মাদককে না বলুন

মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর লোকের প্রতি রাসূল সা: অভিশাপ করেছেন। ১. যে লোক মদের নির্যাস বের করে; ২. প্রস্তুতকারক; ৩. মদপানকারী; ৪. যে পান করায়; ৫. মদের আমদানিকারক; ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়; ৭. বিক্রেতা; ৮. ক্রেতা; ৯. সরবরাহকারী এবং ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।
কিয়ামতের আগে মদের ব্যাপকতা : কিয়ামতের আগে মাদকতা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে মদ পানকারীরা তা পান করাকে অপরাধ মনে করবে না।

মাদককে না বলুন

হাদীসে এসেছে, আনাস রা: বলেন, আমি রাসূল সা:কে বলতে শুনেছি, ‘কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইলম উঠে যাবে, মূর্খতা, ব্যভিচার ও মদ্যপান বেড়ে যাবে। পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। এমনকি ৫০ জন মহিলার পরিচালক হবে একজন পুরুষ।’ শুধু তা-ই নয়; শেষ জমানায় মানুষ মদকে বিভিন্ন নামের ছদ্মাবরণে পান করবে বলে রাসূলুল্লাহ সা: আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মদপানের ক্ষতি : যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যা নেশা সৃষ্টি করে, সুস্থ মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটায় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি লোপ করে দেয়, তা হারাম বা নিষিদ্ধ, চাই তা প্রাকৃতিক হোক যেমন, মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ, মারিজুয়ানা ইত্যাদি অথবা রাসায়নিক হোক যেমন, হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন ইত্যাদি। মাদক মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করে থাকে। নেশাদ্রব্য গ্রহণের ফলে ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি বিনষ্ট হয়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়, চেহারা বিকৃত হয়ে পড়ে, স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়, শারীরিক ক্ষমতা লোপ পায়।

আবার এমন অনেক মাদকদ্রব্য আছে, যা সম্পূর্ণরূপে কিডনি বিনষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্কের লাখ লাখ সেল ধ্বংস করে ফেলে, যেটা কোনো চিকিৎসার মাধ্যমেই সারানো সম্ভব নয়। মাদক সেবনের ফলে লিভার সিরোসিস রোগের সৃষ্টি হয়, যার চিকিৎসা দুরূহ। এতে- ১. খাদ্যনালি, পিত্ত ও প্লিহায় ক্যান্সার হয়। ২. হার্টের অসুখ দেখা দেয়। ৩. কিডনি ও প্রসাবের বহু রোগের কারণ মদপান। ৪. গর্ভবতী নারীদের সন্তানের মৃত্যুঝুঁকি ও শারীরিক-মানসিক বৈকল্যের কারণ হতে পারে।
মদপানে সামাজিক অবক্ষয় : মদপান ও মাদক মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ। মদপানের কারণে অকালে ঝরে পড়ছে অনেক তরুণ প্রাণ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল লেকচারার গবেষক অন্যা টোপিওয়ালা বলেন, ‘আমরা জানতাম যে, দীর্ঘদিন ধরে মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু এখন আর সেটা মনে করা হচ্ছে না; বরং মদপানই ক্ষতিকর।’

ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এই গবেষণাটির খুঁটিনাটি প্রকাশিত হয়েছে। টোপিওয়ালা বলেছেন, মস্তিষ্কের ভেতরে অসংখ্য বিদ্যুতের তারের মতো তার আছে। যারা বেশি মদ পান করেন তাদের এই তারগুলোর অবস্থা হয় খুবই খারাপ। তারা শব্দকোষের খেলাতেও অনেক পেছনে থাকেন। আবার অন্য দিকে ‘ওয়ার্ড রিকল’ বা যেকোনো একটি নির্দিষ্ট ধরনের বিভিন্ন শব্দ বলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।
মদ প্রাচ্যের চেয়ে পাশ্চাত্যে বেশি সহজলভ্য। পাশ্চাত্যের আবহাওয়া, জলবায়ু, পাশ্চাত্যের মানুষের জীবনমান, অর্থনৈতিক অবস্থা, শারীরিক গঠন, চিন্তা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস প্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং বাংলাদেশে পাশ্চাত্যের দোহাই দিয়ে মদের লাইসেন্স দেয়ার কোনো যুক্তি নেই। মদ শুধু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আমেরিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘জাস্টিজ ডিপার্টমেন্ট’ ১৯৯৬ সালে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে। যা থেকে জানা যায়, এই বছর আমেরিকায় প্রতিদিন দুই হাজার ৭১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং ধর্ষণকারীদের বেশির ভাগ ছিল নেশাগ্রস্ত।
মাদকে বিপর্যস্ত পরিবার : মদপান ও মাদকের কারণে বহু পরিবার বিপর্যস্ত ও সর্বস্বান্ত। সমাজের নি¤œবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সব ধরনের পরিবারে মাদক এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাদকের কারণে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কর্নাটকে মদ নিষিদ্ধ করতে চার হাজার নারীর পদযাত্রা’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যাতে বলা হয়, মদ নিষিদ্ধের দাবিতে ভারতের কর্নাটক রাজ্যে ১২ দিন ধরে চলা ২০০ কিলোমিটার পদযাত্রা শেষে বেঙ্গালুরুতে সমাবেশ করেছেন নারীরা।

রাজ্যের প্রায় চার হাজার নারী এই পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নেন। তারা দাবি করেন, রাজ্যে কোনো ধরনের মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করা যাবে না। পদযাত্রায় অংশ নেয়া অম্বিকা জানান, স্বামী মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই তাকে মারধর করেন। ‘আমাকে হুমকি দেয়, আমি মরার মতো বেঁচে আছি’। এখান থেকেও ধারণা পাওয়া যায়, পারিবারিক জীবনে মদ ও মাদকের ভয়াবহতা কোন পর্যায়ে রয়েছে। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও মাদকের কারণে বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে।

হঠাৎ কেন মাদকের লাইসেন্স : সম্প্রতি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দফতর। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের।

এই নিষেধাজ্ঞার পর র্যাবের হাতে নিহত হয়নি একজনও। ক্রসফায়ারের ঘটনাও শূন্য। অনেকে মনে করছেন, মদের লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা মহলকে খুশি করতে চায় বর্তমান সরকার। অবাধ লাইসেন্সের কারণে মদ সহজলভ্য হওয়ার কারণে তরুণ সমাজ মদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে। কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং জীবনমানের বিষয়টি চিন্তা করতে হবে।

অ্যালকোহলিক হওয়ার কারণে অর্থের অপচয় হবে কিন্তু অর্থ স্বাভাবিক উপায়ে উপার্জন করা যাবে না। তাই এই বাড়তি অর্থের জোগান দেয়ার জন্য তরুণসমাজ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।
একটি অরাজক রাষ্ট্রে পরিণত হবে যার চূড়ান্ত পরিণত হবে ব্যর্থ রাষ্ট্র। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে শারীরিক দুর্বলতাসহ নানান ধরনের শারীরিক জটিল রোগে আক্রান্ত হবে এই তরুণ সমাজ। ফলে তাদের বাড়তি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে কিন্তু সেই চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ তারা জোগান দিতে পারবে না।

মদ সহজলভ্য করে দেয়ার অর্থই হচ্ছে রাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে একটি বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া। তরুণ সমাজকে যদি অ্যালকোহলে আসক্ত করা যায় তাহলে তারা অবৈধ ক্ষমতা, রাষ্ট্রচিন্তা, বিজ্ঞান এসব বিষয়ে চিন্তা করবে না। মদকে খুবই সহজলভ্য করার জন্য যুক্তি দেখানো হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের। এটা আসলে চূড়ান্ত অসভ্যতা এবং নির্লজ্জতার প্রসার ঘটাবে। মাদক, জুয়া ও ব্যভিচার সবধর্মেই নিষিদ্ধ, সব আইনেই গর্হিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

শুদ্ধ-সিদ্ধ ও পূত-পবিত্র, সফল ও সার্থক জীবনের জন্য মাদক, জুয়া, ব্যভিচারের ছোবল থেকে নিজেদের ও পরিবারকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। দেশের উন্নয়নে ও জাতির সুরক্ষার জন্য এসব অসামাজিক অপকর্মের সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কিত ইংলিশে সকল সঠিক তথ্য জানতে আমাদের SS IT BARI- ভালোবাসার টেক ব্লকের আরেকটি সংস্করণ, US IT BARI- All About Healthy Foods ওয়েব সাইট টি ভিজিট করতে পারেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন –www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.