা সত্য নয়। স্থুল মানুষেরও নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশার থাকতে পারে। সাধারণত সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মি. মি. মার্কারি ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মি. মি. মার্কারির নিচে হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়।

লো এবং হাই প্রেসার হলে কী খাবার খাওয়া উচিত

লো প্রেশারের ফলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। তাই প্রেসার কমে গেলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বেশ কিছু ধরনের খাবার আছে যেগুলি খেলে প্রেশার স্বাভাবিক হবে। জেনে নিন কী খাবেন—

১।তরল খাবার

শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে রক্তচাপ নেমে যেতে পারে। ফলে দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা। তাৎক্ষণিকভাবে এই সমস্যা দূর করতে ফলের রস, স্যুপ, মিষ্টি পানীয়, কফি খেতে পারেন। এতে রক্তচাপ স্বাভাবিক হবে।

২।ফোলেট রয়েছে এমন খাবার

ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের পুষ্টি উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখে। রক্তাল্পতার সমস্যাও এড়ায় এই ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের পুষ্টি উপাদান। লেবু জাতীয় ফল, শাক, মেটে আলু, মুসুর ডাল এবং সিদ্ধ ডিম হলো ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার। রক্তচাপ কমে যাওয়ার সমস্যা হলে এগুলো তাৎক্ষণিক খেতে পারেন।

৩।লবণ জাতীয় খাবার

খাবারে লবণ থাকলে তা রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। কটেজ চিজ, স্মোকড ফিশ, আচার ইত্যাদি খেতে পারেন। এছাড়াও এক গ্লাস পানিতে দুই চা চামচ চিনি ও এক-দুই চা চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে রক্তচাপ বাড়বে। প্রয়োজনে প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ বাড়ান।

৪।ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার

খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার কম থাকলে রক্তাল্পতার আশঙ্কা দেখা দেয়। তা থেকেও রক্তচাপ কম হয়ে যেতে পারে। সেই জন্য ডিম, চিকেন ব্রেস্ট, দই, বিফ লিভার, স্যামন মাছ ইত্যাদি খেতে পারেন। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ রয়েছে।

এছাড়াও বাদাম, কিসমিস, মধু, খাবার স্যালাইন খেতে পারেন। যা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে সাহায্যে করবে।

হাই প্রেসার হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা রোগ দানা বাঁধে। বিশেষত, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকেরা, উচ্চ রক্তচাপকে সাইলেন্ট কিলার বলে থাকেন। এই রোগ শরীরে একবার বাসা বাঁধলে নিমেষে শেষ হয়ে  যাবে জীবন।

হাইপারটেনশন কখন আপনার শরীরে প্রবেশ করেছে তা বোঝার আগেই শরীরে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে অজান্তেই। তবে নিত্যদিনের জীবন যাপনে সামান্য কিছু রদবদল আনলেই বাঁচতে পারবেন  মারণ রোগের হাত থেকে। মুঠো মুঠো ওষুধ না খেয়ে ব্রেকফাস্টের অতি সামান্য ৫ খাবারেই রোগ থাকবে আপনার বশে।

১।দই

দই স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী সেকথা সকলেই জানেন, শরীর-স্বাস্থ্যই শুধু নয়, উচ্চ রক্তচাপের জন্য ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফল দিয়ে দই খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে এটি খাওয়ার সময় যতটা সম্ভব চিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। বাজারের কেনা দইয়ের বদলে ঘরেপাতা টক দই শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

২।ডিম

ডিম খাওয়া শরীরের জন্য ভাল তেমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ডিমের সাদা অংশ উচ্চ রক্তচাপের জন্য ভাল। চাইলে হালকা শাক-সব্জি মিশিয়েও খেতে পারেন।

৩।ওটস

দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার।প্রাতঃরাশে সব সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সেরা বিকল্প। ব্রেকফাস্টে ওটস খাওয়া খুবই ভাল।

এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য দারুণ কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপ বেশি থাকলে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ওটসের মধ্যে সোডিয়াম কম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য দারুণ কার্যকরী।

৪।বাদাম

আখরোটবাদাম এবং নানা ধরনের বীজ খাওয়াটা শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাদামে যেমন ফ্যাট থাকে,তেমনই প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে। এছাড়াও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ আখরোট উচ্চ রক্তচাপের জন্য ভালো।

ব্রেকফাস্টের জন্য লো ফ্যাটযুক্ত দুধ বা বাদাম খেতে পারেন। কুমড়োর বীজ, স্কোয়াশ বীজ, পেস্তা, বাদাম, কাজু এবং আখরোট উচ্চ রক্তচাপ কমাতে খুব উপকারী।

৫।কলা

কলা শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। কলায় সোডিয়াম না থাকার কারণে এটি হৃদরোগ কমাতেও সহায়তা করে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ এবং সোডিয়াম কম থাকা ডায়েট উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

থাইরয়েড রোগীর খাবার  তালিকা

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় কম বের হলে বা ঘাটতি হলে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। দেহে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া, মুখ ফুলে যাওয়া, কাজকর্মে ধীরগতি চলে আসা ইত্যাদি সমস্যা হয়।

সেক্স বৃদ্ধির খাবার সুমহ এবং প্রাকৃতিক ভাবে বীর্য উৎপাদন করার উপায় গুলো যেনে নিন

তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পূরণে কাজ করবে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপটেন হোম রেমিডি জানিয়েছে এসব খাবারের নাম।

১. নারকেল তেল

নারকেল তেলের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি এসিড। এটি থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এটি থাইরয়েড হরমোনকে উদ্দীপ্ত করে; গ্রন্থির কার্যক্রমে ভালো করে। নারকেল তেলকে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। বিভিন্ন চকলেট, স্মুদিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতিদিন তিন টেবিল চামচের বেশি নারকেল তেল খাবেন না।

২. দই

ভিটামিন-ডি থাকার কারণে দই থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য আরেকটি ভালো খাবার। ভিটামিন-ডি-এর ঘাটতিতে হাসহিমোটোস রোগ হয়। এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি বড় কারণ।

৩. স্যামন মাছ

স্যামন মাছ থাইরয়েড স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে বেশ ভালো খাবার। এর মধ্যে আছে প্রদাহরোধী উপাদান। আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকার কারণে স্যামন মাছ অনেক উপকারী।

৪. বাদামি ভাত

কার্বোহাইড্রেট সরাসরি থাইরয়েডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাওয়া জরুরি। এ জন্য লাল চালের ভাত বা বাদামি ভাত খেতে পারেন। এটি হজমের সমস্যা সমাধান করবে।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

অনেক সময় থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে হজমের সমস্যা হয়। তবে থাইরয়েড ওষুধ খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. ডিম

ডিম তিনটি পুষ্টির খুব ভালো উৎস—টাইরোসিন, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। এগুলোর অভাবে থাইরয়েডে সমস্যা হয়। ডিম খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম ভালোভাবে হয়।

৬. গ্লুটেইন মুক্ত শস্য

গ্লুটেইন হল এক ধরনের প্রোটিন যা খাদ্যশস্যে থাকে। আটা বা ময়দা পানিতে গোলানোর পর যে আঠালো ভাব হয় তার প্রধান কারণ গ্লুটেইন।

ওটস ও ভাত ইত্যাদি গম বা গ্লুটেইন ধর্মী খাবারের চেয়ে থাইরয়েডের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।

৭.মাশরুম

প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি’য়ের সবচেয়ে ভালো উৎস হল সূর্যালোক। আর খাবারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি রয়েছে মাশরুমে। এটা ভিটামিনের সবচেয়ে ভালো ভেষজ উৎস যা থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া ডিমের কুসুম সামুদ্রিক খাবার যেমন- টুনা ও স্যামন মাছ এবং দুগ্ধ-জাতীয় খাবারও এই ভিটামিনের ভালো উৎস।

থাইরয়েড রোগ নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর

১। প্রশ্নঃথাইরয়েড কি?

উত্তরঃ থাইরয়েড রোগটি মূলত হরমোন জনিত সমস্যা। এ থাইরয়েড হরমন কমে গেলে থাইরয়েড রোগটি হয়ে থাকে।

আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরণের গ্রন্থি থাকে। এগুলো থেকে হরমন রস নিঃসৃত হয়। তেমনি হচ্ছে থাইরয়েড গ্লান্ড।

এটি গলার সামনে থাকে এবং প্রজাপতির মতো গ্লান্ড। এই গ্লান্ড থেকে বিভিন্ন ধরণের রস নিঃসৃত হয়ে গলের ভিতরে প্রবেশ করে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি করে।

২। প্রশ্নঃথাইরয়েড রোগ কত প্রকার?

উত্তরঃ  মূলত থাইরয়েড হরমোনটি যদি সঠিক মাত্রায় না থাকে, তাহলেই থাইরয়েড রোগটি দেখা যাবে।

১. Hypo Tyroidisom: থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে তাকে বলা হয় হাইপো থাইরয়েডিজম।

২. Hyper Thyroidisom: থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি পেলে তাকে বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম।

৩।হাইপো থাইরয়েড রোগের লক্ষণ কি কি?

উত্তরঃ  থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হচ্ছেঃ অনেকের ওজন কমে যায়, অনেকের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, বেশি বেশি ঘুম পায়, অনেকের কাজ করতে গেলে কথা ভুলে যায়, অনেকের চুল পড়ে যায়। এগুলো সাধারণত দেখা যায় হরমোন কমে গেলে।

এছাড়াও আরও বড় সমস্যা দেখা যায়। যা হচ্ছেঃ অনিয়মিত মাসিক ও বেশি মাত্রায় রক্তক্ষরণ এবং ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্বতা।

আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয় যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি।

৪।প্রশ্নঃ হাইপো থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা কি?                    

উত্তরঃ  যখন হাইপো থাইরয়েড নিয়ে কোন রোগী ডাক্তারের কাছে যান সাধারণত তখন ডাক্তাররা রোগীকে একটা চার্ট পড়তে দেন। সেইটা পড়ার পর তারা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেন।

থাইরয়েডের চিকিৎসাতে ডোজের একটা বিষয় থাকে রোগী যদি বাচ্চা হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসা হবে একরকম। আবার রোগী যদি পূর্ণ বয়স্ক হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসা হবে আরেক রকম।

থাইরয়েডের চিকিৎসার সময় প্রেগন্যান্ট মহিলারা থাইরয়েড চিকিৎসা করাতে চান না। তারা প্রশ্ন করেন যে যেহেতু প্রেগন্যান্সি টাইমে যেকোন ঔষুধ বাচ্চা বা মায়ের ক্ষতি করতে পারে, তাই তারা ট্রিটমেন্ট করাতে চান না।

থাইরয়েড হরমোনের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ঔষধ রয়েছে। এগুলো সেবনেরও আরও বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে। থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ খাওয়ার পরে পরবর্তী দুই ঘন্টা আর কোনো কাজ বা ওষুধ খাওয়া যাবে না।

৫।প্রশ্নঃ হাইপার থাইরয়েডের লক্ষণ কি কি?

উত্তরঃ হাইপার থাইরয়েডে হরমোনের আধিক্য দেখা যায়। এতে করে যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায় তা হচ্ছে অস্থির লাগে, অতিরিক্ত ঘামে, বুক ধড়পড় করে, হাতের তালু ঘামে, অতিরিক্ত পায়খানা হয়, খাওয়ার অনেক রুচি থাকার পরও ওজন কমে যাওয়া, অনিয়মিত মাসিক ইত্যাদি।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে চুল পড়ে যায় এবং চোখ সামনের দিকে চলে আসে।

৬।প্রশ্নঃ হাইপার থাইরয়েডের চিকিৎসা কি?

উত্তরঃ  হাইপার থাইরয়েডের চিকিৎসায় অনেক ঔষধ ব্যবহার হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে যে কতদিন যাবত ওষুধ গুলো তাকে খেতে হবে।

ডাক্তাররা সাধারণত বলে থাকেন যদি কোন রোগী টানা দুই বছর এ রোগের চিকিৎসার ওষুধ নিয়ে থাকে, তাহলে এ রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া যাবে।

এ রোগের চিকিৎসায় প্রথমদিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ঔষধ দেয়া হয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তা কমানো হয়ে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রেই এতেই রোগটি নিরাময় হয়ে থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সার্জারিরও প্রয়োজন হয়ে থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে থেরাপিও দেওয়া হয়ে থাকে।

৭।প্রশ্ন: থায়রয়েড গ্লান্ড এবং এর রোগ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর: থায়রয়েড গ্লান্ড মানব শরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড। সময়মতো নির্ণয় করতে পারলে এ রোগ সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

গর্ভকালীন অবস্থায়: মায়ের হাইপোথায়রয়েডিজমের কারণে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়া বাচ্চার মধ্যে থায়রয়েড গ্লান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা যায়। ক্রিটিনিজমের লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাংসপেশী ও হাড় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বর্ধন না হওয়া। এর ফলে শিশু বেঁটে হয়, বোকা বা বৃদ্ধিহীন হয়ে থাকে। জিহ্বা বড় ও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নাভির হার্ণিয়া (Hernia) হয়।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হরমোনটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে; থায়রয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। একজন শিশু যদি ছোটবেলা থেকে এর অভাবে ভোগে তাহলে সে প্রতিবন্ধী হয়ে বড় হবে। যদি তাকে চিকিৎসা দেওয়া না হয় সে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে।

বড়দের ক্ষেত্রে প্রজননে অক্ষমতা, মহিলাদের মাসিক সমস্যা; বাচ্চা পেটে নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।

৮।প্রশ্ন: আয়োডিনের সাথে থায়রয়েড গ্লান্ডের সম্পর্ক কী?

উত্তর: আয়োডিন থায়রয়েড হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান। আয়োডিন যদি কম থাকে গ্রন্থি চেষ্টা করবে শরীরের হরমোনকে স্বাভাবিক রাখতে। সেক্ষেত্রে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে। যাকে হাইপাট্রোফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে এবং হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। করতে করতে এক সময় আর স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হাইপোথায়রয়েডডজম হয়ে।

৯।প্রশ্ন: থায়রয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনে পাঠানো হয় কেন?

উত্তর: নিউক্লিয়ার মেডিসিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন রোগীকে খাওয়ানোর পরে নির্দিষ্ট সময় পর কত শতাংশ অপটেক হচ্ছে থায়রয়েড গ্রন্থিতে এটি দেখা হয়। দেখে বলা যায় এর কার্যকারিতা কম না বেশি।

এছাড়া থাইরয়েডের স্ক্যান করা হয়, এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় টেকনেশিয়াম রোগীকে দেয়া হয়। এটি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পরে গামা ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করা হয়। গামা ক্যামেরা হলো এমন একটি ক্যামেরা যে গামা-রে দিয়ে ছবি নিতে পারে। স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা হয় থায়রয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন সমস্যা। আর যদি কোনো নডিউল থাকে এর কার্যকারিতা কেমন সেটিও দেখা যায়।

১০।প্রশ্ন: হাইপোথায়রয়েডডজম বা হাইপার থায়রয়েডডজমের বেলায় কি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কোন প্রভাব রয়েছে?

উত্তর: সাধারণত হাইপোথায়রয়েডডজমে চিকিৎসা হলে থায়রয়েড হরমোন পরিপূর্ণ। এই চিকিৎসা একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞ করতে পারে। এখানে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের আলাদা করে কোনো ভূমিকা নেই। তবে যখন হাইপার থায়রয়েডডজম বা ক্যান্সারের বিষয়টি আসে, সেখানে শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং গ্লান্ড নষ্ট।

আপনার জন্য –

শর্করা । অ্যালার্জি। ভিটামিন সি। ক্যালসিয়াম। আমিষ। প্রাণীজ আমিষ। আঁশ জাতীয় খাবারের তালিকা সহ বিস্তারিত

সুষম খাবার কাকে বলে? সুষম খাবারের উপাদান সহ সুষম খাবার সম্পর্কে সকল তথ্য

প্রোটিন জাতীয় খাবার সহ গর্ভবতী মায়ের খাবার সম্পর্কে বিস্থারিত জানুন

৬ মাস থেকে ৫ বছরের বাচ্চার খাবার নিয়ে   দুশ্চিন্তা দিন শেষ

বাচ্চার পুষ্টি নিয়ে ভাবছেন?অধিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ বাচ্চার খাবার তালিকা

নবজাতক শিশুর যত্ন ও পরিচর্যায় বাবা-মার করণীয়

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪০৭ other subscribers

pp

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখি করি। এর আগে বিভিন্ন পোর্টালের সাথে যুক্ত থাকলেও, SS IT BARI-আমার হাতেখড়ি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে ভিজিট করুন http://ssitbari.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.