চোখ উঠার লক্ষণ এবং চোখ ওঠা সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

চোখ উঠার লক্ষণ –চোখ উঠায় একটি সংক্রমিত রোগ। এই রোগটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। বর্ষা মৌসুমে এই রোগের প্রকোপ থাকে বেশি। এটি এমন ছোঁয়াচে রোগ যা পরিবারের একজনের হলে বাকি সদস্যেদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকের মতে কোন গ্রন্থিতে তেল জমে থাকলে গ্রন্থিটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চোখ চোখ ওঠা রোগটি দেখা দেয়। তবে এই রোগ নিয়ে আমাদের দেশে অনেক ধরনের কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে।

চোখ উঠার লক্ষণ

যেমন এই রোগে আক্রান্ত হলে তার আশেপাশে ধারে কাছে কেউ যেতে চায় না। তাকে হেয় চোখে দেখে। কিন্তু বর্তমানে এই রোগের অনেক ধরনের ড্রপ এবং ওষুধের মাধ্যমে চোখ ওঠা নিরাময় করা সম্ভব। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে চোখ ওঠার সমস্যার সমাধান করা যায়।

চোখ উঠার সমস্যা নিয়ে চিন্তিত? ঘরোয়া সমাধান চাচ্ছেন? বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলে আমরা চোখ ওঠার ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে তুলে ধরব। চোখ উঠার কিছু ঘরোয়া সমাধানের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই চোখ উঠার ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে সকলেরই জানা উচিত। আজকের আর্টিকেলে এই সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের সাথে থাকুন।

চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস

চোখ ওঠা বা কনজাংটিভিটিস হলো একটি জীবাণু ঘটিত রোগ। সব বয়সের সব ধরনের মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। একজনের শরীরে এই রোগের জীবাণু থাকলে অন্যজনের শরীরে ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

চোখের সাদা অংশকে বলা হয় কনজাংটিভা। চোখের সাদা অংশ লাল বা টকটকে লাল হয়ে গেলে বোঝা যায় যে চোখ উঠেছে। চোখ ওঠার সমস্যাটি অনেক সময় একটি চোখে বা দুটি চোখেই হতে পারে। বর্ষাকালে এ রোগের ভাইরাস বেশি থাকে।

ভিটামিন সি এর অভাব মেটাবে এই খাবারগুলো

এ সময় চোখে ব্যথা অনুভব হয়, পুজ বের হয় এবং রক্তক্ষরণও হতে পারে।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যথাসময়ে যদি এই রোগের প্রতিকার না করা হয় তাহলে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চোখ ওঠার লক্ষণ বা উপসর্গ

চোখ ওঠা একটি জীবাণু ঘটিত রোগ। সাধারণত বর্ষাকালে এই রোগটি বেশি থাকে বলে এই সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এটি যেহেতু জীবাণুর কারণে ঘটে থাকে তাই জীবাণু থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যায় ততই ভালো। চোখ ওঠার কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ রয়েছে। দেখে নিন চোখ ওঠার লক্ষণ বা উপসর্গগুলো-

*চোখ লাল হয়ে যায়।

*চোখে চুলকায়।

*চোখ থেকে পানি পড়ে।

*চোখের পাতা ফুলে যায়।

*চোখে যন্ত্রণা করে।

*চোখের দুই পাতা আঠা লেগে যায়। ঘুম থেকে উঠার পর চোখের দুই পাতা লেগে থাকে।

চোখ ওঠার ঘরোয়া প্রতিকার

চোখ উঠার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রোগীকে সবসময় জীবাণু থেকে দূরে থাকতে হবে। যেকোনো সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। তাই বলে এই নয় যে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে হবে নিজের সাবধানতা অবলম্বন করে এমন ভাবে দূরে থাকতে হবে যাতে তার ওপর কোন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। চোখ উঠার সাধারণত ঘরোয়া সমাধান গুলোতে অনেক সময় এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দেখে নিন চোখ ওঠার ঘরোয়া সমাধান-

১) তাওয়া অথবা চাটু গরম করে শুকনো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে তাপ নিয়ে সেই কাপড় চোখে ধরুন। এতে কয়েকবার চোখে সেক দিলে ক্ষতি কারক ব্যাকটেরিয়া মরে যাবে এবং গ্রন্থির তেল শুকিয়ে চোখ ওঠা। সমস্যার সমাধান পাবেন।

২)কয়েকটি পেয়ারা পাতা একটি তাওয়ার মধ্যে নেড়ে গরম করে কাপড়ের জড়িয়ে চোখের উপর ধরে রাখুন। দিনে ৩-৪ বার এই কাজটি করলে আরাম মিলবে এবং চোখ ওঠার সমস্যার প্রতিকার হবে।

৩) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী তেল যেমন; ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে অতি সহজেই চোখ উঠার সমস্যাকে দূরে রাখা সম্ভব। প্রথমে চোখে গরম ভাপ নিয়ে তারপর একটি তুলার মধ্য ক্যাস্টর অয়েল মাখিয়ে আলতো করে চোখে ধরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দূর হবে।

৪) নিয়মিত চোখের পাতা ও চোখের পাপড়ি পরিষ্কার করে রাখুন। চোখের পাতা পরিষ্কার করতে তুলা অথবা নরম সুতির কাপড় কুসুম গরম পানিতে ডুবিয়ে পানির চেপে নিন। এরপর সেই কাপড় দিয়ে চোখের পাতা ও পাপড়ি ভালো করে পরিষ্কার করুন দিনে এটি কয়েকবার করতে পারেন।

৫) চোখে গরম সেক দেওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি অথবা বরফে কাপড় তু অথবা তুলা ঠান্ডা সেক দিন চোখে।

৬) দুটি ব্ল্যাক টি ব্যাগ নিয়ে চা তৈরি করার পর ব্যাগটি সরিয়ে ফ্রিজে 30 মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠান্ডার টি ব্যাগ চোখের পাতার উপর 10 মিনিট ধরে রাখুন এতে করে চোখে আরাম পাবেন। দিনে কয়েকবার এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন।

চোখ ওঠার কারণ

চোখ উঠে সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে। এছাড়াও ভাইরাস আক্রমণের কারণে চোখ উঠার সমস্যাটি দেখা দেয়। চোখ উঠা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র  ব্যবহার করলে এই রোগটি হতে পারে। অপরিষ্কার জীবাণুমুক্ত স্থানে বা নোংরা পরিবেশে জীবন যাপনের কারণেও চোখ উড়তে পারে। বর্ষা মৌসুমে চোখ ওঠার প্রকোপ বেশি থাকে। এ সময় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হওয়ায় চোখ ওঠার সমস্যাটি বেশি পরিলক্ষিত হয়।

চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবেনা

চোখ ওঠার সমস্যায় যদি আপনি ভোগে থাকেন তাহলে কিছু খাবার আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে।এই খাবারগুলো এজন্যই এড়িয়ে চলতে হবে যাতে করে আপনি চোখ উঠার সমস্যার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। চোখ ওঠার সমস্যায় যে সকল খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা সেগুলো হল-

১) বেশি চিনিযুক্ত খাবার।

২) রিফাইন্ড খাবার।

৩) প্রসেসড মিট।

৪) অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার।

৫) মার্জারিন।

৬) ক্যান ফুড।

৭) অখাজ খাবার যেমন; ইলিশ, চিংড়ি, বেগুন‌, সিম ইত্যাদি।

চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবে

১) পিংক সল্ট।

২) কমলা ও হলুদ রঙের ফল।

৩) সবুজ শাকসবজি।

৪) ত্রিফলা, আমলকি, কিসমিস।

৫) মধু এবং ঘি।

চোখ উঠলে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন

অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে চোখ উঠার সমস্যায় চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। তবে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন সেটি জানতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চোখ অতি সেন্সিটিভ অঙ্গ।তাই চোখে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন অবশ্যই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

চোখের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ক্লোরামফেনিকল দিনে তিন থেকে চার বার চোখে এক ফোটা করে ব্যবহার করা যায়।এটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি সেকেন্ডারি ইনফেকশন প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। যদি চোখে চুলকানি থাকে অতিরিক্ত তাহলে এন্টিহিস্টামিন খেতে পারেন। তবে এ সকল ওষুধগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

চোখ উঠলে কতদিন থাকে

সাধারণত দেখা যায় চোখ উঠলে দুই থেকে তিন দিন থাকে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রে চোখ উঠলে ৫ থেকে ৭ দিনও লেগে যায় তা সারতে। তবে সাধারণভাবে এই সময়ের বেশি যদি লাগে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চোখ ওঠার সমস্যায় যদি ঝুঁকির মাত্রা বেশি হয়ে যায় তাহলে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চোখ উঠলে করনীয় কি

চোখ ওঠার সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে হলে রোগীকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এসব নিয়মকানুন না মানলে রোগী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। চোখ ওঠার রোগীর জন্য করণীয় কাজগুলো হলো-

১) চোখের নোংরা পানি ধুলাবালি দূষিত বাতাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা।

২) সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চোখে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা।

৩) চোখে হাত লাগানোর পর দুই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা।

৪)আক্রান্ত চোখ পরিষ্কার করার জন্য সব সময় নরম সুতি কাপড় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।

৫) চোখ ওঠার সমস্যা চলাকালীন সময়ে বাইরে গেলে অবশ্যই সানগ্লাস পড়ে যেতে হবে।

৬) যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রোগীর থেকে আলাদা জিনিস ব্যবহার করুন।

৭) চোখে ঘনঘন হাত দিবেন না।

৮) চোখ ওঠা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশি থেকে অন্যদের জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই হাঁচি কাশি কমাতে অবশ্যই চিকিৎসা নিবেন।

চোখ উঠার দোয়া

اللهم اني اعوذ بك من شر سمي وشري بصري وشري لساني وشري قلبي وشري مني

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সাররি সামিয়ি ওয়া সাররী বাসারী ওয়া সাররী লিসানী ওয়া‌ সাররী কলবি সাররী মানিয়্যি।

অর্থ: হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আমার কানের অপকারিতা চোখের অপকারিতা জবানের অপকারিতা অন্তরের অপকারিতা এবং বীর্যের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। (মিশকাত আবু দাউদ)

সচেতনতার সাথে জীবনকে গড়ে তুলুন। বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু থেকে দূরে থাকতে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন। সংক্রমিত রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করে চলাফেরা করুন। এতে করে আপনি সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

আমাদের সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে রোগ?

উত্তর: চোখ উঠা একটি স্পর্শকাতর রোগ।এটি এত বেশি ছোঁয়াচে যে পরিবারের একজনের হলে অন্যদেরও হবার সম্ভাবনা থাকে।

চোখ উঠলে কতদিন থাকে?

উত্তর: চোখ উঠলে সাধারণত তিন থেকে চার দিন থাকে। তবে অনেক সময় ৫ থেকে ৭ দিনও থাকতে পারে।

চোখ ওঠার ড্রপের নাম কি?

উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কোন ড্রপ ই চোখে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে দিনে তিন থেকে চারবার এক ফোটা করে চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ক্লোরামফেনিকল ব্যবহার করতে পারেন।

আমাদের শেষ কথা

আজকের আর্টিকেলে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলো তুলে ধরলাম।ইতোমধ্যে যারা আর্টিকেলটি পড়ে ফেলেছেন তারা জানতে পেরেছেন চোখ ওঠার লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার কি। এমন আরো নতুন নতুন কনটেন্ট পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকবেন। আমরা চেষ্টা করব সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদেরকে উপকৃত করার।

পোস্ট ট্যাগ-

চোখ ওঠার ড্রপ,চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবে না,চোখ ওঠার উপকারিতা,চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার,চোখ উঠার ঘরোয়া চিকিৎসা,চোখ ওঠা রোগের ঔষধ,বাচ্চাদের চোখ উঠার ড্রপ,চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে।

আপনার জন্য আরো 

আপনার জন্য-

অ্যাজমা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা 

থাইরয়েড রোগ থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকারী চিকিৎসা

যক্ষা বা টিবি রোগের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগের যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪৯২ other subscribers

SS It BARI JOB NEWS

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম