প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি    

Rate this post

প্রেগনেন্সি প্রত্যেকটি নারীর কাছে একটি অত্যন্ত আনন্দময় ও সুন্দর মুহূর্ত। অনেকে মা হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে । তাই সঠিক সময়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করাটা অত্যন্ত জরুরী। যার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনি প্রেগনেন্ট কিনা। তাই সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রেগনেন্সি টেস্ট আবশ্যক।প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

প্রেগনেন্সি টেস্ট কি

প্রেগনেন্সি টেস্ট হলো অনাগত সন্তানের মাতৃগর্ভে   উপস্থিতি মূলক পরীক্ষা। প্রেগনেন্সি টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় মা গর্ভবতী কিনা। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে।

প্রেগনেন্সি টেস্ট করার আগে যে বিষয়গুলো  জানতে হবে

১।প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পদ্ধতি।

২। মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়।

৩।কতদিন পর টেস্ট করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

৪।প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পদ্ধতিঃ

সাধারনত আমরা তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করে  প্রেগনেন্সি টেস্ট করে থাকে।যেমন –

১। প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট।

২।প্রেগনেন্সি ব্লাড টেস্ট।

৩। ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রেগনেন্সি টেস্ট ।

প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট

সাধারণত কিট ব্যবহার করে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হয়ে থাকে। এটি সবচেয়ে সহজ ও কম সময়ে টেস্ট করা যায়।    যে কোন ঔষধের দোকানে এই কিট পাওয়া যায়। পিরিয়ড মিসের সাতদিন পরে এই টেস্ট করা হয়ে থাকে। তবে ফলাফল অনেক সময় ভুল ও হতে পারে। সকাল বেলার প্রথম  প্রস্রাব দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়।  কীটের প্যাকেটে পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

প্রেগনেন্সি ব্লাড টেস্ট

রক্তের এইচসিজি টেস্ট হল প্রেগনেন্সি টেস্টের সঠিক নিয়ম। এবং এই টেস্টের মাধ্যমে আপনি 100% নিশ্চিত হতে পারবেন আপনি প্রেগনেন্ট কিনা। আপনার পিরিয়ড মিস হওয়ার ঠিক  সাত দিন  পর রক্তের নমুনা  সংগ্রহ করে  এতে এইচসিজি উপস্থিতি বুঝে আপনার প্রেগনেন্সি নিশ্চিত হতে পারবেন।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রেগনেন্সি টেস্ট 

আজ আপনাদের ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিতে প্রেগনেন্সি টেস্টের উপায়  জানাবো।  যা অনেকাংশেই কার্যকরী। প্রাচীনকালে এভাবে মানুষ তার প্রেগনেন্সি টেস্ট করে থাকতো।

১। চিনি দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট 

দীর্ঘ সময় ধরে প্রেগনেন্সি টেস্টে চিনি ব্যবহার হয়ে আসছে।    একটি পরিষ্কার বাটিতে এক চামচ চিনি এবং  সংগ্রহীত সকালের প্রসাবের নমুনা মিশিয়ে অপেক্ষা করুন।  প্রেগনেন্সি মহিলাদের প্রস্রাবের   হরমোনে এইচসিজি থাকে। যা চিনিকে দ্রবীভূত করতে বাধা দেয়।  ফলে চিনি  দ্রবীভূত না হয়ে জমাট বাঁধে ।

২।টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট

টুথপেস্ট প্রেগনেন্সি  টেস্টের আধুনিক  একটি উপায় ।  টেস্টি করার জন্য   সাদা  টুথপেস্ট বেছে নিন।  একটি পরিষ্কার  বাটি নিন  তাতে 2 চামচ  টুথপেস্ট দিন, টুথপেস্ট এর উপর সকালের প্রস্রাব এর নমুনা দিন অপেক্ষা করুন।  যদি  টুথপেস্ট প্রস্রাবের সাথে   মিশে রং পরিবর্তন করে  নীলচে  রং হয়  ও ফেনা উঠে । তাহলে প্রেগনেন্সির নিশ্চিত হওয়া যাবে।

৩। সাবান দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট  

সাবান দ্বারা খুব সহজে এবং কম সময়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়। যেকোনো সাবান দিয়ে এই পরীক্ষা করা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার   একটি  বাটি ও একটি সাবান। বাটির মধ্যে সাবান রাখুন এবং তারমধ্যে প্রস্রাবের নমুনা দিন লক্ষ্য করুন যদি সাবান ফেঁপে ওঠে  ও  বুদবুদ প্রদর্শিত হয় তাহলে আপনি প্রেগনেন্ট  ।

৪। লবণ দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট

প্রত্যেকের ঘরে লবন থাকে এবং লবণ দিয়ে সহজে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়। একটি পরিষ্কার বাটিতে 1 চামচ লবণ ও প্রস্রাবের নমুনা   মিশিয়ে তিন মিনিট অপেক্ষা করুন। যদি এটা মিশে ক্রিমের মতো সাদা জমাট বাঁধে তবে নিশ্চিত আপনি প্রেগনেন্ট।

৫।ভিনিগার দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট 

ভিনেগার এসিডের একটি রূপ  যা সাধারনত পাতলা হয়। এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভিনেগার দিয়ে খুব সহজে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়।  একটি পরিষ্কার  পাত্রে  সামান্য সাদা ভিনেগার  ও প্রস্রাবের  নমুনা মেশাতে হবে। যদি তাতে ফেনা উঠে ও বুদবুদ করে তবে আপনি প্রেগনেন্ট।

৬। ডেটল দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট  

ডিটল আমরা সাধারনত অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। তবে দিয়ে খুব সহজে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়।  একটি পরিষ্কার পাত্রে এক চামচ ডেটল ও তাতে সকালের প্রস্রাবের নমুনা নিতে হবে।এরপর 5 থেকে 7 মিনিট অপেক্ষা করুন  যদি প্রস্রাব  ডেটল থেকে আলাদা করে উপরে একটি স্তর গঠন করে যার অর্থ আপনি প্রেগনেন্ট।

৭। ব্লিচিং পাউডার দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট 

ব্লিচিং পাউডার সাধারণত আমরা  জীবাণু পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করে থাকে। তবে এটিও খুব সহজে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়।  পরিষ্কার পাত্র নেই তাতে ব্লিচিং পাউডার ও প্রস্রাবের নমুনা দেই। যদি তাতে ফেনা উঠে ও বুদবুদ করে তবে আপনি প্রেগনেন্ট।

৮। বেকিং সোডা দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট    

বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাই কার্বনেট  যা বেকিং এর একটি উপাদান। এর মাধ্যমে খুব সহজে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়। একটি পরিষ্কার বাটিতে সামান্য  বেকিং  সোডা  ও প্রস্রাব এর নমুনা নিন যদি  অনেক বুদবুদ ওঠে ও  গেজে উঠে  তাহলে আপনি প্রেগনেন্ট।

আরও পড়ুন-

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ঘরোয়া উপায়

অতিরিক্ত চুল পরছে? কি করবেন ভেবে পাচ্ছেননা? চুল পড়া বন্ধের উপায় যেনে নিন

৬ মাস থেকে ৫ বছরের বাচ্চার খাবার নিয়ে   দুশ্চিন্তা দিন শেষ

এক টুকরো কাঁচা আদাই হাজারো রোগ মুক্তিদাতা

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 500 other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com 

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি মো:সানাউল বারী।পেশায় আমি একজন চাকুরীজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকুরীর পাশাপাশি গত ১৪ বছর থেকে এখন পর্যন্ত নিজের ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং নিজের ইউটিউব এবং ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করি। বিশেষ দ্রষ্টব্য -লেখার মধ্যে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে অবশ্যই ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment