নামাজ কার জন্য পড়ি

নামাজ কার জন্য পড়ি – নামাজ হলো এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অতি নিকটে পৌঁছে যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। তার সমস্ত পেরেশানি, বালা-মুসিবত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ দূর করে দেন। তাই নামাজের মধ্যে আল্লাহর ভয় নিয়ে আসতে পারলেই বান্দার এই নামাজ আল্লাহর পছন্দনীয় নামাজ হয়ে যাবে। যখন কোনো ব্যক্তির ইবাদতে তাকওয়া যোগ হয় তখন সে ইবাদত বান্দার জন্য অনেক মর্যাদা নিয়ে আসে।

সৃষ্টিকর্তার স্মরণ

সে বিরল সম্মানের অধিকারী হয়। তাই কালে কালে যুগে যুগে যারা আল্লাহর আশেক হয়েছে আল্লাহ তাদের সম্মানের উচ্চ মাকামে পৌঁছে দিয়েছেন। সম্মান ও মর্যাদায় মানুষের জন্য স্মরণীয় করে রেখেছেন।
অনেকে নামাজ পড়ে, কিন্তু নামাজের হক আদায় করে না। নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হয় না। আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের কোনো বাছ-বিচার করে না। যে রুজি আমি আহার করছি এ দিয়ে শরীরে সে শক্তি পাবো, এ দিয়েই তো আমি আল্লাহর ইবাদত করব।
সুতরাং সেই রুজি ও উপার্জনের পথটি যদি বৈধ না হয়, তাহলে কিভাবে আমার ইবাদতে মনোযোগ আসবে? কিভাবে আমার ইবাদত কবুল হবে? হাদিস শরিফে এসেছে, কিয়ামতের দিন সব মানুষকে অবশ্যই পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে। তার মধ্যে দু’টি প্রশ্ন- তুমি কী উপায়ে অর্থ জমা করেছিলে আর কিভাবে তা ব্যয় করেছিলে? হাদিস শরিফে আরো এসেছে, দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
আপনি একাগ্রতার সাথে নামাজ পড়বেন। এই নামাজ যেন আপনার আমল ও আখলাকে আমূল পরিবর্তন এনে দেয় সে কথাও ভাববেন। কারণ আপনি রাসূলুল্লাহ সা:-এর শেখানো নামাজ পড়ছেন। যে নামাজ পৃথিবীর একটি বর্বর জাতিকে সভ্য মানুষে পরিণত করে দিয়েছে। এই নামাজের কারণে তারা মদ ছেড়েছে, জুয়া ছেড়েছে, সুদকে না বলেছে, এমন কোনো অপরাধ নেই যা থেকে তারা ফিরে আসেনি। সব বদ অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
অথচ আমার সেই প্রিয় নবীর উম্মত তাঁর শেখানো নামাজ পড়ি। সেই ফজিলত আমরা অর্জন করতে পারি না। দুর্বলতা আমাদের। দুর্বলতা আমাদের আখলাকের। আমরা নামাজকে নামাজের জায়গায় রেখে ভাবতে পারছি না। মহানবী সা: বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায় সে যেন তার রবের সাথে কথা বলে। তাই নামাজি যেন লক্ষ করে সে কীভাবে তার মালিকের সাথে কথোপকথন করছে’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, সহিহুল জামে, হাদিস নং-১৫৩৮)। অন্য এক হাদিসে নবী করিম সা: বলেন, ‘হে মুসলিমগণ! ওই ব্যক্তির নামাজ হয় না; যে রুকু ও সেজদায় নিজের পিঠ সোজা করে না’ (মুসনাদে আহমদ ও ইবনে মাজাহ)।
যে সালাতে মুমিনের নাজাত মিলবে সে সালাত যদি সঠিকভাবে আদায় না হয় তা বান্দার জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না। নামাজি নামাজ আদায় করছে অথচ নামাজের প্রতি তার ভালোবাসা নেই। উদাসীন হয়ে নামাজ আদায় করছে। অনেকে আবার নামাজ আদায় করতেও চাইছে না, গড়িমসি করে ওয়াক্ত হারিয়ে ফেলছেন। কেউ পড়ছেন সামাজিকতার নামাজ। মাথায় বড় টুপি। গায়ে লম্বা জামা। যখন কথা বলেন বেফাঁস কথা বলেন। যখন কাজ করেন দ্বীনের বিপক্ষে কাজ করেন।

অথচ নিজের বুজুর্গিপনা প্রকাশ করতে চান। এ শ্রেণীর নামাজিরা ফায়দা লুফে নেয়ার জন্য বেশ ধারণ করেছেন। দুনিয়ার স্বার্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য তারা ব্যস্ত। এগুলো দুনিয়ার নামাজ। রাসূল সা:-এর দেখানো বা শেখানো নামাজ নয়।
তাই নামাজ আদায় করছে কিন্তু সেই নামাজ তার জন্য কোনো ফায়দা নিয়ে আসতে পারছে না। নিছক লোক দেখানো এই নামাজ। সে তো এ নামাজ থেকে প্রকৃত কামিয়াবি হাসিল করতে চায় না। চায় না পরকালের কল্যাণ। তাই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘…দুর্ভোগ সে সালাত আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন। যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে’ (সূরা মাউন, আয়াত : ০৪-০৬)। এদের নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই অবগত আছেন।

তাই তিনি মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মোনাফেক ব্যক্তিরা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়। অধিকন্তু তিনিও তাদের প্রতারিত করে থাকেন। যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে দাঁড়ায়। তা নিছক লোক দেখানোর জন্য। আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে’ (সূরা নিসা : ১৪২)। ইবাদতে স্বরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে রাসূল সা: বলেছেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তাকে তুমি দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও, তবে ধরে নিয়ো তিনি তোমাকে দেখছেন’ (বুখারি, হাদিস নং-৫০; মুসলিম, হাদিস নং-০৮)।
বান্দার নামাজ যেন কোনোভাবে বিফলে না যায় সে জন্য আল্লাহ তায়ালা বান্দার নামাজ সঠিকভাবে ও সঠিক নিয়তে আদায় করার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। রাসূল সা: একাধিক হাদিসেও সহিহ নামাজের কথা বলেছেন। যে ব্যক্তির নামাজ হলো না, তার কিছুই হলো না।

কিয়ামতের ময়দানে বান্দার থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যে নামাজের হিসাব থেকে বাঁচতে পারবে তার জন্য অন্যান্য হিসাবও সহজ হয়ে যাবে। তাই নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি নামাজের সময় হলে সুন্দরভাবে অজু করে একাগ্রতার সাথে সঠিকভাবে রুকু-সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করে, তার এ নামাজ আগের সব গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। যতক্ষণ না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর এ সুযোগ ওই ব্যক্তির সারা জীবনের জন্য’ (মুসলিম, হাদিস নং-২২৮)।
আপনি আপনার নামাজকে সঠিকভাবে আল্লাহর দরবারে পেশ করুন, আপনার জন্য কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। আর নামাজে ফাঁকি দিয়েছেন তো নামাজের স্বাদ পাবেন না।

সময় আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না, বেলা শেষে মৃত্যুর ডাক আসবে। আমলবিহীন চলে যেতে হবে। নামাজ সঠিক হয়েছে তো আপনার সব কাজই সুন্দর হবে। গোছালো হবে। বরকতময় হবে। অন্যায় থেকে বেঁচে থাকবেন। এ কারণে কপট নামাজির লক্ষ করে হজরত আবু কাতাদাহ রা: থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী সা: বলেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর সেই ব্যক্তি, যে নামাজে চুরি করে’, তিনি বললেন, হে রাসূলুল্লাহ, নামাজে কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, ‘যে রুকু-সেজদা সঠিকভাবে আদায় করে না’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৮৮৫)।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

Table of Contents

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কিত ইংলিশে সকল সঠিক তথ্য জানতে আমাদের SS IT BARI- ভালোবাসার টেক ব্লকের আরেকটি সংস্করণ, US IT BARI- All About Healthy Foods ওয়েব সাইট টি ভিজিট করতে পারেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন –www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

২ comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.