এলার্জির লক্ষণ ও প্রতিকার- এলার্জি রোগের কারণ (স্বাস্থ্য টিপস)

Rate this post

এলার্জির লক্ষণ – এলার্জি একটি অতি পরিচিত রোগ। বিভিন্ন কারণে একজন ব্যক্তির দেহে অ্যালার্জি সমস্যা হতে পারে। সব ধরনের এলার্জির ধরন এক নয়। ভিন্ন ভিন্ন কারণে ভিন্ন ভিন্ন অ্যালার্জির সমস্যা সৃষ্টি হয়। এলার্জির রোগে ভোগান্তি অনেক যার কারণে যথাসময়ে এলার্জির প্রতিরোধ করা জরুরী।

তাই আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব এলার্জির লক্ষণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে।আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং এই সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করতে পারবেন। এলার্জির লক্ষণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই সাথে থাকুন।

এলার্জি রোগ কি

অতি সংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি বলতে পরিবেশে অবস্থিত কতগুলো বস্তুর ফলে সৃষ্ট কতগুলি অবস্থাকে বোঝায় যা অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত কোন সমস্যা তৈরি করে না। এই অবস্থাগুলোকে একত্রে অতি সংবেদনশীলতা জনিত ব্যধি বা অ্যালার্জিজনিত ব্যাধি বলে।এলার্জির লক্ষণ

এগুলোর মধ্যেও হেই ফিভার খাদ্যে অতি সংবেদনশীলতা অতি সংবেদনশীল ত্বক প্রদাহ (এটপিক ডার্মাটাইটিস) অতি সংবেদনশীলতা জনিত হাঁপানি ও বিষম অতি সংবেদনশীলতা (এনাফাইলেক্সিস) উল্লেখযোগ্য।

এলার্জির বিভিন্ন লক্ষণ

সাধারণত সবার ক্ষেত্রে একই রকম এলার্জিজনিত রোগের লক্ষণ হয় না। তাই এককভাবে অ্যালার্জির লক্ষণ নির্দেশ করে বলা যাবে না। তবে সাধারণত এলার্জিজনিত রোগে যে সমস্ত লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হচ্ছে-

১) চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

২) চুলকানি যুক্ত ফুসকুড়ি।

৩) রাইনোরিয়া বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া।

৪) শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলে যাওয়া।

৫) খাবার সহ্য না হওয়া।

এলার্জি রোগের কারণ

এলার্জি রোগের বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে।অনেকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কারণে অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখে নিন এলার্জির কারণ গুলো কি কি-

হাঁপানির সঙ্গে এলার্জির গভীর সংযোগ

হাঁপানির সঙ্গে এলার্জি রয়েছে একটি গভীর সংযোগ। ফুলের পরাগ, দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রঙের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধুলো, পুরোনো ফাইল এর ধুলো দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া করে হাঁপানি রোগের সৃষ্টি করে। কাজেই যারা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদেরকে এগুলি পরিত্যাগক করে চলতে হবে।

ছত্রাক

ছত্রাক দেহে এলার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টি করে। ছত্রাক হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র সরল উদ্ভিদ। ছত্রাক ২০ ডিগ্রি সেঃ‌ গ্রেঃ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেঃ গ্রেঃ উত্তাপে জন্মে, ভেজা পদার্থের এই ছত্রাক জন্মতে দেখা যায়। আবার কোন কোন খাদ্য ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে। পনিরের ছত্রাক মিশিয়ে তৈরি করা হয় কোন কোন পাউরুটি এবং কেক তৈরি করতে ও ইএস্ট জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। এই ছত্রাক ও অ্যালার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

খাবারে এলার্জি

খাদ্যে প্রচুর এলার্জি সম্ভাবনা থাকে। যেমন দুধে এলার্জি বিশেষ করে শিশুদের থেকে গরুর দুধে খুবই বেশি অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। গরুর দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গায়ে চুলকানি, হাঁপানি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া গরম ডিম, মাছে এলার্জি হতে দেখা যায়। বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, তরমুজ, পেঁয়াজ, রসুন, চকলেট, এমনকি ঠান্ডা পানীয় কোন কোন ব্যক্তি ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করে।

কীট পতঙ্গের কামড়

পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি স্থানটি ফুলে যাওয়া এমনকি হাঁপানি পর্যন্ত হতে দেখা যায়। মশা বেলে মাছি মৌমাছি বোলতা ভিমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে দেহে এলার্জির সৃষ্টি হয়।

জীবজন্তুর কামড়

জীবজন্তুর কামড় যেমন বিড়াল কুকুর অর্শ প্রভৃতি গৃহপালিত পশু অনেক সময় এলার্জি সৃষ্টি জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এতে করে শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন আকারে লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে দেখা যায় এবং সেই সঙ্গে থাকে প্রচন্ড চুলকানি।

আর্টিকরিয়া চর্ম রোগ

একটি চর্মরোগ আছে যাকে বলা হয় আর্টি করিয়া বাংলায় কেউ কেউ আমরাও আমরাত বলে থাকি। এক্ষেত্রে ত্বকে চাকা চাকা হয় আর ফুলে উঠে চুলকাতে দেখা যায় এটিও এলার্জির অন্যতম একটি কারণ।

খাবার থেকে শিশুর এলার্জি

বিভিন্ন খাবারে থেকে শিশুদের এলার্জি হতে পারে। সব শিশুরাই যে এলার্জি হয় তা নয়। আবার আক্রান্তদের মতো ভিন্ন ভিন্ন শিশুর ভিন্ন ভিন্ন খাবার অ্যালার্জি হতে পারে। একটু সচেতন হলে সহজে এলার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

শিশুদের সবচেয়ে বেশি অ্যালার্জি হয় গরুর দুধে, ডিমের সাদা অংশ বাদামে বাদামে। প্রতি ২০০ জনে একজন শিশুর এলার্জি হয় তাই বাদাম যুক্ত কেক, পেস্ট্রি বিস্কুট নিরাপদ নয়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও পেস্তা বাদাম থেকেও এলার্জি হতে পারে। বাদাম লেগুন প্রজাতির শস্য। তবে লেগুন প্রজাতির অন্যান্য শস্য যেমন ডাল, সয়া, মটরশুটি খেলে অ্যালার্জি হয় না।

স্ট্রোকের লক্ষণ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

চিংড়ি, ইলিশ মাছ, বেগুন, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, ডিম এবং খাসির মাংস খেলে এলার্জি হতে পারে। শিশুদের খুব অল্প সংখ্যক শিশুর ক্ষেত্রে পুটি, বোয়াল ও শোল মাছ এবং কুমড়ার অ্যালার্জি হতে পারে। ফাস্টফুডো এলার্জির জন্য কমদায়ী নয়। ময়দা যাতে সব খাবারের গ্লু টিন নামে এক ধরনের প্রোটিন থাকে যা অ্যালার্জির কারণ। হোটেলে খাবারকে মুখরোচক করার জন্য যে সোডিয়াম গ্লুটা মিনিট মেশানো হয় তাতে শিশুদের এলার্জি হতে পারে। বিভিন্ন কৃত্রিম রং মসলা থেকেও এলার্জি হয়।

শিশুদের খাবারের চিপস চিপসের সাদ বজায় রাখার জন্য সালফেট মেশানো হয়। চিজ কেক পেস্ট্রি এগুলোতে মেশানো হয় টাইরামিন। এই সালফেট ও ট্রাইরামিন এলার্জির জন্য দায়ী। শিশুরা কোমল পানীয় ফলের রস খেতে ভালোবাসে। এসব পানীয় হতে থাকে সাইট্রিক এসিড এসিড হাইড্রোক্লোরাইড এসিড সোডিয়াম পটাশিয়াম ক্লোরাইড প্রভিতি উল্লেখিত উপাদানগুলো শিশুদের এলার্জির প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে।

এলার্জি রোগ নির্ণয়

শরীরে অনাক্রম্যতন্ত্রের একটি এন্টি বডি উপাদান ইমিউনো গ্লোবিউলিন ই এক্ষেত্রে (এলার্জি) মধ্যস্থ কারীর ভূমিকা পালন করে।এর এক অংশ অতি সংবেদনশীল কারক বস্তুর সাথে এবং অপর অংশ মাস্ট কোষ বা বেসোফিল এর রিসেক্টরের সাথে বন্ধন তৈরি করে। যার ফলে উক্ত কোষ সমূহ থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী কতগুলো রাসায়নিক পদার্থ বের হয় যেমন হিস্টামিন।

রোগ নির্ণয় মূলত রোগের ইতিহাসের উপর নির্ভরশীল। মাঝে মাঝে চর্ম ও রক্তের কিছু পরীক্ষাও করা হয়। কোন ব্যক্তির কোন নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি সংবেদনশীলতা টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলেও ওই ব্যক্তির চেয়ে উক্ত বস্তুর প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ অতি সংবেদনশীলতা রয়েছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না।

এলার্জি প্রতিরোধ চিকিৎসা

অল্প বয়স থেকে সম্ভাব্য অতি সংবেদনশালী কারকবস্তুর সংস্পর্শে থাকাকে উপকারী মনে করা হয় অতি সংবেদনশীলতার চিকিৎসার মূল দিক হল যে বস্তুটি অতি সংবিধানশীলতার জন্য দায়ী তা থেকে দূরে থাকা কার্টিকোষ্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধসমূহ এলার্জি থেকে আরোগ্য লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়।এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে এলার্জি চিকিৎসায় এলার্জেন ইমিউনো থেরাপি ব্যবহার করা হয়। খাদ্যে এলার্জির ক্ষেত্রে ইমিউনো থেরাপির কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

অনেক ব্যক্তি এলার্জি সমস্যায় ভুগে থাকেন। উন্নত বিশ্বে প্রায় ২০% ব্যক্তি অতি সংবেদনশীলতা জনিত রায়নায়টিস বা সর্দিতে ভুগেন। প্রায় ৬% ব্যক্তির অন্তত একটি খাদ্যে এলার্জি রয়েছে ২০ পার্সেন্ট ক্ষেত্রে অ্যাটপিক ডার্মাটাটিস হয়। দেশভেদে প্রায় ১ থেকে ১৮% ব্যক্তি অ্যাজমা হাপানিতে আক্রান্ত। ০.০৫ থেকে ২ পার্সেন্ট ক্ষেত্রে অ্যনাফাইলেক্সিস হয়। এলার্জি রোগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ১৯০৬ সালে এলার্জি শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন clemens von pirquet।

ল্যাবরেটরী পরীক্ষা

এলার্জি রোগের নির্ণয়ে যে সমস্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করানো হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে;

  1. Total count of esinphil count
  2. Serum ige.
  3. Skin prick test
  4. Sainus x-ray

এলার্জি রোগের ঔষধ

এলার্জি রোগের জন্য প্রধান ঔষধ আটাহিস্টামিন ও নেজাল স্ট্ররয়েড। এজাতীয় ওষুধ ব্যবহারের রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপসম্য হয়। এলার্জি রোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওষুধগুলো হচ্ছে;

Allergic condition

  1. Tablet alatrol 10mg or tablet deslor 5mg
  2. Dose adult- 1 tablet 5/10 mg per day, syrup 2 teaspoon once daily.

Nasal Congestion

  1. Nazolin (Oxymetazoline hydrochloride) nasal spray

Adult dose: 2-3 drops sprays in each nostril twice daily for 3-5 days.

Childless then 6 years safety and efficacy not established.

Child: more than 6 years in still 2-3 drops sprays in eatch nostril twist daily for 3-5 days.

শেষ কথা

সম্মানিত পাঠক পাঠিকা বন্ধুরা আমাদের আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এলার্জি রোগের লক্ষণ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে। আপনারা এতক্ষণ আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ে নিশ্চয়ই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আমাদের ওয়েবসাইটে আরও বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল পেতে অবশ্যই নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন।

কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আর অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন এবং আমাদের সাথে থাকবেন। আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

পোস্ট ট্যাগ-

এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয়,রক্তে এলার্জির লক্ষণ,স্কিন এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়,স্কিন এলার্জি ক্রিম নাম,কোল্ড এলার্জির লক্ষণ,রক্তে এলার্জির মাত্রা কত,এলার্জি টেস্ট।

আপনার জন্য আরো 

আপনার জন্য-

অ্যাজমা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা 

থাইরয়েড রোগ থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকারী চিকিৎসা

যক্ষা বা টিবি রোগের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগের যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 499 other subscribers

 

প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে :এখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।

SS IT BARI- টুইটার থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- লিংকদিন থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- টুম্বলার (Tumblr)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে :এখানে ক্লিক করুন।

SS IT BARI- পিন্টারেস্ট (Pinterest)থেকে আমাদের খবর সবার আগে পেতে : এখানে ক্লিক করুন।

Lakhi Hasan

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম