প্রেগনেন্সিতে মায়েদের  বিভিন্ন সমস্যা ও মায়েরা কি খাবে আর কি খাবেনা  তার তালিকা 

প্রেগনেন্সিতে মায়েদের জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত যত্নের। তাদের জন্য দরকার সুষম খাদ্য যা দ্বারা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে। এই সুষম খাদ্যের তালিকায় অবশ্যই মাছ, মাংস প্রেগনেন্সিতে ডিম, দুধ ,শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে।     প্রেগনেন্সিতে মায়েদের বিভিন্ন সমস্যা ও মায়েরা কি খাবে আর কি খাবেনা তার তালিকা

প্রেগনেন্সিতে মায়েদের যা করতে হবে     

১।পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

২। পর্যাপ্ত পরিমাণ  পানি খেতে হবে।

৩। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।

৪।নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৫।বেশি মাত্রায় বিশ্রাম নিতে হবে।

প্রেগনেন্সিতে মায়েদের যে সমস্যাগুলো হয়

১।খাদ্যে অনীহা এবং ক্ষুধা মান্যতা

এই সময় প্রচুর পরিমাণ খাদ্যে অনীহা  চলে আসে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে খাবারে বিরক্তি  আসে। প্রিয় খাবারটি ও আর ভালো লাগেনা।

২।বমি বমি ভাব হজমের সমস্যা

প্রেগনেন্সি টাইমে বমি হওয়া অতি সাধারণ একটা বিষয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বমি ধরনটা আলাদা হয় ।  কারো কারো বমি প্রেগনেন্সির পুরো সময়টা থাকে। আর এই সময়ে খাবার হজমের সমস্যা হয়।

প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি 

৩।শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

এই সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। শরীরের হরমোন গুলো ক্রমশ পরিবর্তন হয় যার ফলে  শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। দু থেকে তিন সপ্তাহ আপনার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ সেবন করবেন না।

৪। ফুলে উঠা ভাব

হরমোনের পরিবর্তন, বমি বমি ভাব , হজমের সমস্যা ছাড়াও  ফুলার সমস্যা হতে পারে। এতে করে হাত পা ও কখনও কখনও পুরো শরীর ফুলে ওঠে।

৫।কোমরের নিচের দিকে যন্ত্রণা অনুভব   

প্রেগন্যান্সির প্রথম দিকে ওজন বৃদ্ধির কারণে  ও জরায়ুর প্রসারণ এর  কারণে কোমরের নিচে যন্ত্রনা হতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

৬। মেজাজ হারিয়ে ফেলা বিরক্তভাব       

প্রেগনেন্সির সময় শরীরের হরমোন পরিবর্তন হয়। যার ফলে মেজাজ খিটখিটে ও সবকিছুতে বিরক্তি আসে। সময়ের সাথে সাথে এগুলো ঠিক হয়ে যায়। এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

৭।ঘন ঘন মূত্র ত্যাগ   

হরমোনের পরিবর্তনের ফলে শরীরের রক্ত চলাচলের মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে কিডনিতে রক্ত সরবরাহ ও বেড়ে যায় এর ফলে মূত্রাশয় টি ঘনঘন ভরে ওঠে।

প্রেগনেন্সিতে মায়েদের যেসব সুষম খাদ্য বেশি খেতে হবে

১। দুগ্ধজাত পণ্য  

দুগ্ধজাত পণ্য আছে ক্যালসিয়াম ,ভিটামিন, প্রোটিন,   ফ্যাট, ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি। প্রেগনেন্সি মায়েদের খাবার  দই, দুধ , পনির রাখতে হবে।

২।ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার   

শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের যথাযথ বিকাশের জন্য ফোলেট বাপ ফোলিক এসিডের গুরুত্ব অপরিহার্য।  যা শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কোষ বিকাশে সহায়তা করে।  ফোলেট সমৃদ্ধ খাবারগুলো হলো- পালং শাক, বাঁধাকপি, লেবু, মটরশুটি, এভোক্যাডো, বীনস ।

৩।গোটা শস্য দানা   

গোটা শস্যদানা গুলিতে থাকে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন ,ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম এর মত স্বাস্থ্যকর উৎস।  এগুলো শিশুর স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক। গোটা শস্যদানা গুলোর মধ্যে  বার্লি, বাদামী চাল, ডালিয়া, আটার রুটি, পাস্তা, ওটামিল উল্লেখযোগ্য।

৪।ডিম হাঁস  মাংস 

ডিম প্রোটিন, ভিটামিন এ  বি২, বি৫,বি৬,বি১২,ডি, ই ও কে এবং ফসফরাস ,সেলেনিয়াম ক্যালসিয়াম ও জিংক এর মত খনিজ গুলোর ভালো উৎস। তাছাড়া হাঁস-মুরগির মাংস আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন। যা শিশুর  সুস্থ বিকাশে ভূমিকা পালন করে।

৫।ফল       

কলা ,পেয়ারা, কমলালেবু ,মিষ্টি লেবু ,স্ট্রবেরি তরমুজ ,ডালিম ,আপেল, এভোক্যাডো  ফলগুলোতে রয়েছে গর্ভের শিশুর বিকাশের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

৬।সবজি       

প্রেগনেন্সি টাইমে মায়েদের প্রচুর সবজি খেতে হবে।  সবজিতে রয়েছে  শিশুর বৃদ্ধির জন্য  প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান । যেসব সবজি বেশি বেশি  ব্রকলি, বাঁধাকপি, পালংশাক ,গাজর ,মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু,টমেটো ,ক্যাপসিকাম, ভুট্টা ,সজনে ডাঁটা, বেগুন, কলার মোচা ইত্যাদিে।

৭। বিভিন্ন বীজ বাদাম 

বীজ এবং বাদাম গুলি স্বাস্থ্যকর  ফ্যাট প্রোটিন ভিটামিন খনিজ এবং ফাইবার এর উৎস।  শিশুর ব্রেইন ডেভলপমেন্ট এর জন্য বাদামের গুনাগুন অপরিহার্য।

৮।মাছ 

মাছ চেয়ে কম ফ্যাট, উচ্চমানের প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। মাছে আছে ওমেগা ৩, ফ্যাটি এসিড ভিটামিন বি ডি ও ই এবং পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম জিংক আয়োডিন ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মত খনিজের ভালো একটি উৎস।

 ৯। মাংস

মাংসে ভিটামিন বি প্রোটিন জিংক লোহা রয়েছে। যা প্রেগনেন্সিতে শিশুর জন্য অনেক উপকারী।প্রেগনেন্সিতে মায়েদের বিভিন্ন সমস্যা ও মায়েরা কি খাবে আর কি খাবেনা তার তালিকা

প্রেগনেন্সিতে  মায়েদের যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

প্রেগনেন্সির সময় মায়েদের কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হয় কারণ এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

১।নরম চীজ বা পনির   

নরম চীজ  গুলো দুধ থেকে  তৈরি হয় কিন্তু এতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। তাই নরম চীজ খাবেন না।

২।প্যাকেট করা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার     

প্যাকেট করা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণ প্রিজারভেটিভ উচ্চমাত্রার চিনি যা শিশুর জন্য ভালো না।  তাই প্যাকেটজাত খাবার যেমন জুস কেক, বিস্কুট, খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

৩।সামুদ্রিক খাবার  

সীফুড বা সামুদ্রিক খাবারে পারদ এর উচ্চ স্তর থাকে যা ভ্রূণের মস্তিষ্কের ক্ষতি ও বিকাশে ভূমিকা পালন করে।

৪।পেঁপে

কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্স থাকে যা প্রেগনেন্সি মায়েদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই প্রেগনেন্সি  সময়ে মায়েদের পেঁপে খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ ডাক্তাররা দেন।

৫।আনারস

আনারসে ব্রোমেলাইন নামে একটি পদার্থ রয়েছে।  যার ফলে গর্ভপাত হতে পারে। তাই প্রেগনেন্সি অবস্থায় আনারস এড়িয়ে চলবেন।

৬। কাঁচা ও আধা সিদ্ধ মাংস  

কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাংস ব্যাকটেরিয়া, সালমেনেলা, লিস্ট আরিয়া ইত্যাদি দ্বারা দূষিত হতে পারে। যা শিশুর বিকাশে বাধা প্রদান করে। তাই মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে  বা রান্না করে খাবেন।

৭। জাঙ্ক ফুড 

প্রেগনেন্সিতে প্রচুর জাঙ্কফুড খাওয়া ডিপ্রেশন উদ্বেগ মনোযোগ ঘাটে   হাই টেনশন ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যা গুলো হয়। তাই প্রেগনেন্সিতে জাঙ্ক ফুড না খাওয়াই ভালো।

৮। চিনিযুক্ত খাবার 

প্রেগনেন্সির সময় চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন। এই সময় অতিরিক্ত 300 ক্যালরি প্রয়োজন এর বেশি হলে সন্তানের  বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে। এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি হয় ও ডায়াবেটিস হতে পারে।

আরও পড়ুন-

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ঘরোয়া উপায়

অতিরিক্ত চুল পরছে? কি করবেন ভেবে পাচ্ছেননা? চুল পড়া বন্ধের উপায় যেনে নিন

৬ মাস থেকে ৫ বছরের বাচ্চার খাবার নিয়ে   দুশ্চিন্তা দিন শেষ

এক টুকরো কাঁচা আদাই হাজারো রোগ মুক্তিদাতা

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com 

WhatsApp Image 2022 02 01 at 9.56.07 AM

SS IT BARI- ভালবাসার টেক ব্লগ এ হেলথ/স্বাস্থ্য/স্কিন কেয়ার  এবং ইতিহাস বিষয়ক লেখালিখি করি। এর আগে বিভিন্ন পোর্টালের সাথে যুক্ত থাকলেও, SS IT BARI-আমার হাতেখড়ি। হেলথ/স্বাস্থ্য/স্কিন কেয়ার বিষয়ক বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে ভিজিট করুন http://ssitbari.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.