লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় (লেবু পানির উপকারিতা)

5/5 - (4 votes)

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায়-অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।শরীরকে ফিট রাখতে হলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।অনেকেই মনে করেন শরীরের মেদ বেড়ে গেলে কিংবা ওজন বেড়ে গেলে তা কমিয়ে আনা খুব কষ্টকর কাজ  কিন্তু এই ধারণা একদমই ভুল শরীরের ওজন কিংবা অতিরিক্ত মেদ কমাতে হলে খুব সহজেই ঘরোয়া কিছু উপাদান লাগে এবং খাবারের নিয়ন্ত্রণ শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক।ওজন কমানোর জন্য লেবু  কতটা উপকারী তা অনেকেরই জানা।

এই লেবু দিয়েই আপনি শরীরের অতিরিক্ত মেদ ওজনকে কমাতে পারেন।লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জানলেই আপনার জন্য ওজন কমানো খুব বেশি কঠিন হবে না।লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।এছাড়াও শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে প্রতিদিন লেবু পানি পান করার কোন বিকল্প নেই।লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জানা থাকলে আপনাকে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কোনো ওষুধ সেবন করতে হবে না।

বর্তমানে ফিটনেস অনেক বেশি জনপ্রিয় একটি বিষয়। অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য কতটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এই সম্পর্কে এখন মানুষ সচেতন হওয়ায় শরীরকে ফিট রাখার জন্য শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য দিকনির্দেশনা খুঁজে থাকেন।অনেকেই তো তার কারণে কিংবা গৃহিণী যারা রয়েছেন তাদের পক্ষে ওজন কমানোর জন্য অনেক বেশি সময় নিয়ে কিছু করা সম্ভব হয় না।তাই ঘরোয়া ভাবে কিভাবে সহজে ওজন কমানো যায় এটি অনেকেরই প্রশ্ন।

তাই আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করব একটি কমন উপাদান লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে।লেবু কমবেশি সবার বাড়িতেই থাকে তাই লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জানা থাকলে অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ হবে।

লেবু পানি খাওয়ার নিয়ম

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায়

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় খুঁজলে ঘরে অবশ্যই লেবুর রাখুন।শরীরের ওজন কমানোর জন্য লেবু খুবই উপকারী।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু পানি খেয়ে নিন এতে করে দ্রুত ওজন কমবে।এছাড়াও লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আর ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এটা আমরা সবাই জানি।আপনি যদি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবু পানি পান করেন তাহলে শরীরের বাড়তি ওজন কমার পাশাপাশি কোষকে ক্ষতিকারক ফ্রী রেডিকল থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

শরীরের ফ্যাট কমাতে লেবু

লেবু দিয়ে দ্রুত ওজন কমানোর একটি কৌশল হল সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা।এক্ষেত্রে লেবুর রসের পরিমাণ এক কাপ পানির অর্ধেক হতে পারে কিংবা এর চেয়ে সামান্য কমও হতে পারে।বাসি পেটে এই লেবু পানিটি ফ্যাট কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী।

শরীরকে হাইড্রেট রাখে লেবু

আপনি যদি প্রতিদিন লেবু পানি পান করেন তাহলে আপনার শরীর হাইড্রেট থাকবে কারণ লেবু পানি পান করার ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। লেবু শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে।শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে গেলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে যায়।

হজম শক্তি বাড়াতে লেবু

হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবু পানি খাবেন।যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে এই লেবু পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে। ওজন কমানোর পাশাপাশি লেবু পানি হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

দ্রুত ওজন কমাতে খালি পেটে লেবু পানি

যারা ফিটনেস সচেতন এবং ওজন দ্রুত কমাতে ইচ্ছুক প্রতিদিনের রুটিন হবে ঘুম থেকে উঠেই লেবু পানি পান করা।দিনের শুরুটি হবে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মেশানো পানীয় দিয়ে। লেবু একটি সাইট্রাস জাতীয় ফল এতে ভিটামিন সি থাকে।এছাড়াও লেবুতে প্রাথমিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকল থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।তাই প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে এতে করে শরীরের রূপ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বেশি থাকবে তেমনি দ্রুত শরীরের বারতি মেদ কমে যাবে এর সাথে সাথে ওজনও কমবে।লেবু দিয়ে ওজন কমাতে হলে লেবু পানি পান করার সঠিক নিয়ম জানতে হবে।

*একটি পাত্রে ৪০০ মিলিমিটার পরিমাণ পানি কুসুম গরম করে নিন।

*কুসুম গরম পানিতে দুই চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তবে লেবুর রসের সাথে চা চামচ পরিমাণ মধু মেশাতে পারেন।

*প্রতিদিন সকালে নাস্তা করার অন্তত ঘন্টা আগে লেবু পানি পান করতে হবে।

*লেবু পানির সাথে যদি এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পারেন তাহলে শরীরে ক্যালোরি প্রবেশ করতে পারবে না কেননা মধু মেশানো পানি খেলে ক্ষুধা কম লাগে।

*তবে খেয়াল রাখতে হবে যদি আপনি অতিরিক্ত এসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে লেবু পানি পান করা বন্ধ রাখতে হবে। কারণ এতে এসিডিটি বাড়তে পারে।

ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা

অনেকে বিশ্বাস করেন লেবু পানি শুধুমাত্র খালি পেটে খেলেই উপকার পাওয়া যায়, ভরা পেটে লেবু পানি খেলে কোনো উপকার নেই আসলে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। হ্যাঁ এটা সত্য লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় হিসেবে সকালে খালি পেটে লেবু পানি পান করা উত্তম। ভরা পেটে খেলে যে কোনো উপকারী আসবে না এই ধারণা সঠিক নয়। লেবু হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে এছাড়াও হজম শক্তি বাড়াতে এবং ভিটামিন সি করতে লেবুর গুনাগুন নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অর্থাৎ আপনি লেবু ভরা পেটে খালি পেটে যেভাবেই পান করুন না কেন লেবুর যে গুনাগুন তা আপনার শরীরে পৌঁছাবে।তবে শরীরের ওজন কমাতে যদি আপনি লেবু পানি প্রতিদিন পান করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আমার পরামর্শ প্রতিদিন বাসি পেটে লেবু পানি পান করলে ওজন দ্রুত কমবে।

রাতে গরম পানিতে লেবু খাওয়ার উপকারিতা

লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেরই অনেক ধারণা রয়েছে।বিশেষ করে ওজন কমাতে যদি লেবু পানি পান করা হয় সকলের পরামর্শ সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসি পেটে লেবু পানি পান করতে হবে।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় প্রসঙ্গে অনেকেই জানতে চায় রাতে লেবু পানি পান করা কি সঠিক কিনা।ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল হল লেবু যাতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবু সাহায্য করে। এছাড়াও হৃদরোগ, ক্যান্সার, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে লেবু সহায়তা করে।এখন প্রশ্ন থাকতে পারে লেবু পানি রাতে পান করলে কোনো উপকার হবে কিনা।এর উত্তর হবে অবশ্যই লেবু পানি আপনি পান করতে পারেন। লেবু পানি রাতে পান করার ফলে লেবুর মধ্যে থাকা সকল গুনাগুন আপনার শরীরে পৌঁছাবে।

তবে যখন ঘুমাতে যাবেন তার ঠিক আগে আগেই পানকড়া থেকে বিরত থাকবেন।ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে লেবু পানি পান করবেন।এছাড়াও যাদের এডিটির সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য রাতে লেবু পানি পান না করাই ভালো।

ঠান্ডা পানিতে লেবু খাওয়ার উপকারিতা

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জানার পাশাপাশি সুস্থ রাখতে লেবু আরও কিভাবে খাওয়া যায় সেটিও জানা জরুরি।অনেকেই জানেন না ঠান্ডা পানিতে লেবু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।এছাড়াও শরীর থেকে ডিহাইড্রেশন দূর করতে লেবু অনেক বেশি  কার্যকরী। বর্তমানে প্রচন্ড গরমে সবার অবস্থাই খারাপ আর এই সময় যদি এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা হয় তাহলে শরীরের পানির অভাব পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীর হাইড্রেট থাকবে।এছাড়াও প্রচন্ড পরিশ্রম করার পর যখন শরীর থেকে ঘাম ঝরে তখন যদি ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মেশানো পানি পান করা যায় তাহলে অনেকটাই ক্লান্তি দূর হয়।

দিনে ১০ কেজি ওজন কমানোর উপায়

আপনি যদি দ্রুত ওজন কমাতে চান আপনাকে আদা জল খেয়ে নামতে হবে অতিরিক্ত ওজন কমানোর মিশনে। অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য শুধুমাত্র ঘরোয়া উপকরণী নয় বরং আপনার খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আপনাকে প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে সময়মতো ঘুমাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জানা থাকা আপনার জন্য যথেষ্ট নয়।এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিদিনের খাবার তালিকা হয় আদর্শ ডায়েট চার্টের মত।প্রতিদিনের খাবার থেকে অবশ্যই তো অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। সাত দিনের দশ কেজি ওজন কমাতে হলে যা যা করণীয় তা দেখে নিন –

১) জাঙ্ক ফুড কে না বলতে হবে।

২) প্রতিদিন একই সময় খেতে হবে এবং খাবার অবশ্যই চিবিয়ে খেতে হবে।

৩) খাবার তালিকা থেকে ক্যলরি বাদ দিতে হবে।

৪) ক্ষুধা লাগার আগে খাবার খাওয়া যাবেনা।

৫) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।প্রতিবার খাবার আগে এক গ্লাস পানি পান করতে হবে যাতে পেট খাবারে ভরে যায়।

৬) অধিক কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।

৭) রাতে সর্বনিম্ন এক ঘন্টা ঘুমাতে হবে।এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠা যাবেনা।

৮) দ্রুত ওজন কমাতে শারীরিক ব্যায়াম করার প্রচুর প্রয়োজন। সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ব্যায়াম করতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা ব্যায়াম করা জরুরী।

ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়

ব্যায়াম করা ছাড়াও দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব।অনেকেই আছেন ওজন কমাতে চান কিন্তু ব্যায়াম করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।তারা ডায়েট করে ওজন কমাতে পারেন।তবে ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে হলে লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় বেছে নিতে পারেন। যদি ডায়েট করেও ওজন কমানো সম্ভব না হয় তাহলে কি করব?ব্যায়াম,ডায়েট ছাড়াও ওজন কমানো সম্ভব।

ডাক্তারদের মতামত অনুসারে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে কমানো বেশি উত্তম।ধাপ করে তো বন্ধ করে না দিয়ে বরং অল্প অল্প করে খাবারদাবার কমিয়ে আনা জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে ওজন কমানো ভালো।

যারা শারীরিক ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে চায় অবশ্যই তাদেরকে তরল ক্যালোরি ত্যাগ করতে হবে। অনেকেই আছেন কফি খোর কিংবা চা খোর তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে।তাই ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে চা কফি বাদ দিতে হবে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।এছাড়াও লেবু দিয়ে ওজন কমাতে পারেন।লেবু দিয়ে ওজন কমানোর একটি উপায় হল প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সকালে লেবু পানি পান করা।প্রতিদিন সকালে উঠে আপনি লেবু পানি পান করেন  তাহলে  সকালে কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে  তা দূর হয়ে যেতে পারে।

আপনার পক্ষে ব্যায়াম করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে আপনাকে পরিশ্রমী হতে হবে বিশেষ করে দ্রুত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে যদি শারীরিক ব্যায়াম করা সম্ভব না হয় তাহলে তাকে এমন কোনো কাজ বাছাই করতে হবে যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে।আপনি প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে নিচে ওঠা নামা করেও শরীর থেকে ঘাম ঝরাতে পারেন।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে আপনি যদি খাবারে অতিরিক্ত তেল, মসলা, প্যাকেটজাত উপকরণ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে তা আজ থেকেই বাদ দিন।কারণ এটি কমানো তো দূরে থাক ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে তা না হলে দেহের বিপাকক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার আগে প্লাস পানি পান করুন এতে করে কম খাবারেই পেট ভরে যাবে।

ওজন কমানোর আরো একটি কৌশল হল ঘুম। আমেরিকান গবেষণায় প্রমাণিত তারা প্রতি রাতে সাড়ে ছয় ঘন্টা থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমায় তাদের দেহে একেবারেই চর্বি থাকে না।

খাবার খাওয়ার সময় ভালোমতো না চিবিয়ে গিলে ফেললে হজমজনিত সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি শরীরে ওজন বৃদ্ধি পায় তাই সবসময় গেলে খেয়াল রাখতে হবে খাবার যাতে ভালোমতো চিবিয়ে খাওয়া হয়।এতে করে হজম শক্তি ভালো থাকবে। অল্প খাবারই পেট ভরবে।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশি বেশি শাক-সবজি খেতে হবে।এছাড়াও ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেল সবজি প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে হলে অবশ্যই চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার কে না বলতে হবে।ওজন বাড়ানোর জন্য চিনি প্রথম স্থানে আছে।তাই যারাব্যায়াম ছাড়া ওজন কমাতে চান একবারে না পারলেও ধীরে ধীরে মিষ্টি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায়

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায়  জানার পাশাপাশি জানা জরুরি কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য যায়।প্রাকৃতিক উপায়ে ফিটনেস ধরে রাখা খুব কঠিন নয়।ডাক্তারের ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমালে স্বাস্থ্যসম্মত।প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর কিছু নিয়ম জেনে নিন;

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম

প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত ওজন কমাতে ব্যায়াম করার উপকারিতা অনেক। কম করে হলেও প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত হাঁটা,কার্ডিউব্যায়াম যেমন;জগিং, সাইকেলিং, দৌড়ানো, পাওয়ার ওয়াকিং বা হাইকিং এই ব্যায়ামগুলো করলেই শরীরের ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও মানসিক স্ট্রেস মুক্ত থাকতে হবে মানসিক  দুশ্চিন্তা ওজন বৃদ্ধি করে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করে। যাদের অভ্যাস আছে তারা দুধ চা কিংবা রং চা বাদ দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। গ্রিন টি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে শরীরের মেদ কমাবে।গ্রিন টি পান করলে পচনতন্ত্রে জমে থাকা ক্ষতিকর যেসব পদার্থ রয়েছে তা শরীর থেকে বের হয়ে যায়।তাই প্রতিদিন কালো চা,দুধ চা,কফি  খাওয়া বাদ দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে দ্রুত  ওজন কমাতে হলে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

প্রতিদিন যদি এক কেজি ওজন কমাতে হয় তাহলে অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।অবশ্যই প্রতিদিন ঠিক সময়ে ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ ডিনার করতে হবে এবং কোন বেলাতেই অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা।দুধ মিষ্টি অ্যালকোহল ২৪ ঘন্টার খাবারে রাখা যাবেনা।

পরিমাণমতো ঘুম

ওজন কমানোর একটি অন্যতম কৌশল হল সঠিক সময়ে পরিমাণমতো ঘুম।ঘুম কম হলে শরীরের ওজন বাড়বে  এছাড়াও শারীরিক অনেক অসুস্থতাও দেখা দেয়। তাই রাতে অন্তত ৭ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।

প্রশ্ন উত্তর

গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা

আমরা জানি গরম পানিতে মিশিয়ে যদি সকালে বাসি পেটে পান করা হয় তাহলে দ্রুত কমে। তবে প্রতিটি জিনিসেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। সকালে গরম পানিতে লেবু আর যেমন উপকার রয়েছে তেমনি অপকারিতাও রয়েছে। যেমন-

*বাসি পেটে লেবু পানি খেলে ক্ষতিকর এনজাইম তৈরি হয়।

*গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খেলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

*অতিরিক্ত গরম পানির লেবু মেশানো পান করার ফলে শরীরের হাড়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

*লেবু মেশানো গরম পানি পান করলে মাইগ্রেন সমস্যা হতে পারে।

*প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম পানিতে লেবু মেশানো খেলে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

*লেবু মেশানো গরম পানিতে অম্বল তৈরি হবে।

*গরম পানিতে মেশানোর লেবু পানি খেলে পেট খারাপ হতে পারে।

অতিরিক্ত লেবুর রস খেলে কি সমস্যা হতে পারে?

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় জেনে অনেকেই যে ভুলটি করেন সেটি হলো সারাদিনে অনেক বেশি লেবু কে থাকেন এতে করে লেবুতে থাকা এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে দাঁত কে ভেতর থেকে দুর্বল করে তুলে।এছাড়াও লেবুর এসিড নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে গ্যাস, বদহজম, অম্বলের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

লেবু আর গরম পানি খেলে কি ওজন কমে?

যারা দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে চান তাদের উচিত প্রতিদিন সকালে চা কফি ছেড়ে দিয়ে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা। এতে করে ক্ষুধা কম লাগে এবং খাবারের চাহিদা ও কম থাকে যার ফলে ওজন দ্রুত কমে।

লেবুর রস আর মধু একসাথে খেলে কি হয়?

শরীরের ওজন কমাতে গরম পানির সাথে লেবু এবং মধু মিশিয়ে খেলে পাওয়া যায়। এছাড়াও শারীরিক সমস্যা দূর করার পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে লেবু মধু মিশিয়ে পান করা খুব উপকার। লেবু এবং মধু এই দুটি উপকরণ এর মধ্যেই এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে ফলে শরীরের বিভিন্ন ইনফেকশন দূর করতে এটি খুব কার্যকরী।

শেষ কথা

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় প্রসঙ্গে আজকের আর্টিকেলে খুঁটিনাটি অনেক বিষয়ে আমরা ইতিমধ্য আলোচনা করেছি।যারা জানতে চেয়েছিলেন লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় কি

আশা করছি তাদের কাছে বিষয়টি ক্লিয়ার। তবে এই প্রসঙ্গে যদি আপনার কোনো মতামত কিংবা জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনাদের মতামতের গুরুত্ব দেয়ার।আজকের মত এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

আপনার জন্য-

মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়

বদহজম দূর করার উপায় সম্পর্কে সহজ সমাধান

স্বাস্থ্যকর মেসের খাবার তালিকা

মেয়েদের মধু খেলে কি হয়?

কোন কোন খাবারে পটাশিয়াম পাওয়া যায়?

আমাদের আরো সেবা সমূহ :-

↘️আমার ভিডিওগুলো পাবেন যে সকল মাধ্যমে 👇

➡️YouTube চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন –এখানে ক্লিক করুন

➡️Facebook পেজ ফলো করে রাখুন –এখানে ক্লিক করুন

➡️Instagram চ্যানেল ফলো করে রাখুন –এখানে ক্লিক করুন

➡️WhatsApp চ্যানেল ফলো করে রাখুন – এখানে ক্লিক করুন

➡️Treads চ্যানেল ফলো করে রাখুন –এখানে ক্লিক করুন

➡️TikTok চ্যানেল ফলো করে রাখুন-এখানে ক্লিক করুন

Lakhi Hasan

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম