আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা – আব্দুর রহমান আল হাসান

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা – আবরী নববর্ষ শুরু হলো দিন কয়েক হলো। নতুন বছর আমাদের মাঝে আনন্দের হিল্লোল বয়ে দেয়। আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জোগায়। বেঁচে থাকার শক্তি দান করে।

এই নতুন বছর শুরু হলে আমাদের সামনে আরো একটি দিন আসে। তা হলো, আশুরা বা মহরমের দশ তারিখ।

আশুরার তাৎপর্য

আশুরা কি?

আশুরা মূলত একটি আরবী শব্দ। যার মূল উচ্চারণ হলো, আ’শারা। এই عَشَرَ  শব্দের অর্থ, দশ। অর্থাৎ এই দিনটি মহরম মাসের দশ তারিখে আসে বিধায় একে আশুরা বলা হয়।

আশুরা দিনের ইতিহাস

মহরম মাসের দশ তারিখে পৃথিবীতে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। পৃথিবীর শুরু থেকেই ক্যালেন্ডারের প্রচলন ছিল। সেই ক্যালেন্ডারে মাস এবং দিন ঠিক ছিল। শুধুমাত্র সন হিসেবে তা গণনা করা হতো না।

প্রাচীনকালে মানুষ কোনো বিখ্যাত ঘটনা বা কোনো বড় যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে তারিখ বলতো। যেমন, হস্তি ঘটনার প্রথম রবিউল আউয়াল মাসের ৮ বা ৯ তারিখে নবীজি সা. জন্মগ্রহণ করেন।

নবীজির যামানায় মক্কী ক্যালেন্ডার এবং মাদানী ক্যালেন্ডার নামে দুইটি পঞ্জিকা প্রচলন ছিল তৎকালীন আরবে। সেদিকে আমরা যাচ্ছি না।

এই মহরমের দশ তারিখে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ঘটনাটি হলো, ফেরআউনের কবল থেকে নবী মুসা আ. এর পরিত্রান লাভ।

আল্লাহ তা’আলা মহরমের দশ তারিখে মুসা আ. এবং তার সঙ্গী সাথিদের লোহিত সাগর অলৌকিকভাবে পার করে ফেরআউনের দলবলসহ ডুবিয়ে দেন।

কুরআনুল কারীমে এই ঘটনা বিস্তারিত উল্লেখ আছে। আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

পড়ুন: আশুরার রোজার নিয়্যত ও আশুরার রোজা

ফেরআউন কিভাবে ডুবে গেল?

হযরত মুসা আ. কে আল্লাহ তা’আলা আদেশ করলেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়কে নিয়ে রাতের আধারে শহর থেকে বের হয়ে পড়ো।

তখন মুসা আ. তার দল নিয়ে রাতের আধারে লোহিত সাগরের নিকটে চলে আসলেন। যখন ফেরআউন এই খবর জানতে পারলো, তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে দলবল নিয়ে বের হলো।

মুসা আ. এর সঙ্গীরা যখন দেখলো, এই ফেরআউন চলে আসছে। তখন তারা বলতে লাগলো, হে মুসা! আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম।

মুসা আ. বললেন, কখনো নয়। আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক। তিনি আমাকে উত্তম পথ প্রদর্শন করবেন।

সেই সময় আল্লাহ তা’আলা মুসা আ. এর নিকট ওহী প্রেরণ করে বললেন, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো। ফলে সমুদ্র বিভক্ত হয়ে পর্বতের ন্যায় হয়ে গেল।

তখন মুসা আ. আর দলবল লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে অপর পাড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ তা’আলা এই ঘটনা সূরা শুআরার ৫২ থেকে ৮০ নং আয়াত পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।

পড়ুন: শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঘটনা

মুসা আ. এর পেছনে পেছনে ফেরআউনও সাগর পাড়ে চলে আসলো। সে দেখতে পেল, সাগর ভাগ হয়ে মুসার বাহিনী চলে যাচ্ছে। সেও তখন ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে তার বাহনী নিয়ে সমুদ্রে নেমে পড়লো।

আল্লাহ তখন পানিকে আগের মতো হয়ে যেতে নির্দেশ করলেন। সাথে সাথে তাদেরকে আল্লাহ ডুবিয়ে দিলেন। তখন তারা ডুবে যেতে যেতে বললো,

আমরা ঈমান আনলাম ওই রবের প্রতি, যার প্রতি ঈমান এনেছে বনী ইসরাইল এবং মুসা।

আল্লাহ তা’আলা তখন বললেন, এখন তোমরা ঈমান আনতে চাচ্ছ, অথচ ইতিপূর্বে তোমরা এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তোমরা করো নি।

এই ঘটনা বর্ণিত রয়েছে সূরা ইউনুসের ৯০-৯২ আয়াতে। আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

মদীনায় ইহুদীদের রোজা

রাসূল সা. মদীনায় আসার পর দেখলেন ইহুদীরা মহরমের দশ তারিখে রোজা রাখছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা কররেন, এটা কোন দিন যেদিন তোমরা রোজা রাখছো?

তারা তখন বললো, এই ফেরআউনের কবল থেকে নবী মুসা আ. পরিত্রান লাভ করেছেন।

তখন নবীজি বললেন, তাহলে তো তোমাদের থেকে আমি বেশি এই দিনটির হকদার। মুসা আমার ভাই। তোমরা তো তার কথা অর্ধেক মান্য করো আর অর্ধেক মান্য করো না।

তারা বললো,  আমরা কি মান্য করি না? নবীজি বললেন, নবী মুসা আ. যে বলেছিলেন শেষ নবী আসার পর তার উপর ঈমান আনা ফরজ। আগের সব ধর্ম তখন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এরপর থেকে নবীজি মহরম মাসের দশ তারিখে রোজা রাখা শুরু করলেন।

এই দুইটা রোজা কেন রাখবো

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো, আমরা মহরমের দশ তারিখের আগে পরে মিলিয়ে দুইটা রোজা কেন রাখি?

নবীজি মহরমের রোজা রাখা শুরু করার পর একবার সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো ইহুদী-খৃষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করি না।

তাই তারাও তো মহরমের দশ তারিখে রোজা রাখে, আমরাও রাখি। এটা কি কেমন যেন একই হয়ে গেল না?

নবীজি তখন বললেন, তাহলে সামনের বছর থেকে আমি নয় তারিখেও রোজা রাখবো।

এ জন্য এই দিনের আগে পরে মিলিয়ে দুইটা রোজা রাখতে হয়। তবে এই দুইটি রোজা রাখা ফরজ নয়। সুন্নাত আমল এটি।

আপনার যদি অসুবিধা হয়, তাহলে না রাখতে পারেন।

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪২৮ other subscribers

এছাড়াও আমাদের প্রতিদিন আপডেট পেতে আমাদের নিচের দেয়া এই লিংক এ যুক্ত থাকুন।

SS IT BARI- ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন করুনঃএখানে ক্লিক করুন

SS IT BARI- ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃএই পেজ ভিজিট করুন
SS IT BARI- ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এএখানে ক্লিক করুনএবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতেএখানে ক্লিক করুনতারপর ফলো করুন।
SS IT BARI-সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনএই লিংকে

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কিত ইংলিশে সকল সঠিক তথ্য জানতে আমাদের SS IT BARI- ভালোবাসার টেক ব্লকের আরেকটি সংস্করণ, US IT BARI- All About Healthy Foods ওয়েব সাইট টি ভিজিট করতে পারেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন –www.usitbari.com

 

আব্দুর রহমান আল হাসান

আমি কওমী মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছি। এখন মেশকাত জামাতে অধ্যয়নরত আমি। লেখালেখিতে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। প্রায় সময়ই গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি করি। লেখালেখির প্রাথমিক হাতেখড়ি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কামরুল হাসান নকীব সাহেবের হাত ধরে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাই নি। অনলাইন ফ্লাটফর্মে লেখালেখি আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু করি। এর মধ্যে দু’একটা সুনামধন্য পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই। বর্তমানে এসএস আইটি বারী ডট কমে ইসলামিক বিষয়ক লেখালেখিতে কর্মরত।

অবসরে তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, মুৃসলিম ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই পড়তে পছন্দ করি। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেপলপমেন্ট, এসইও, প্রোগ্রামিং ও মার্কেটিং শেখার চেষ্টা করি।