শর্করা । অ্যালার্জি। ভিটামিন সি। ক্যালসিয়াম। আমিষ। প্রাণীজ আমিষ। আঁশ জাতীয় খাবারের তালিকা সহ বিস্তারিত

জাতীয় খাবারের তালিকা-আজকের আলোচনায় যেসকল বিষয় যানতে পারবে, শর্করা । অ্যালার্জি। ভিটামিন সি। ক্যালসিয়াম। আমিষ। প্রাণীজ আমিষ। আঁশ জাতীয় খাবারের তালিকা সহ বিস্তারিত ।তাই অবশ্যই আপনি আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে হলেও পুরোপুরি পোস্টটি পড়ুন।

অ্যালার্জি জাতীয় খাবার

কোন খাবারে অ্যালার্জি থাকতে পারে আর কোনটি নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে তাই নিয়ে চিন্তায় পড়েন অনেকেই। কিন্তু কোনো খাবারে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হয় কি না তা বুঝতে হলে অন্তত একবার হলেও সেই খাবারটি খেতে হবে। কারণ আগ বাড়িয়ে কোনোভাবেই বলে দেয়া সম্ভব নয় যে কোন খাবারের কারণে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে।

সুষম খাবার কাকে বলে? সুষম খাবারের উপাদান সহ সুষম খাবার সম্পর্কে সকল তথ্য

শকরা জাতীয় খাবার কি কি

এমনকিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে মানুষের অ্যালার্জির সমস্যায় পড়ার হার বেশি। তবে সেটি যে সবার ক্ষেত্রেই ঘটবে এমন নয়। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই খাবারগুলো কথা যেগুলো খেলে অ্যালার্জির ভয় বেশি-

১।দুধ: প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য দুধের উপর নির্ভরশীল হতেই হয়। কিন্তু দুধ খেলে কারো কারো অ্যালার্জির সমস্যা হয়। বিশেষ করে গরুর দুধে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আড়াই শতাংশ শিশুর গরুর দুধে অ্যালার্জি থাকে। দুধে অ্যালার্জি থাকা আর ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স কখনোই এক নয়। তবে ৩ বছরের উপরে এই এলার্জি কমতে থাকে এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝে খুবই কম দেখা যায়।

২।ডিম: দুধের মতোই ডিমও একটি পুষ্টিকর ও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। তবে ডিম খেলেও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে। অধিকাংশ শিশুই দুধের মতোই ডিমের অ্যালার্জিতে ভোগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন থেকে এই অ্যালার্জি হয়। যদি কারও ডিমের কারণে শরীরে এলার্জির সৃষ্টি হয়, তাদের ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

৩।বাদাম: বাদাম খেতে কে না পছন্দ করে! বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট কিংবা এমনিতেই মুঠো মুঠো বাদাম খেতে বেশ লাগে। কিন্তু কাজু, পেস্তা, আমন্ড, আখরোট, ব্রাজিল নাট, এই ধরনের বাদাম খেলে অনেকেরই অ্যালার্জি হতে পারে। তবে কোনো এক ধরনের বাদামে অ্যালার্জি থাকা মানেই অন্য বাদামেও অ্যালার্জি হবে এমনটা নাও হতে পারে।

৪।চিনা বাদাম: সব ধরনের বাদামের মধ্যে চিনা বাদাম সবচেয়ে বেশি পরিচিত। দুঃখের বিষয় হলো এই বাদামের কারণেও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে খুব বাজেভাবে। শিশুদের মধ্যে প্রায়ই চিনা বাদামে অ্যালার্জি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে চিনাবাদাম এলার্জি ৪-৮ শতাংশ শিশু এবং ১-২ শতাংশ বয়স্কদের উপর প্রভাব ফেলে।

৫।শেল ফিশ: শেল ফিশ নামের কোনো মাছকে চিনতে পারছেন না তাই তো? আসলে এ নামে কোনো মাছ নেই। বরং শেল ফিশ বলতে সেই ধরনের মাছকে বোঝায় যে মাছ শক্ত খোসা বা আবরণ দ্বারা ঢাকা থাকে। এ ধরনের মাছ থেকে অ্যালার্জি হওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। বিভিন্ন প্রকারের শেল ফিশ যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, ওয়েস্টার, শামুক জাতীয় খাবার যার শক্ত খোল রয়েছে তার থেকেই অ্যালার্জি হয় বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের।

৬।গম বা গমের আটার তৈরি খাবার: ভাতের পরপরই আটা দিয়ে তৈরি খাবার রয়েছে আমাদের প্রধান খাদ্যের তালিকায়। কিন্তু গমের আটা, পাউরুটি খেলে অ্যালার্জি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। শিশুদের যদি গমে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে বার্লি বা অন্যান্য দানাশস্যের ক্ষেত্রেও সেই অ্যালার্জি দেখা যেতে পারে।

৭।সয়াবিন জাতীয় খাবার: সয়াবিনে বড়দের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা না থাকলেও সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে সয়াবিন জাতীয় খাবার থেকে অ্যালার্জি দেখা যায়। সাধারণত সয়া বিনস, সয়া মিট এবং সয়া মিল্কে অ্যালার্জি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ বছর বয়সের পর থেকে কমে আসে।

৮।মাছ: কারও কারও ক্ষেত্রে কোনো এক বিশেষ প্রকার মাছে অ্যালার্জি থাকে, আবার অনেকের স্যালমন, টুনা, ম্যাকরলে জাতীয় সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জি হয়। আপনার যদি কোনো মাছে অ্যালার্জি থাকে তবে সেই মাছ এড়িয়ে চলা উত্তম।

প্রোটিন জাতীয় খাবার সহ গর্ভবতী মায়ের খাবার সম্পর্কে বিস্থারিত জানুন

এসব ছাড়াও বেশ কিছু ফল ও সবজি থেকে অনেকের অ্যালার্জি হয়। যেমন বেগুন, গাজর, টমেটো, পিচ ফল, কলা থেকেও অনেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। কোনো খাবার থেকে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে তা অন্যের ক্ষেত্রেও অ্যালার্জির কারণ হবে, এমনটা নয়। তাই যে খাবারে আপনার অ্যালার্জি হয়, সেই খাবার খাওয়া থেকে আপনিই বিরত থাকুন। অন্যের সমস্যা না হলে তাকে খেতে বারণ করবেন না।

শর্করা জাতীয় খাবার

সাধারণত যেসব খাবারে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ বেশি থাকে এই ধরনের খাবার কি শর্করা জাতীয় খাবার বলা হয়ে থাকে।শকরা জাতীয় খাবার কি কি,

আমাদের শরীরকে শক্তিশালী করার জন্য  আমাদের শর্করা জাতীয় খাবার প্রয়োজন হয়। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তিনটি মৌলিক উপাদান নিয়ে শর্করা জাতীয় খাবার গঠিত হয়ে থাকেঃ  হাইড্রোজেন, কার্বন ও অক্সিজেন।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি?

এ জাতীয় খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো-  রুটি,  মুড়ি , চিড়া ,  আলু, পাউরুটি ইত্যাদি। আমরা 4 ক্যালরি শক্তি পেয়ে থাকে মাত্র 1 গ্রাম শর্করা মাধ্যমে। মানুষের শরীরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম শর্করা জমা থাকে। আর এই শর্করা থেকেই আমরা আমাদের শক্তির যোগান পেয়ে থাকি।

শর্করা জাতীয় খাবারের কাজ

এই জাতীয় খাবার খুব সহজে হজম যোগ্য তাই আমরা এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত শক্তির যোগান পেয়ে থাকি।  এটি আমাদের দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে।  এ জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শর্করার অভাব রয়েছে কিনা

১।ক্ষুধা অনুভব করা

২।বমি ভাব

৩।অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়া

৪।হার্টের কম্পন  বেড়ে যাওয়া

৫।ক্লান্তি এবং বিভ্রান্তিকর অনুভূতি

৬। মাথা ঘোরা

এমন সম্ভাবনা দেখা দিলে এটি শর্করার অভাব বলে চিহ্নিত করা হয়।  একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৭৬ গ্রাম শর্করা গ্রহণ করা  উচিত।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার

ভিটামিন সি এমন মানব শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কারণ রক্ত চলাচল থেকে শুরু করে শিরা ও ধমনীর কর্মক্ষমতা বজায় রাখা, কোষ গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সব কিছুতেই ভিটামিন সি-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ভিটামিন সি-এর প্রাত্যহিক চাহিদা হলো ৬০ মিলিগ্রাম। এই ভিটামিন সি আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই পেয়ে থাকি।

শকরা জাতীয় খাবার কি কি
,

ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উত্সের কথা ভাবতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লেবুর ছবি! কিন্তু জানেন কি, সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রথম দশটি খাবারের মধ্যেই লেবুর স্থান নেই? আসুন জেনে নিই সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত দশটি খাবারের কথা –

১।কাঁচা মরিচ : সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের তালিকার প্রথমেই রয়েছে আমাদের অতি চেনা কাঁচা মরিচ।

আমরা স্যুপ, সালাদ, ভর্তার সাথে বা এমনিতেই কাঁচা মরিচ খেয়ে থাকি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এর পরেই রয়েছে লাল মরিচের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচে রয়েছে ১৪৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

২।পেয়ারা : দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেয়ারা। পেয়ারা প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় প্রায় ১২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পেয়ারার জাতভেদে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

৩।বেল মরিচ: বেল মরিচ পাস্তা সস বা পিজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মেক্সিকান মরিচ। প্রতি ১০০ গ্রাম বেল মরিচে রয়েছে ১৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

৪।টাটকা ভেষজ: বেশির ভাগ ভেষজই নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর। সেটা তাজা হোক অথবা শুকনো। তবে তাজা থাইম ও পোর্সলেতে রয়েছে আর সব ভেষজ থেকে বেশি ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম থাইমে রয়েছে ১৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পোর্সলেতে রয়েছে ১৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

৫।গাঢ় সবুজপাতা এবং শাক: আমার খাবার হিসেবে যেসব কাঁচা পাতা খাই যেমন পুদিনা বা লেটুস তেমনই একটি হলো কধষব। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম কধষবতে রয়েছে ১২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। শাকের ভেতরে সরিষা শাক সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা শাকে রয়েছ ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা।গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার

৬।ব্রকোলি: সবুজ টাটকা ব্রকোলি ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উত্স। প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে রয়েছে ৯৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

৭।কিউয়ি ফল: কিউয়ি ফল ভিটামিন সি-এর আরেকটি উত্কৃষ্ট উত্স। প্রতি ১০০গ্রাম কিউয়িতে রয়েছে ৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

৮।পেঁপে: আমাদের অতি পরিচিত ফল পেঁপে রয়েছে অষ্টম স্থানে। পেঁপেকে ভিটামিন এ এবং ফোলেটের আধার হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হলেও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে রয়েছে মিলিগ্রাম ৬২ ভিটামিন সি।

৯।কমলা: কমলার খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

১০।স্ট্রবেরী: চমত্কার স্বাদের ফল স্ট্রবেরী এমনিতে খাওয়ার পাশাপাশি কেক, আইসক্রিম, ডেজার্ট এবং আরো বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরীতে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার

আমাদের শরীরের কাঠামো তৈরি হয় হাড়ের মাধ্যমে। অথচ হাড়ের যত্নের বিষয়ে আমরা বেশির ভাগ মানুষই খুব উদাসীন বা তেমন ভাবে কিছুই জানি না। কয়েকটি খাবার বা খাদ্য উপাদান আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রয়েছে যেগুলি আমাদের হাড়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।শকরা জাতীয় খাবার কি কি

যেমন, লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড, সফট ড্রিংকস বা নরম পানীয়, চা ও কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন, অতিরিক্ত প্রোটিন বা প্রাণীজ প্রোটিন ইত্যাদি। তবে এমন অনেক খাবার বা খাদ্য উপাদান রয়েছে যেগুলি নিয়মিত খেতে পারলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হয়, হাড় হয়ে ওঠে মজবুত।

ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবারগুলো হল

১) কমলালেবু, মুসম্বি, পাতিলেবুর মতো যে কোনও লেবুতেই থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড আর ভিটামিন সি যা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দ্রুত মেটাতে সাহায্য করে।

২) কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে থাকে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ১০০ গ্রাম কাঠ বাদামে প্রায় ২৬৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তাই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন পাতে রাখুন এক মুঠো কাঠ বাদাম।

৩) ব্রোকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়ামে ভরপুর এই সবজি শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৪) ৫০ গ্রাম ঢ্যাড়স বা ভেন্ডিতে প্রায় ১৭২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তাই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে পাতে রাখুন ঢ্যাড়স। উপকার পাবেন।

৫) শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সয়াবিন অত্যন্ত কার্যকর। এক কাপ সয়াবিনে প্রায় ১৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত পাতে রাখুন সয়াবিন। উপকার পাবেন।

৬) তিলের বীজে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ১০০ গ্রাম কাঁচা তিলের বীজে ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।

আমিষ জাতীয় খাবার

মানুষের শরীরের পরিপূর্ণ বৃদ্ধি ও শরীর নামক এ যন্ত্রকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আমিষকে তাই ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

অতিরিক্ত আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ কি ভালো?

মানবপেশীর গঠনের জন্য এটি দরকারী হলেও এটির পরিমিত গ্রহনের দিকটাও বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণ লিভার এবং কিডনির কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার কি ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে?

প্রাণীজ আমিষ যা রেড মিট হিসাবে পরিচিত যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস, শুকরের, মহিষের, উঠের এবং দুম্বার মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অনেকরকম খাবার থেকে আমরা আমিষ গ্রহণ করে থাকি। প্রাণীজ আমিষ ছাড়াও শাকসবজি, ফলমূল থেকেও আমরা আমিষ গ্রহণ করতে পারি।

আমিষ জাতীয় খাবারের তালিকা

১।মুরগীর মাংস

২।মাছ (সামুদ্রিক মাছ টুনা, কড, ৩।ফিলেট অফ স্যামন, শ্রিম্প -এ আমিষ এর পরিমান বেশি থাকে।)

৪।গরুর মাংস

৫।ডাল (সকল প্রকারের ডাল- ৬।ছোলা, মুগ, মটর, মুশুরি ইত্যাদি।)

৭।দুধ

৮।দই

৯।পনির

১০।বীজ (কুমড়োর বিচি, তিল, ১১।বাদাম, আলমন্ড,

১২৷কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম)

১৩।ডিম

১৪।শিম জাতীয় সকল সবজি

১৫। ব্রোকলি

১৬।সোয়াবেন বড়ি ও সোয়ামিল্ক (অন্যান্য দেশে টোফু নামে পরিচিত)

কোন বয়সে কি পরিমাণ আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত

১।ছোট বাচ্চাদের জন্য দিনে ১০ গ্রাম আমিষ।

২।স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের জন্য দিনে ১৯ – ৩৪ গ্রাম

৩।টিনএজ ছেলেদের জন্য দিনে ৫২ গ্রাম আমিষ

৪।টিনএজ মেয়েদের জন্য দিনে ৪৬ গ্রাম আমিষ

৫।পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য দিনে ৫৬ গ্রাম আমিষ

৬।পূর্ণবয়স্ক মহিলাদের জন্য দিনে ৪৬ গ্রাম আমিষ

৭।প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা যদি প্রেগন্যান্ট হয় বা বাচ্চা বুকের দুধ খায় তাহলে দিনে ৭১ গ্রাম আমিষ।

আঁশ জাতীয় খাবার

খাদ্যের উপাদান ছয়টি, যথা- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এটা আমাদের সবার জানা। খাবারের আঁশ জাতীয় অংশ বা আঁশ জাতীয় খাবার এদের কোনোটির মধ্যেই অন্তর্ভুক্তি পাচ্ছে না। এ খাবারের গুরুত্বও খাটো করে দেখার উপায় নেই।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

সবকিছু বিবেচনা করে আঁশজাতীয় খাবারকে এখন আরও একটি খাদ্য উপাদান হিসেবে ধরা হচ্ছে। একেই বলা হয় ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার। সাধারণভাবে আঁশজাতীয় খাবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রে হজম হয় না। এর কারণ হল- এদের হজম করার জন্য আমাদের পরিপাকতন্ত্রে কোনো পাচক রস বা এনজাইম নেই।

শকরা জাতীয় খাবার কি কি
,

হজম না হওয়ার জন্য এটা ধারণা হতে পারে, এগুলো কি প্রয়োজনহীন? এটা ঠিক নয়। খাবারের আঁশ জাতীয় অংশ হল হজম না হওয়া শর্করার অংশ। এগুলো আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি বা শক্তি সরবরাহ না করলেও তা অনেক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করবে, যা আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় শর্ত।

খাদ্যের আঁশ অংশটুকু হজম না হওয়ার কারণে এগুলো পরিপাকতন্ত্রের বেশ কিছু জলীয় অংশ শোষণ করে ধরে রাখে এবং এই জলীয় অংশসহ এগুলো মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে।

এতে মল নরম হয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়। আরামদায়ক মল ত্যাগের জন্য মলদ্বারের বেশ কিছু ঝামেলামুক্ত রোগ প্রতিরোধ হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হল- পাইলস বা অর্শ, ভগন্দর বা এনাল ফিসার, পায়ুপথের ফোঁড়া বা পেরি এনাল অ্যাবসেস ইত্যাদি।

যারা বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন তাদের পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সার, অ্যাপেনডিসাইটিস, ডাইভারটি-কুলাইটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হার্নিয়া হওয়ার যথেষ্ট আশংকা থাকে। আঁশযুক্ত খাবারে তা অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব।

খাবারের আঁশ পরিপাকনালী থেকে আমাদের খাবারের কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়, এর ফলে রক্তে কোলেস্টেরলসহ চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালীর রোগ বা অ্যাথেরোসক্লেরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। খাদ্য গ্রহণের পর আমাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা যাতে হঠাৎ করে বেড়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে আঁশজাতীয় অংশ গুরুত্ব বহন করে।

এতে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক সময় রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাবার সেটির নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা বেশি আঁশজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন তাদের পিত্তথলির রোগ ও লিভারের রোগও কম হয়।

শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা-মার করণীয়

অনেক দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে এর প্রভাব মনের ওপর পড়তে পারে। এতে দিনের কাজকর্মের রুটিন ব্যাহত হয়। কাজে-কর্মে মনোসংযোগ সুষ্ঠু হয় না, অশান্তি, উদ্বিগ্নতা, কোনো কঠিন রোগ হয়েছে এমন ধারণা মনে চেপে বসে।

শকরা জাতীয় খাবার কি কি

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত মোটামুটি সব খাবারের মধ্যেই কমবেশি আঁশজাতীয় অংশ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে শাক-সবজিতে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা দিনকে দিন খাবার অংশটাকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছি, যা আমাদের ভুল খাদ্যাভ্যাসের জন্য বা অসচেতন ও উদাসীন পুষ্টি জ্ঞানের জন্য হয়ে থাকে।

নবজাতক শিশুর যত্ন ও পরিচর্যায় বাবা-মার করণীয়

হয়তোবা এই কারণের জন্য উপরোক্ত রোগের ঘটনা হরদম বেড়েই চলেছে। এটা কি খুশির সংবাদ নয় যে, খাবারের এই অভ্যাসগত পরিবর্তনের দ্বারা অনেক জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে আমরা নিজেদের অনেক দূরে রাখতে পারি? তাই জরুরি হল খাদ্যে আঁশজাতীয় খাবারের পরিমাণ ঠিকমতো থাকা।

আঁশ জাতীয় খাবার

১।শাক-কচুশাক, মিষ্টি আলুর শাক, কলমিশাক, পুদিনা পাতা, পুঁইশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, লাউয়ের ও মিষ্টি কুমড়ার আগা-ডোগা শাকে প্রচুর আঁশ অংশ রয়েছে।

২।অপেক্ষাকৃত বেশি আঁশযুক্ত সবজির মধ্যে রয়েছে সজনে, কলার মোচা, ঢেঁড়স, ডাঁটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শিম, পটোল, কচু, বেগুন, বরবটি, মটরশুঁটি।

৩।আঁশজাতীয় ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঁশ অংশ থাকে বেল, পেয়ারা, কদবেল, আমড়া, আতাফল, নারকেল, কালোজামের মধ্যে। এছাড়াও গাব, কামরাঙ্গা, পাকা টমেটো, পাকা আম, পাকা কাঁঠাল, আপেল ও আমলকীর মধ্যে মাঝারি পরিমাণে আঁশ থাকে।

৪।মটর, মুগ, ছোলা ও খেসারি ডালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঁশ পাওয়া যায়।

৫।যব, ভুট্টা, আটা, তিল, কাঁচামরিচ ও সরিষাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আঁশ বিদ্যমান।

এমন নয় যে, খাবারগুলো দামি, সহজলভ্য নয় বা স্বাদে ভালো নয় তা কিন্তু না, শুধু চাই ইচ্ছা, তাতেই আপনার গতানুগতিক আংশিক ভুল খাদ্যাভ্যাসকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ খাদ্যাভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন-

৬ মাস থেকে ৫ বছরের বাচ্চার খাবার নিয়ে   দুশ্চিন্তা দিন শেষ

বাচ্চার পুষ্টি নিয়ে ভাবছেন?অধিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ বাচ্চার খাবার তালিকা

নবজাতক শিশুর যত্ন ও পরিচর্যায় বাবা-মার করণীয়

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

 

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪০৭ other subscribers

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে

pp

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখি করি। এর আগে বিভিন্ন পোর্টালের সাথে যুক্ত থাকলেও, SS IT BARI-আমার হাতেখড়ি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে ভিজিট করুন http://ssitbari.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.