ব্লগিং করে টাকা আয় করার ৫ টি পদ্ধতি

আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন? আপনি কি জানেন লেখালেখি করেও অনলাইনে বর্তমানে আয় করা যায়। হ্যা আপনি ব্লগিং করে লেখালেখির মাধ্যমে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন।

কিন্তু কিভাবে করবেন? আজকের পোস্টে আমরা সেটি নিয়েই আলোচনা করবো। তো চলুন দেরী না করে শুরু করি।

 

ব্লগিং করতে হলে কি কি প্রয়োজন?

আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে প্রথমেই একটি ইন্টারনেট সংযোগ এব‍ং একটি কম্পিউটার অথবা মোবাইল দরকার হবে। এছাড়া অবশ্যই আপনার একটি ওয়েবসাইটের দরকার হবে।

বর্তমানে গুগলের একটি ফ্রি পরিষেবা ব্লগার দিয়ে সম্পুর্ন ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরী করা সম্ভব। এছাড়া আপনাকে এসইও সম্পর্কে অনেক ভালো ধারনা থাকতে হবে।

 

ব্লগিং করে টাকা আয় করার সকল পদ্ধতি সমুহ

 

১. গুগল এডসেন্স

বর্তমানে বেশিরভাগ ব্লগার গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ব্লগিং করে টাকা আয় করে। গুগল এডসেন্স একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যেটি বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন তাদের নেটওয়ার্কের সাহায্য প্রচার করে।

গুগল এডসেন্স বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখাই। কিন্তু যেসব ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স তাদের বিজ্ঞাপন দেখাই সেসব ওয়েবসাইট গুলোকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা দেওয়া লাগে।

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। তবে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার আগে আপনাকে অবশ্যই এডসেন্স এপ্রুভ পেতে হবে।

এডসেন্স এপ্রুভ পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট গুলো ইউনিক এব‍ং এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে। এডসেন্স এপ্রুভ পেয়ে গেলে গুগল আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখাবে এব‍ং সেই বিজ্ঞাপন থেকে আপনি আয় করতে পারবেন।

 

২. এফিলিয়েট মার্কেটিং

কিছু কমিশনের বিনিময়ে কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির পন্য প্রচার করে দেওয়াকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। বর্তমানে ব্লগারদের সবথেকে পছন্দের আয়ের পথ হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। কারন এটি অনেকটা সেফ এবং আয় অনেক বেশি হয়।

বর্তমানে অনেক ব্লগার আছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে একটি কোম্পানির ওয়েবসাইটের এফিলিয়েট জোনে আপনাকে সাইনআপ করতে হবে।

এরপর প্রতিটি পন্যের জন্য আপনি একটি ইউনিক লিংক পাবেন। সেই লিংকটি আপনার সাইটের মাধ্যমে প্রমোট করতে হবে। যদি উক্ত লিংকের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ঐ পন্যটি কেনে তাহলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন আপনার একাউন্টে জমা হবে।

পরবর্তীতে আপনি সেই কমিশন কোনো ব্যাংক একাউন্ট অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে উত্তলোন করতে পারবেন।

 

৩. স্পনসর

নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে অন্যের পন্য প্রচার করে দেওয়াকে স্পনসর বলে। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানি সরাসরি একজন ব্লগ এর মালিককে ইমেইল করে এব‍ং তাদের পন্য প্রচার করার জন্য অফার দেয়।

যদি সেই ব্লগার রাজি হয় তাহলে সেই ব্লগার তার ব্লগের মাধ্যমে উক্ত পন্যটি প্রচার করে।বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের নতুন পন্য কোনো ব্লগার বা ইনফ্লুয়েন্সারকে দিয়ে প্রচার করাই।

তবে এক্ষেত্রে বেশিরভাগ কোম্পানি কোনো জনপ্রিয় ব্লগকে স্পনসর দেয়। আপনার ব্লগে যদি প্রচুর ভিজিটর থাকে তাহলে স্পনসরের জন্য একটি আলাদা ইমেইল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করে দিতে পারেন যার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি যেনো সহজেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

 

৪. গেস্ট ব্লগিং

যারা নতুন ওয়েবসাইট তৈরী করেছে তাদের ওয়েবসাইটে তাড়াতাড়ি প্রচুর ভিজিটর আনায়ন করার জন্য প্রচুর ব্যাকলিংকের দরকার হয়। তবে এই ব্যাকলিংক যদি কোনো ভালো ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া যায় তাহল এর মান প্রচুর বৃদ্ধি পায়।

আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে অনেকে আপনার সাইটে আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে ব্যাকলিংক চাইবে। এক্ষেত্রে আপনি কিছু টাকা চার্জ করতে পারেন।

যেহেতু আপনার সাইটে অনেক ভিজিটর আছে তাই বেশিরভাগই টাকা দিতে রাজি হবে। আবার অপরদিকে আপনি একটি আর্টিকেল ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন।

 

৫. অনলাইন শপ

আপনার যদি একটি অনলাইন শপ থাকে তাহলে আপনার পন্য প্রচার করার সবথেকে সেরা মাধ্যম হবে ব্লগিং। এমনকি বড় বড় মার্কেটিং এক্সপার্ট পন্য প্রচার করার পন্থা হিসেবে ব্লগিংকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার পন্যের প্রচার করতে পারবেন। অনেক কোম্পানি আছে যারা ব্লগের মাধ্যমেই সাধারণত পন্য প্রচার করে। তাছাড়া ব্লগিং ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়।

যেমন আপনি ভিডিও, ইমেজ, টেক্সট, ব্যানার ইত্যাদি সব ধরনের বিজ্ঞাপন ব্লগের মাধ্যমে প্রচার করতে পারবেন।

আজকের আর্টিকেল এ পর্যন্তই। আশাকরি আপনি ব্লগিং করে টাকা আয় করার ৫ টি পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এরকম আরোও আর্টিকেল পেতে প্রতিনিয়ত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।

IMG 20220828 225729

Verified Author at SSITBARI