জমির দলিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-নিজেই হয়ে উঠুন আমিন

জমির দলিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-জমিজমা সকলের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর জমির মালিকানার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে জমির দলিল। জমি দলিল ব্যতিত জমির মালিকানা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই জমি দলিল সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখা একান্ত প্রয়োজন। পারিবারিক কলহের মধ্যেও সিংহভাগে হয়ে থাকে জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে।

জমির দলিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য

বিভিন্ন মামলা মুকদ্দমায় হয়রানির শিকার হতে হয় জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ধারণা না থাকার কারণে। তাই সকলের উচিত জমির দলিল সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা।

অনলাইনে জমির খতিয়ান যাচাই করার সঠিক পদ্ধতি

জমির দলিল সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য নিয়েই আজকের আলোচনা। আশা করছি এই পোস্ট থেকে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য পেয়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

জমির দলিল

রেজিস্ট্রেশন বিধান আইন মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা তাদের সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন করে তাকে জমির দলিল বলা হয়। জমিজমা ক্রয় বিক্রয় বন্টন এবং হস্তান্তরের জন্য দলিল শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দলিলের মধ্যে মৌলিক বিষয়গুলো হলো *সম্পত্তির বর্ণনা *দাতার পরিচয় *গ্রহীতার পরিচয় *সাক্ষীদের পরিচয় *দলিল সম্পাদনের তারিখ। দলিল সম্পাদনের পর সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধন এর বিধান রয়েছে। এতে দলিলের আইনি বৈধতার দৃঢ় হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারকে রাজস্ব দেয়া বাধ্যতামূলক।

জমির দলিলের প্রকারভেদ

বাংলাদেশ ভূমি আইন অনুযায়ী জমির দলিল মোট ৯ প্রকার।যথাঃ

১।সাফ-কাবলা দলিল।

২।দানপত্র দলিল।

৩।হেবা দলিল।

৪।হেবা-বিল এওয়াজ দলিল।

৫। এওয়াজ দলিল।

৬।বন্টননামা দলিল।

৭।অছিওতনামা দলিল।

৮।নাদাবী দলিল।

৯।উইল দলিল।

১।সাফ-কবালা দলিল

কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি অন্যের নিকট বিক্রয় করে যে দলের সম্পাদন রেজিস্ট্রি করে দেন তাকে সাফ কবালা বা বিক্রয় কবালা বা খরিদ কবালা বলে। এই কবালা নির্ধারিত দলিল  স্ট্যাম্পে লেখার পর দলিলদাতা অর্ধেক বিক্রেতা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিল সহি সম্পাদন করে গ্রহীতা অর্থাৎ খরিদ্দার এর বরাবরের রেজিস্ট্রি করে দিবেন। দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরিদ্দারের উপর অর্পিত হলো।

২।দানপত্র দলিল

যেকোনো সম্প্রদায়ের যে কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি দান করতে পারেন। এই দানপত্র দলিলের শর্তবিহীন অবস্থায় সকল প্রকার ক্ষমতা প্রদান দান করতে হবে। স্বত্ব সম্বন্ধে দাতার কোন প্রকার দাবি থাকলে দান শুদ্ধ হবে।

৩।হেবা দলিল

মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই সেবা দলিলের অর্থ হলো দানপত্র দলিল। এই দলিল কোন কিছুর বিনিময়ে নয় বরং সন্তুষ্ট হয়ে দান করা হয়। এই দলের শর্তবিহীন অবস্থায় দান বা বিক্রয় রেহান রূপান্তর ইত্যাদি সকল ক্ষমতা প্রদানে দান বা হেবা করতে হবে। স্বত্ব সম্বন্ধে দাতার কোন প্রকার দাবি থাকলে সেই দান বা হেবা শুদ্ধ হবে না এবং তা যেকোনো সময় বাতিলযোগ্য।

৪।হেবা-বিল এওয়াজ দলিল

হেবা-বিল এওয়াজ মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি দানপত্র দলিল ও বটে। এই দান ও সন্তুষ্ট হয়ে করা হয়।তবে এটা কোন কিছুর বিনিময়ে দান করা হয়ে থাকে যেমন কোরআন শরীফ জায়নামাজ তসবি মোহরানার টাকা এমনকি যেকোনো জিনিসের বিনিময়ে হতে পারে যেমন আংটি ইত্যাদি। এই দলিল সম্পূর্ণ শর্তবিহীন অবস্থায় গ্রহীতা হস্তান্তর বা রূপান্তরের সকল ক্ষমতার অধিকারী হবে এবং বিক্রেতার সকল স্বত্ব গ্রহীতার নিকট অর্পিতা হবে।

এই দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হবে।এই দলিল যদি টাকার বিনিময় হয় এবং ক্রমিক ওয়ারিশী সূত্রে আগে পরে তিন ধাপের পরের ব্যক্তিকে তৃতীয় ব্যক্তিকে হেবা বিল এওয়াজ মূলে দান করে থাকে তাহলে শরীক কর্তৃক জানার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে প্রিয়েমশান করতে হবে।

৫। এওয়াজ দলিল

যেকোনো সম্প্রদায়ের বা একই সম্প্রদায়ের বা একই বংশের বা কোন ব্যক্তি যে কোন ব্যক্তির সহিত তাহাদের সুবিধামতো একের ভূমি অপরকে দিতে পারেন। অর্থাৎ পরস্পর এওয়াজ পরিবর্তন সারতে পারেন। এই দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হবে। এওয়াজ পরিবর্তন দলিলের একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হল।

যেমন আপনার জমি আমার বাড়ির কাছাকাছি এবং আমার জমি আপনার বাড়ির কাছাকাছি। উভয়ের জমি উভয়ের নিকটস্থ। কাজেই আপনি আপনার জমি আমাকে এবং আমি আমার জমি আপনাকে দিয়ে উভয়ে একটি দলিল সম্পাদন করে রেজিস্ট্রি করে নিলাম। মূলত এটি হচ্ছে এ ওয়াজ দলিল এটি কেহ প্রিয়েমশান করতে পারে না।

৬।বণ্টননামা দলিল

শরীকগণের মধ্য সম্পত্তি ক্রমে নিজ নিজ ছাহাম প্রাপ্ত হয়ে উক্ত ছাহামের বাবদ যে দলিল করতে হয় তাকে বন্টনামা দলিল বলে। একই সম্পত্তিতে মালিক একই বংশের লোককে সাধারণত শরিক বলা হয়। শরিক মূলত দুই প্রকারের উত্তরাধিকার সূত্রের শরিক, ও কোন শরিকের হতে খরিদ সূত্রে শরীক। বন্টন নামা দলিল করার সময় সকল শরিক গণ দলিলে পক্ষ ভুক্ত থেকে ও দস্তখত করে বন্টনামা দলিল করতে হবে। কোন একজন শরিক বাদ থাকলে বন্টন নামা শুদ্ধ হবে না।

এই দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে কিন্তু ঘরোয়া ভাবে বন্টন করে সকল পক্ষগন যদি দলিলের দস্তখত করে থাকেন তাহলেও বন্টননামা কার্যকরী হতে পারে।যদি শরীকগন বন্টন করতে রাজি না হন তাহলে যেকোনো শরীক বন্টনের জন্য আদালতে নালিশ করতে পারেন।

৭।অসিয়তনামা দলিল

কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্য অছিয়তকারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্য একজনকে বা কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রদান করে থাকেন এবং অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর যদি তার উত্তরাধিকারীগন দাবি করে তাহলে যাকে সম্পত্তি অছিয়ত করা হলো সেই ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয় অংশ পাবে এবং দুই তৃতীয় অংশ মালিক উত্তরাধিকারীগন সবাই হবে।

৮। নাদাবি দলিল

কোন ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট কোন সম্পত্তিতে তার স্বত্বাধিকার নাই মর্মে অথবা স্বত্বাধিকার ত্যাগ করেছেন মর্মে দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দিতে পারেন এরূপ দলিলকেই না-দাবী দলিল বলা হয়।

৯। উইল দলিল

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক তাদের নিজ সম্পত্তি তাদের আত্মীয়দের মধ্য যাকে ইচ্ছা উইল করে দিতে পারেন। যিনি উইল করেন তিনি একের অধিক উইল করতে পারেন। কিন্তু সর্বশেষ যে উইল করলেন কেবল ওইটাই কার্যকরী হবে।

জমির খতিয়ান

ভূমি জরিপ কালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় সেটি হচ্ছে মূলত জমির খতিয়ান। সিএস আরএস‌ এসএ এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশে।

জমির দাগ নাম্বার

যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজার নকশায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত  করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খণ্ডকে আলাদা আলাদা নাম্বার দেওয়া হয়। আর এই নাম্বারেই হলো জমির দাগ নাম্বার। একেক নাম্বারের ভূমির পরিমান একেক রকম হতে পারে মূলত নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খুটি বা আইল দিয়ে সরে জমিন প্রদর্শন করা হয়।

পর্চা

ভূমি জরিপ কালে চূড়ান্ত প্রস্তুত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভূমি মালিকদের প্রদান করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। এই পর্চা রাজস্ব কর্তৃক সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শুনানির পর চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয় ।

জমা খারিজ

যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলা হয়। মূল থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।

মৌজা

যখন সিএস জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক একবার একাধিক গ্রাম ইউনিয়ন পাড়া মহল্লা আলাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করা হয় আর বিভক্তিকৃত প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 

নিজের কষ্টে অর্জিত অর্থের জমি ক্রয়ের পর ওই জমি নিজের দখলে নিতে ব্যর্থ হলে এবং নিজের নামের নামজারি করতে বিলম্ব করলেও অসাধু ও চতুর জমি বিক্রেতা জমি আবার অন্যত্র বিক্রয়ের প্রচেষ্টা চালাতে পারে। তাই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সকলকে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। যাতে কোন প্রতারনার সম্মুখীন না হতে হয়।

নামজারি কাকে বলে?

ক্রয় সূত্রে অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যে কোন সূত্রের জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকেই নামজারি বলে।

আমিন কি?

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন।

ওয়ারিশ কাকে বলে?

ধর্মীয় বিধানের অনুযায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্য যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিক হয় তাদেরকে ওয়ারিশ বলে।

শেষ কথা

আশা করছি উপরের এই জমির দলিল বের করার সম্পর্কিত পোস্ট থেকে আপনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। এরপরেও আপনাদের যদি জমির দলিল সম্পর্কিত আরো কোন জিজ্ঞাসা থেকে থাকে তাহলে আপনারা পোষ্টের কমেন্টসে আমাদের জানিয়ে দিবেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত আপনাকে রিপ্লাই করার বা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

বিশেষ দ্রষ্টব্য –

উপরের ইনফরমেশনগুলো সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট থেকে কালেক্ট করা। এজন্য কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে পরবর্তী পোস্ট পড়ার অনুরোধ রইল।

আরো তথ্য

জমির দলিল বের করার নিয়ম

অনলাইন পাসপোর্ট আবেদন করার নতুন নিয়ম

নতুন নিয়মে পাসপোর্ট করতে কত টাকা খরচ লাগে

এক নজরে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস সমূহ-নতুন আপডেট

ই পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়-নতুন নিয়মে আপডেট

আশা করি যারা ই পাসপোর্ট নিয়ে ভাবছেন এই পোস্টটি থেকে আপনাদের হানডেট পারসেন উপকারে আসতে পারে ই পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানতে আমাদের ই-পাসপোর্ট এই ক্যাটাগরি টি ভিজিট করুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪৭৭ other subscribers

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে :এএখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে :এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুইটার থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- লিংকদিন থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুম্বলার (Tumblr)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- পিন্টারেস্ট (Pinterest)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাইলে এই ফেসবুক পেজটি লাইক করে সাথেই থকুন : এখানে ক্লিক করুন।

SS It BARI JOB NEWS

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম