অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি?

বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ।এই গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ গুলো দেখা দেয় বুক ব্যথা, বুক জ্বালা পোড়া ,গলা জ্বালা পোড়া, পেটে ব্যথা পেট ফাঁপা ইত্যাদির মাধ্যমে।আর এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়া মাত্রই আমরা যে ভুলটি করি সেটি হল গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে ফেলি। কোন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়া শরীরের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির কারণ।

আমরা অনেকেই জানিনা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অতিমাত্রায় সেবনের ফলে শরীরের জন্য তা খারাপ প্রভাব বয়ে আনে। আমাদের কখনোই উচিত নয় কোনরকম ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত যখন তখন গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সেবন করা। মন চাইলেই গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে ফেললাম এই অভ্যাসটি বর্জন করতে হবে নতুবা বড় রকমের দুর্ঘটনার শিকার হতে হবে।

আজকে আর্জিকেলেআলোচনা করব গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ অতিরিক্ত খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি হবে।গ্যাস্ট্রিকের যারা নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খান তাদের জন্য এই জিনিসটি জানা খুবই জরুরী। আজকের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ে আমাদের সাথে থাকবেন এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি

গ্যাস্ট্রিক কেন হয়?

গ্যাস্ট্রিক হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। শুরুতে গ্যাস্ট্রিক কখনোই বড় ধরনের কোন লক্ষণ নিয়ে আসে না। তবে ধীরে ধীরে গ্যাস্ট্রিক শরীরে বড় রকমের রোগের সৃষ্টি করে। গ্যাস্টিক কেন হয় সেই সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। গ্যাস্ট্রিক হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো-

১) অতিরিক্ত তেল মশলাদার খাবার খাওয়া।

২) প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া।

৩) ঘুম কম আসা।

৪) ধূমপান মদ্যপান।

৫) অতিরিক্ত চিনি বা লবণ খাওয়া।

৬) শুকনো মরিচের ঝাল বেশি খাওয়া।

এইসব কারণগুলো হলো গ্যাস্ট্রিকের জন্য প্রধান দায়ী। যেকোনো রোগ দেহের ভেতরে প্রবেশ করে মূলত খাদ্যের থেকে। আর তাই গ্যাস্ট্রিক‌ও এই খাবার গুলোর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।

অতিমাত্রায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

গ্যাস্ট্রিকের রোগী বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ তৈরি ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এইসব রোগীরা না জেনে না বুঝে ফার্মেসি থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য ওষুধ কিনে খাচ্ছে।তারা নিজেও জানেনা এইসব ঔষধ না জেনে না বুঝে নিয়মিত সেবনের মাধ্যমে তাদের শরীরে কি ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

যারা প্রয়োজন ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মন চাইলেই খেয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন তাদের ভবিষ্যতে আইরন ভিটামিন ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা দিবে এমনকি হাড় ক্ষয় অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতার সাথে সাথে শরীরে বিভিন্ন রোগ জীবাণু প্রবেশের সক্ষমতা বেড়ে যাবে।

কিডনি পরিষ্কার রাখবে এই ৯ খাবার (সুস্বাস্থ্য টিপস)

আর সবচেয়ে বেশি ভয় হল অতিমাত্রায় গ্যাসটিকের ওষুধ সেবনের ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিও খারাপ হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় ও দেখা গেছে অতিমাত্রায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের ফলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিনারে চিকিৎসকরা এ কথা জানান যে দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে হতে পারে ভয়াবহ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের ফলে টাইফয়েডের মত কিছু সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। এছাড়াও রক্তশূন্যতা দেখা দিবে।দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেলে পাকস্থলীর পিএইচ পরিবর্তন হয়ে যায়। এমনকি পাকস্থলীর ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তির জন্য করণীয়

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন অতিমাত্রায় তার সেবনের ফলে শরীরের কোন ক্ষতি না হয়। কাজেই রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করতে হবে।চিকিৎসক যদি বলেন এক মাস বা দুই মাসের জন্য আপনাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে হবে তাহলে তা সারা বছর না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুই মাস কিংবা এক মাসের জন্যই খেতে হবে।

তবে যদি পেটের দীর্ঘ সমস্যা হয় তাহলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে এবং জানতে হবে কিভাবে আপনি খাবার এবং জীবন যাপনের নিয়ম মেনে চলবেন।চিকিৎসক যেমনটা বলবে ঠিক তেমন করি আপনাকে খাদ্য খেতে হবে বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়ম মেনে ঔষধ সেবন করতে হবে।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কেন খেতে হয়

মূলত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধানের জন্যই খেতে হয়। কিন্তু এমন অনেকের আছেন যারা অম্বল বা গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন তারা অধিকাংশই ভাবেন তাদের মধ্যে এই সমস্যা রয়েছে আসলে বাস্তবে তার নাও থাকতে পারে।সামান্য কিছু লক্ষণ দেখা দিলেই যে তার গ্যাস বা অম্বল রয়েছে সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায় না। কিন্তু তারা না জেনে না বুঝেই অহেতুক গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে বসেন। তারা মনে করেন এটি গ্যাস্ট্রিক নিরাময় করবে।

এতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু বিষয়টি তার ভাবনার একেবারেই বিপরীত।আপনি জেনে অবাক হবেন যে অতিরিক্ত পরিমাণে এন্টাসিড আপনার আয়ুকে কমিয়ে দিবে এবং বাড়িয়ে দিবে হৃদরোগের আশঙ্কা।

গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুলের মেডিসিন বিভাগের এক গবেষণা পত্রে দেখা গেছে অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড হারভঙ্গুর করে দেয়, কিডনির অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ করতে থাকে।এছাড়াও সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে রিট যন্ত্রের অবস্থা এতটাই খারাপ করে দেয় যে হৃদরোগের আশঙ্কা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। ওয়াশিংটন  ইউনিভার্সিটির স্কুলের মেডিসিন বিভাগের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে বিপুল পরিমাণে এন্টাসিড খাওয়ার প্রবণতা পঁচিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে মৃত্যুর হার।

পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড থাকলে তা এই ওষুধগুলি কমিয়ে দিতে পারে কিন্তু যদি অতিরিক্ত এসিড না থাকে তাহলে এন্টাসিটে থাকা ক্ষার এবং h2 ব্লকারের মতো ওষুধ অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। ওষুধের উপাদান গুলি কিডনিতে গিয়ে জমা হয় এবং কিডনির ক্ষতি হয়। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কমে যায়। তাতে বারে রক্তচাপ।

নিষিদ্ধ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কোনটি

বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিক বলে প্রচলিত রূপটির জন্য যে ওষুধটি প্রতিনিয়ত রোগীরা খেয়ে থাকেন সেটি হচ্ছে রেনিটিডিন।রেনিটিডিনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে এমন আশঙ্কায় বিশ্বের অনেক দেশে এই ওষুধটি বাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ও। সম্প্রতি বাংলাদেশের রেনিটিডিন নামক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধটির উপর ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

এরি সাথে ওষুধটির মধ্যেও সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা এবং এসব বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ বলছেন ওই ওষুধটি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন ঝুঁকি না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রেনিটিডিনের বিকল্প হিসেবে অন্য কোন ওষুধ গ্রহণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

অনেকেই জেনে বুঝে এবং অনেকেই না জেনে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সেবন করেন।তবে না জেনে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করা কখনোই উচিত কাজ নয়। অবশ্যই আপনি আপনার নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর অথবা আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সেবন করবেন। গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সাধারণত খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খেতে হয়।

আপনি খাবার খাওয়ার আধাঘন্টা আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাবেন তারপর আধা ঘন্টা পার হলে আপনি আপনার খাবার খাবেন। তবে যদি কোন কারণে আপনি খাবার আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে ভুলে যান তাহলে খাওয়ার ৩০ মিনিট পরেও খেতে পারেন।

গ্যাসের ওষুধ সাধারণত প্রতিদিন একটার বেশি খাওয়া উচিত নয়।তবে যদি আপনি আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খান এবং তিনি যদি আপনাকে বলেন তিন বেলা গ্যাসের ওষুধ খেতে তাহলে আপনি তিন বেলায় গ্যাসের ঔষধ সেবন করবেন।আর তা না হলে যদি আপনি নিজে নিজেই গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে কোন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান তাহলে প্রতিদিন একটি করে ওষুধের বেশি খাবেন না।

সচারচর জিজ্ঞাসা

গ্যাস্ট্রিক থেকে ক্যান্সার হতে পারে কি?

গ্যাস্ট্রিক যদি অতিমাত্রায় বেড়ে যায় এবং যথাযথ চিকিৎসা সঠিক সময়ে নেওয়া না হয় তাহলে গ্যাস্ট্রিক থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কি কি ওষুধ খাওয়া যাবে?

রেনিটিডিন, প্যান্টোনিক্স সেকলো, সার্জেল, এন্টাসিড, এক্সিয়াম, ম্যাক্সপ্রো ইত্যাদি ওষুধ ছাড়াও গ্যাস্ট্রিকের অনেক ধরনের ওষুধ রয়েছে।

গ্যাস্ট্রিকের জটিল রোগ সৃষ্টিকারী রোগ?

হ্যাঁ অবশ্যই গ্যাস্ট্রিক একটি জটিল রোগ। এবং এটি একাধিক জটিল রোগের সৃষ্টিকারী।

আমাদের শেষ কথা

আমাদের আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি। ইতোমধ্যেই আপনারা আজকের আর্টিকেলটি পড়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে কারো কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

আপনাদের যদি আমাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন আমাদের ওয়েবসাইটের কথা।  আরো নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন। আজকের মতো এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

পোস্ট ট্যাগ-

গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট কোনটা ভালো,নিষিদ্ধ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ,গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম,গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ কোনটা ভালো,গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ খাওয়ার নিয়ম,গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নাম বাংলাদেশ,গ্যাসের ঔষধ বেশি খেলে কি হয়,গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকা,

আপনার জন্য আরো 

আপনার জন্য-

গ্যাস্ট্রিক দূর করতে মেথি খাওয়ার নিয়ম

অ্যাজমা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা 

থাইরয়েড রোগ থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকারী চিকিৎসা

যক্ষা বা টিবি রোগের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগের যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন

SS IT BARI– ভালোবাসার টেক ব্লগের যেকোন ধরনের তথ্য সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের মেইল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join ৪৯২ other subscribers

SS It BARI JOB NEWS

SS IT BARI-ভালোবাসার টেক ব্লগ টিম