পটাশিয়াম যুক্ত খাবার । আমিষ জাতীয় খাবার । কিডনির রোগীর খাবার । কোন বয়সে কি পরিমাণ আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত

পটাশিয়াম যুক্ত খাবার -প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়াম-এর পরিমাণ কম হতে হবে। সাধারণত কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।

ক্যালসিয়াম বা সোডিয়ামের পটাশিয়ামও আমাদের শরীরের একান্ত প্রয়োজনীয় খনিজ বা মিনারেল। মানবদেহে পটাশিয়াম-এর ঘাটতি পূরণ হয় মূলত পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে। তবে ঘাটতি মেটানো জন্য গপগপিয়ে পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খেলেই হবে না। তার আগে জেনে নিতে হবে যে শরীরের পটাশিয়াম-এর প্রয়োজনীয়তা কতটা।

পটাশিয়াম যুক্ত খাবার

পটাশিয়ামএর ঘাটতি মেটাতে ডায়েট তালিকায় কলার রাখার নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা। তবে কলা ছাড়াও এমন অনেক খাদ্যবস্তু রয়েছে যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

১।আলু

আলু প্রধানত স্টার্চযুক্ত সবজি। বিশ্বজুড়ে আলু সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি। একটি ১৩৬ গ্রাম ওজনের আলুতে থাকে ৫১৫ মিলিগ্রামেরও বেশি পটাশিয়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে আলু পটাশিয়ামের অন্যতম আধার। একটি ছোটো আলু সিদ্ধতে পটাশিয়াম থাকে ৭৩৮ মিলিগ্রামের বেশি। আলুর নানা প্রজাতি থাকে। এবং এক এক প্রজাতির আলুর পটাশিয়ামের মাত্রা এক এক রকম হয়।

২।রাঙা আলু

আলু খেতে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই রাঙা আলু বা মিষ্টি আলু খেতেও ভালোবাসেন। রাঙা আলু ভাজা, সবজি, পরোটা কিংবা অন্য কোনও পদের কোনও তুলনা হয় না। আলুর যা যা ব্যবহার হয় রাঙা আলুর ব্যবহারও মোটামুটি সেই রকম হয়ে থাকে। এবং আলুর মতো রাঙা আলুও পটাশিয়ামে পরিপূর্ণ। একটি মাঝারি আকারের রাঙা আলুতে প্রায় ৫৪১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। রাঙা আলুতে ফ্যাট কম থাকে। সামান্য প্রোটিনও থাকে। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন এ।

৩।বিট

রাঙা আলর মতো লাল কন্দ বিটেও থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। স্যালাড, তরকারি কিংবা আচারে বিটের ব্যবহারের প্রচল রয়েছে। সাধারণত এক কাপ বা প্রায় ১৭০ গ্রাম সিদ্ধ বিটে থাকে প্রায় ৫১৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিট দারুণ কার্যকরি। হার্টের রোগ প্রতিরোধ করতেও বিট সিদ্ধহস্ত।

৪।পালং শাক

যে শাকের মধ্যে সবচেয়ে পুষ্টিকর শাক হল পালং। শুধু পুষ্টিকরই নয় সুস্বাদুও বটে। এক কাপ বা প্রায় ১০০ গ্রাম পালং শাকে থাকে প্রায় ৫৫৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়াও পালং শাকে আছে প্রায় ৩৬ শতাংশং ভিটামিন এ, ৫৭ শতাংশ ভিটামিন কে, ৫৭ শতাংশ ফোলেট এবং ২৯ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম। তবে ফ্রোজেন পালং শাকের পরিবর্তে টাটকা পালং শাকেই এই সমস্ত ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায়।

৫।বেদানা

ফলের মধ্যে কলা ছাড়াও বেদানায় থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। একটি প্রমাণ মাপের বেদানায় থাকে প্রায় ৬৬৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়াও বেদানায় আছে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে, প্রোটিন। প্রাকৃতিক শর্করা এবং ফাইবারে পরিপূর্ণ থাকে এই বেদানা।

৬।টোম্যাটো জুস

টোম্যাটো সিদ্ধ করে ভালো করে ছেঁকে সেই পেস্ট বা জুস পটাশিয়ামের ভালো আধার। পঞ্চাশ গ্রাম টোম্যাটো পেস্টে থাকে প্রায় ৪৮৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়াও টোম্যাটো রয়েছে ভিটামিন সি, লাইকোপিন। টোম্যাটো জুস ছাডা়ও কমলা লেবুর রস এবং আঙুরের রসেও থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

শর্করা । অ্যালার্জি। ভিটামিন সি। ক্যালসিয়াম। আমিষ। প্রাণীজ আমিষ। আঁশ জাতীয় খাবারের তালিকা সহ বিস্তারিত

৭।মাশরুম

নিরামিষাশিদের কাছে মাশরুম বেশ সুস্বাদু এবং প্রিয় খাবার। একশো গ্রাম মাশরুমে ৪২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম পাওয়া যায়। মাশরুমেরও নানা প্রজাতি রয়েছে সেগুলির একেকটির পটাশিয়ামের মাত্রা একেক রকম।

৮।কুমড়ো

একশো গ্রাম কুমড়োতে আছে প্রায় ৩৪০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়াও এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ভিটামিন এ প্রভৃতি।

৯।সোয়াবিন

সোয়াবিনে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে এক কাপ বা ১৫৫ গ্রাম সোয়াবিনে থাকে প্রায় ৬৭৬ মিলিগ্রাম। এছাড়াও সোয়াবিনে আছে প্রায় ১২১ শতাংশ ফোলেট,, ভিটামিন কে, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি।

১০।ডাবের জল

ডাবের জল সবসময়ই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। স্বাস্থ্যচর্চা বা খেলাধুলোর সময় এই জল পান করা ভালো। এক কাপ বা ২৪০ গ্রাম ডাবের জলে থাকে প্রায় ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়াও ডাবের জলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোদিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

আমিষ জাতীয় খাবার

মানুষের শরীরের পরিপূর্ণ বৃদ্ধি ও শরীর নামক এ যন্ত্রকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আমিষকে তাই ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

অতিরিক্ত আমিষ জাতীয় খাবার  গ্রহণ কি ভালো?

মানবপেশীর গঠনের জন্য এটি দরকারী হলেও এটির পরিমিত গ্রহনের দিকটাও বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণ লিভার এবং কিডনির কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার  কি ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে?

প্রাণীজ আমিষ যা রেড মিট হিসাবে পরিচিত যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস, শুকরের, মহিষের, উঠের এবং দুম্বার মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পটাশিয়াম যুক্ত খাবার

অনেকরকম খাবার থেকে আমরা আমিষ গ্রহণ করে থাকি। প্রাণীজ আমিষ ছাড়াও শাকসবজি, ফলমূল থেকেও আমরা আমিষ গ্রহণ করতে পারি।

আমিষ জাতীয় খাবারের তালিকা

১।মুরগীর মাংস

২।মাছ (সামুদ্রিক মাছ টুনা, কড, ৩।ফিলেট অফ স্যামন, শ্রিম্প -এ আমিষ এর পরিমান বেশি থাকে।)

৪।গরুর মাংস

৫।ডাল( সকল প্রকারের ডাল- ৬।ছোলা, মুগ, মটর, মুশুরি ইত্যাদি।)

৭।দুধ

৮।দই

৯।পনির

১০।বীজ ( কুমড়োর বিচি, তিল, ১১।বাদাম, আলমন্ড,

১২৷কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম )

১৩।ডিম

১৪।শিম জাতীয় সকল সবজি

১৫। ব্রোকলি

১৬।সোয়াবেন বড়ি ও সোয়ামিল্ক (অন্যান্য দেশে টোফু নামে পরিচিত)

কোন বয়সে কি পরিমাণ আমিষ  জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত

১।ছোট বাচ্চাদের জন্য দিনে ১০ গ্রাম আমিষ।

২।স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের জন্য দিনে ১৯ – ৩৪ গ্রাম

৩।টিনএজ ছেলেদের জন্য দিনে ৫২ গ্রাম আমিষ

৪।টিনএজ মেয়েদের জন্য দিনে ৪৬ গ্রাম আমিষ

৫।পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য দিনে ৫৬ গ্রাম আমিষ

৬।পূর্ণবয়স্ক মহিলাদের জন্য দিনে ৪৬ গ্রাম আমিষ

৭।প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা যদি প্রেগন্যান্ট হয় বা বাচ্চা বুকের দুধ খায় তাহলে দিনে ৭১ গ্রাম আমিষ।

কিডনির রোগীর খাবার

দিন দিন কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন, খাদ্যে ভেজাল ও নানাবিধ কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। অনেকের অল্প বয়সেই কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে।

কিডনি সমস্যা দেখা দিলে জীবনযাপনে বদল আনতে হবে। খাবার খেতে হবে হিসাব করে।  রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধিকে ধীর গতিতে রাখার জন্য সঠিক খাবার খাওয়া জরুরি।

পটাশিয়াম যুক্ত খাবার

সঠিক পথ্য মেনে চললে রক্তে ক্রিয়েটিনের মাত্রাকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। রোগী ভেদে কিডনির পথ্য নির্ধারণে ভিন্নতা থাকে। রক্তে ইলেকট্রোলাইটসের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ, রক্ত ও ইউরিনে এলবুমিনের পরিমাণ এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ভেদে পথ্যকে সাজাতে হয়।

১।সবজি

রক্তে পটাশিয়াম, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা, ফসফরাস ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সবজি হিসাব করা হয়। কিডনি সমস্যা দেখা দিলে অতিরিক্ত পিউরিন ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ শাকসবজি, পিচ্ছিল ও গাঢ় লাল রঙের শাকসবজি এড়িয়ে যেতে হবে। কিডনি রোগীদের জন্য চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা ইত্যাদি পানীয় সবজি উপকারী। উপকারী হলেও এগুলোর পরিমাণ মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচাসবজির সালাদ, সবজি স্যুপ ইত্যাদি কিডনি রোগীদের এড়িয়ে চলতে হয়।

২।ফল

অনেকেই কিডনি রোগ হলে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করতে হবে। তবে কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হয়। অক্সালিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরও অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়।  তিন-চারটি ফল রোগী ভেদে সীমিত আকারে দেওয়া হয়।  যেমন : আপেল, পাকা পেঁপে, পেয়ারা ইত্যাদি।

৩।লবণ

লবণ বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রিত পথ্য কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে জরুরি। রক্তচাপ, রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা, ইডিমা বা শরীরের পানি পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে লবণের পরিমাপ করা হয়। সাধারণত দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ নির্ধারণ করা হয়, যা নির্ভর করবে আপনার শারীরিক অবস্থা ও ডায়েটেশিয়ানের ওপর। আলাদা লবণ গ্রহণ পরিহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।  যেমন— চিপস, পাপড়, চানাচুর, আচার ইত্যাদি, যা শুধু কিডনি রোগীর চিকিৎসায় নয়, কিডনি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৪।তরল বা পানীয়

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরল খাবার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।  চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে তরলের হিসাব করা হয়।  কোন রোগীকে কতটুকু তরল বরাদ্দ করা হবে, তা নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার ওপর। খুব গাঢ় করে জাল দিয়ে দুধ পান করা যাবে না।

শরীরের ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর- এসবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনও কখনও দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ হয়। অনেকেই অসুস্থ কিডনিকে সুস্থ করার জন্য অতিরিক্ত পানি খান— এটি ভুল।

সুষম খাবার কাকে বলে? সুষম খাবারের উপাদান সহ সুষম খাবার সম্পর্কে সকল তথ্য

দীর্ঘমেয়াদি ক্রনিক কিডনি রোগী এ ধরনের খাবারের পরামর্শ মেনে চললে কিডনিকে মারাত্মক জটিলতার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। একঘেয়েমি হলেও ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলা প্রত্যেক কিডনি রোগীর জন্য জরুরি।

কিডনি রোগীরা যেদিকে দৃষ্টি দেবেন

চিচিঙ্গা, লাউ, করলা, বিচি ছাড়া শশা, সজনা, ডাঁটাশাক, লালশাক, কচুশাক, ঝিংগা, পেঁপে, হেলেঞ্চা শাক ইত্যাদি শাক-সবজি খাবেন।

যেসব সবজি খাবেন না

ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, কচু, মুলা, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, গাজর, কাঁঠালের বিচি, শিমের বিচি, মুলাশাক ইত্যাদি।

প্রাণিজ আমিষ, যেমন- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদি সীমিত পরিমাণে খাবেন।

ডাব, কলা, আঙুর একেবারেই খাবেন না, কেননা, এতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি। কিডনি রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়তে থাকে।

কম পটাশিয়ামযুক্ত ফল; যেমন— আপেল, পেয়ারা, পাকা পেঁপে, নাসপাতি ইত্যাদি।

রোগীর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন রাখতে হবে রোগের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে। যেমন- রোগীর রক্তের ক্রিয়েটিনিন, শরীরের ওজন, ডায়ালাইসিস করেন কিনা, করলেও সপ্তাহে কয়টা করেন তার ওপর নির্ভর করে প্রোটিনের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার সহ গর্ভবতী মায়ের খাবার সম্পর্কে বিস্থারিত জানুন

যেমন- কিডনি রোগ শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিকেজি দৈহিক ওজনের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন ০.৫-০.৮ গ্রাম। গুরুতর রোগীর জন্য ০.৫ গ্রাম।

হিমোগ্লোবিন বাড়ে কোন খাবারে

আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। তাই এ সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

হিমোগ্লোবিনের স্তর বাড়ানোর কি কি খাবার খাওয়া উচিত।

শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব দেখা দিলে নানা রোগ ভোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। একজন মহিলার শরীরে ১২ গ্রাম ডেসিলিটার হিমোগ্লোবিন থাকা জরুরি। শরীরে আয়রনের অভাব হলে হিমোগ্লোবিনের স্তর কমতে থাকে।

পটাশিয়াম যুক্ত খাবার

শরীরে এর অভাবে মাথা ঘোরা, মুখে ঘা হওয়া, দুর্বলতা অনুভব করা, ক্লান্তি অ্যানিমিয়া, হাত ও পা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রঙ পরিবর্তন হওয়া, পিরিয়ডসে অধিক ব্লিডিং হওয়া, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক উপায় ও খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। কীভাবে, জেনে নিন—

১।আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান– আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। তাই এ সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। মুরগির লিভার, ডিম, আপেল, বেদানা, ডালিম, তরমুজ, কুমড়োর বীজ, খেজুর, জলপাই, কিশমিশ খেলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়।

২।ভিটামিন সি-এই ভিটামিনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। আবার ভিটামিন সি ছাড়া আয়রনের শোষণ সম্ভব হয় না। পেঁপে, কমলালেবু, স্ট্রবেরি, গোলমরিচ, সবুজ ফুলকপি, আঙুর, টমেটো, টক ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।

৩।ফলিক অ্যাসিড– এটি এক ধরনের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। লাল রক্তকণিকা তৈরিতে এই ফলিক অ্যাসিড সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, লিভার, ভাত, শিমের বীজ, বাদাম, কলা, ব্রকোলি ফলিক অ্যাসিডের উল্লেখযোগ্য উৎস।

৪।বিট- হিমোগ্লোবিনের স্তর বৃদ্ধির জন্য বিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক চিকিৎসক। আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ফাইবার ও পটাশিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস বিট। এটি লাল রক্ত কণিকা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫।আপেল-দিনে একটি আপেল খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ তো ঠিক থাকেই, তার পাশাপাশি আরও নানা উপকার পাওয়া যায়। আবার সমপরিমাণে বিট ও আপেলের রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।

৬।বেদানা- এই ফলটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা, ফাইবারে সমৃদ্ধ। বেদানা দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন একটি বেদানা খান। এমনকি বেদনার জুস পান করলেও সুফল পেতে পারেন।

আরও পড়ুন-

৬ মাস থেকে ৫ বছরের বাচ্চার খাবার নিয়ে   দুশ্চিন্তা দিন শেষ

বাচ্চার পুষ্টি নিয়ে ভাবছেন?অধিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ বাচ্চার খাবার তালিকা

নবজাতক শিশুর যত্ন ও পরিচর্যায় বাবা-মার করণীয়

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪০৭ other subscribers

WhatsApp Image 2022 02 01 at 9.56.07 AM

SS IT BARI- ভালবাসার টেক ব্লগ এ হেলথ/স্বাস্থ্য/স্কিন কেয়ার  এবং ইতিহাস বিষয়ক লেখালিখি করি। এর আগে বিভিন্ন পোর্টালের সাথে যুক্ত থাকলেও, SS IT BARI-আমার হাতেখড়ি। হেলথ/স্বাস্থ্য/স্কিন কেয়ার বিষয়ক বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে ভিজিট করুন http://ssitbari.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.