ধর্মকে মানার আগে ধর্ম জানুন – আব্দুর রহমান আল হাসান

ধর্মকে মানার আগে ধর্ম জানুন – একবার একটা কশ্চপের সাথে খরগোশের দৌঁড় প্রতিযোগিতা হলো। খরগোশ খুব জোরে দৌঁড়াতে পারে। কিন্তু কশ্চপ ধীরস্থিরতার সাথে হাঁটে। ভাগ্যক্রমে দৌঁড় প্রতিযোগীতায় জিতে গেল কশ্চপ। কেন জিতলো, তা আমরা ছোটবলায় ইশপের গল্পে পড়েছি। ইশপের যত গল্প ছোটবেলায় পড়েছি, তার মধ্যে এটাই শুধুমাত্র শিক্ষণীয় ছিল। এখানে একটা সুক্ষ্ম মেসেজ আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। সামর্থ থাকলেই একজন ব্যক্তি লাভবান হতে পারে না। সাথে জ্ঞানও লাগে।

ধর্ম

বর্তমান সময়ে একটা শব্দ খুব বেশি শোনা যায়। “আমি প্রাকটিক্যাল মুসলিম।” এই শব্দের মানে কি বা অর্থ কি? প্যাকটিস শব্দটি একটি ইংরেজি শব্দ। আমরা সাধারণত প্রাকটিসিং মুসলিম বাক্য দ্বারা বুঝাই, আমি নামায পড়ি। আমি হজ্জ করি। আমি রোজা রাখি।

হতাশ হতে আল্লাহ কেন নিষেধ করেছেন: পড়ুন

কিন্তু ইসলাম শুধু এই দু্ই-তিনটা বিধানের নাম নয়।

ইসলাম হলো একটা পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে ভাই-বোন, মা-বাবা, দাদা-নানা সকলেই সমান। সকলেরই পরকালের মাপকাঠি হলো, কার কতুটুকু আমল রয়েছে। আমরা অধিকাংশ ব্যক্তিরাই জন্মগত মুসলিম। আমাদের মা-বাবা মুসলমান বিধায় আমরাও মুসলমান। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামকে এনেছেন, একটি পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে।

ইসলাম আমাদেরকে যেমন নামায-রোজা শিক্ষা দেয় তেমনি ইসলাম আমাদেরকে দ্বীনি ইলম শিখতে তাগিদ দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা তোমাদের জন্য ফরয। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, নিশ্চয় জ্ঞানীরাই আল্লাহকে অধিক ভয় করে।

আমরা কেমন ইসলাম পালন করবো?

আমাদেরকে কুরআনুল কারীম পড়তে পারা শিখতে হবে। কারণ এই কুরআন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন আমাদের হেদায়াতের জন্য। নবীজির উপর দীর্ঘ তেইশ বছর সময় ধরে এই কুরআন নাযিল হয়েছে। এই কুরআনে আমাদেরকে পূর্ণ গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। এই কুরআন আমাদেরকে বলে দিয়েছে, আমাদের কিভাবে চলতে হবে। আমাদের কিভাবে ইবাদত করতে হবে।

কেন আয়াতুল কুরসী আমরা সর্বদা পড়বো

কুরআন ভালোভাবে পড়তে পারার পর আমাদের কুরআনের অর্থ পড়া উচিৎ। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন রকম কুরআনের তরজমা পাওয়া যায়। একটা সংগ্রহ করে পড়ুন, দেখুন আল্লাহ কি বলেছেন। পারলে “মাআরিফুল কুরআন” সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। সেটা অনেক বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক সম্মত। ‍

কুরআন পড়ার পর আমাদের ইসলামী লেখকদের বই পড়া উচিৎ। তাদের উপদেশগুলো পড়া উচিৎ। তাদের কথাগুলো মান্য করা উচিৎ।

আমাদের পরবর্তীতে হাদীস পড়া উচিৎ। হাদীসে আল্লাহর নবী কি বলেছেন, তা জানা উচিৎ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক নর-নারীর উপর ফরজ।

আমরা তখনই সফলকাম হবো, যখন আমরা ইসলামের উপর চলবো। আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মতো পড়া উচিৎ। আমাদের উচিৎ নামাযের তাসবীহগুলো অর্থসহ আদায় করা।

আজকাল আমরা ধর্মকে না জানার কারণে প্রায় সময়ই ধর্মের অপব্যবহার করে থাকি। একটা হারাম কাজেও আমরা ধর্মের রেফারেন্স খোঁজার চেষ্টা করি। সুদ এবং ঘুষের মতো নিষিদ্ধ কাজ আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবসময় করে থাকি। অথচ আল্লাহ কুরআনে এই উভয়টাই হারাম করেছেন।

আল্লাহ সূরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে বলেন,

“যারা সুদ খায় তারা কেয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে যে, তাদের দেখে মনে হবে তারা মাতাল। অথবা শয়তান তাকে স্পর্শ করার দ্বারা পাগল করে তুলে। এটা এ জন্য যে তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সুদেরই মত। অথচ আল্লাহ্‌ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন। অতএব যার নিকট তার রব-এর পক্ষ হতে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তা তারই; এবং তার ব্যাপার আল্লাহর ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় আরম্ভ করবে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।”

আজকেই কেন তওবা করবেন: পড়ুন

আল্লাহ তা’আলা এই আয়াতে স্পষ্টভাবে সুদকে হারাম করেছেন। অথচ আজকের দুনিয়ায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকসহ অন্য সব জায়গাতেই সুদের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। ‍সুদ ছাড়া কেউ একটুও ব্যবসা করতে পারছে না। তাই সকলেই বাধ্য হয়ে সুদ নিচ্ছে অথবা সুদ দিচ্ছে।

অথচ আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সুদ নেয়া এবং সুদ দেয়া উভয়ই সমান অপরাধী। সুতরাং আমাদের সকলকে সুদ থেকে বিরত থাকা উচিৎ। আর আমাদের ইসলামের জেনে মান্য করা উচিৎ। অন্যথায় কেয়ামতের দিন আল্লাহ আমাদের পাকড়াও করবেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ২৬৩ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

 

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উদীয়মান প্রশ্ন এবং উত্তরের বাংলা ওয়েবসাইট এবং ইনকাম করার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম US IT BARI। আপনি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং উত্তর করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিমাসে ঘরে বসে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন। তাই এখুনি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ইনকাম করুন।

এ্যাকাউন্ট করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.